জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের শ্রেণি কার্যক্রম অনলাইনে শুরুর সিদ্ধান্তে নিন্দা ও ক্ষোভ জানিয়েছে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন জাবি সংসদ। বুধবার (২২ নভেম্বর) সংগঠনটি থেকে পাঠোনো এক বিবৃতিতে এ ক্ষোভ জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘ভর্তি পরীক্ষা শেষ হওয়ার পাঁচ মাস পর বিশ্ববিদ্যালয়ের এমন সিদ্ধান্ত খুবই ন্যক্কারজনক। দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অনেক আগেই ক্লাস শুরু করতে পেরেছেন। নবীন শিক্ষার্থীদের অ্যাকাডেমিক জীবন নিয়ে প্রশাসনের এই ছেলেখেলা সবাইকে ভীষণ হতবাক করেছে। করোনাকালীন মহামারি পরিস্থিতি উতরে এসে কেবল প্রশাসনের অব্যবস্থাপনার জন্য নবীন শিক্ষার্থীদের অনলাইনে ক্লাস নেওয়াটা প্রশাসনের চূড়ান্ত অক্ষমতাকেই স্পষ্ট করেছে।
ছাত্র ইউনিয়ন জাবি সংসদের আহ্বায়ক আলিফ মাহমুদ ও যুগ্ম আহ্বায়ক হাসিব জামানের উদ্ধৃতি দিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, এই প্রশাসনের গণরুম বিলুপ্তির মতো রূপকথা আর কেউ বিশ্বাস করে না। নবীন শিক্ষার্থীদের নিয়েও নোংরা রাজনীতি করে এই প্রশাসন নির্লজ্জতা দেখিয়েছে। তারা ক্যাম্পাসে আসার আগেই একটি ব্যাচকে অর্ধেক বছর পিছিয়ে দিয়েছে। তাদের মুখে যখন সেশন জট নিরসনের কথা ওঠে, সিট সংকটের আলাপ ওঠে, তখন তা কৌতুকাভিনয় ছাড়া কিছুই নয়। এই প্রশাসন তার মর্যাদার ধ্বংসাবশেষও রাখেনি।’
প্রশাসনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বিবৃতিতে বলা হয়, যেমন খুশি তেমন চলো নীতিতে এই প্রশাসন যেভাবে চলছে, সেটা অচিরেই বিশ্ববিদ্যালয়ের চূড়ান্ত সর্বনাশ ঘটাবে। নিয়োগ-বাণিজ্যের লালসায় তারা সব নীতি-নৈতিকতা বিসর্জন দিয়েছে। বারবার প্রশাসনকে বলার পরেও প্রশাসন হল খোলার নামে টালবাহানা করেছে। হলগুলো উদ্বোধনের পরও এই ধরনের হঠকারী সিদ্ধান্ত কোনোভাবেই শিক্ষার্থীবান্ধব নয়। হলের নিয়োগ বাণিজ্যের রমরমা ব্যবসাকে প্রাধান্য দিতে গিয়ে নবীন শিক্ষার্থীদের আজ এই দুর্দশা। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষার্থীদের জিম্মি করে তাদের স্বার্থ হাসিলে ব্যস্ত। ফলশ্রুতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সেশন জট প্রতি বছর বেড়েই চলছে।
বিবৃতিতে শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয়তাকে প্রাধান্য দিতে প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করেন ছাত্র ইউনিয়নের নেতারা। না হলে তারা তীব্র আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন।









