ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) কার্যনির্বাহী সদস্য সর্বমিত্র চাকমার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনার লক্ষ্যে জনসমর্থন ও সই সংগ্রহের ঘোষণা দিয়েছেন জগন্নাথ হল সংসদের সাহিত্য সম্পাদক কথক বিশ্বাস জয়।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) ডাকসু গঠনতন্ত্র–২০২৫-এর ১৪ নম্বর ধারা অনুযায়ী কথক বিশ্বাস জয় সই সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু করছেন বলে জানিয়েছেন। প্রয়োজনীয় ১ হাজার সই সংগ্রহ করা গেলে ডাকসু সংবিধানের ১৫ ধারার আলোকে সাধারণ সম্পাদক সভা আহ্বান করে তার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব উত্থাপন করবেন এবং প্রস্তাব গৃহীত হলে সংসদ থেকে তাকে অভিশংসনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে, এমন প্রত্যাশা করেন তিনি।
কথক বিশ্বাস জয় অভিযোগ করেন, সর্বমিত্র চাকমার সাম্প্রতিক আচরণ ডাকসু গঠনতন্ত্রের ২ নম্বর ধারার ‘ঙ’ উপধারায় বর্ণিত ডাকসুর লক্ষ্য ও উদ্দেশের সম্পূর্ণ পরিপন্থি। একই সঙ্গে এ আচরণ বাংলাদেশের সংবিধানের ৩৫(৫) ধারা, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা (Writ Petition No. 5684 of 2010) এবং জাতিসংঘের শিশু অধিকার সনদ (ইউএনসিআরসি, ১৯৯০) লঙ্ঘন করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, শিশু নির্যাতন, প্রকাশ্য অপমান ও ক্ষমতার নগ্ন প্রদর্শন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আশা করি ডাকসুর দায়িত্বশীল সদস্যরা এসব মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়ে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করবেন।
কথক বলেন, আমি একজন হিউম্যান চাইল্ড রাইটস অ্যাক্টিভিস্ট হিসেবে দীর্ঘ সময় কাজ করেছি এবং আমি সরাসরি জাতিসংঘ শিশু অধিকার সনদ (ইউএনসিআরসি) কমিটির সঙ্গে অ্যাডভাইজার হিসেবেও কাজ করেছি। জাতিসংঘ শিশু অধিকার সনদের ৪ মূলনীতি— বৈষম্যহীনতা; শিশুর সর্বোত্তম স্বার্থরক্ষা; জীবন, বেঁচে থাকা ও বিকাশের অধিকার; মত প্রকাশ ও অংশগ্রহণের অধিকার; বাস্তবায়নে আমি দীর্ঘ দিন কাজ করেছি এবং এটি নিশ্চিতে আমি বদ্ধপরিকর।
কথক আরও বলেন, আমার বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে কোনও ধরনের শিশু অধিকার লঙ্ঘন আমি মেনে নিতে পারি না। এই ঘটনার প্রতিবাদ জানানো আমার নৈতিক দায়িত্ব। বাকিটা ডাকসু ও বিশ্ববিদ্যালয় সমাজের বিবেকের ওপর নির্ভর করছে।









