প্রাকৃতিক দুর্যোগ, টানা বৃষ্টি ও রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার মধ্যে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ক্লাস-পরীক্ষা স্থগিত হবে কিনা, সে বিষয়ে উপাচার্যের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে ফোন-বার্তার স্ক্রিনশট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের পর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (জকসু) কার্যনির্বাহী সদস্য মো. জাহিদ হাসানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
প্রক্টর অফিস সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (১৩ জুলাই) ইংরেজি বিভাগের চেয়ারম্যানের মাধ্যমে জারি করা নোটিশে জাহিদ হাসানকে মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকাল ১০টায় প্রক্টর অফিসে উপস্থিত হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। নোটিশে তার ফেসবুক পোস্টকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও উপাচার্যের বিরুদ্ধে ‘মানহানিকর’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
জাহিদ হাসান ফেসবুক পোস্টে দাবি করেন, দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি বিবেচনায় নিয়ে জকসুর পক্ষ থেকে ক্লাস-পরীক্ষা অনলাইনে নেওয়া বা সাময়িক স্থগিতের বিষয়ে প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। সিদ্ধান্ত জানতে উপাচার্যকে একাধিকবার ফোন ও বার্তা পাঠানো হলেও কোনও সাড়া পাওয়া যায়নি বলে তিনি দাবি করেন। পরে তিনি একাধিক কল ও বার্তার স্ক্রিনশট পোস্টে সংযুক্ত করেন।
পোস্টে তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের দাবি প্রশাসনের কাছে তুলে ধরাই জকসুর দায়িত্ব। তবে ক্লাস-পরীক্ষা স্থগিত বা চালু রাখার সিদ্ধান্ত প্রশাসনের হওয়ায় এ বিষয়ে জকসুকে দায়ী করা সমীচীন নয়।
শোকজের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে জাহিদ হাসান বলেন, “দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় শিক্ষার্থীদের ভোগান্তির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আমরা বারবার প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করলেও কোনও কার্যকর সাড়া পাইনি। শিক্ষার্থীদের কাছে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে তথ্য-প্রমাণসহ বিষয়টি তুলে ধরার কারণেই আমাকে শোকজ করা হয়েছে বলে মনে করি। এর আগেও টিএসসি সংস্কার, ক্যাফেটেরিয়াসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রশাসনের ধীরগতি ও দায়িত্বহীনতা দেখা গেছে। শিক্ষার্থীদের স্বার্থে কথা বলাকে শাস্তিযোগ্য বিষয় হিসেবে দেখাটা দুঃখজনক।”









