যেখানে সেখানে কারখানা তৈরি করবেন না: প্রধানমন্ত্রী

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
০১ মে ২০১৬, ১৯:২৩আপডেট : ০১ মে ২০১৬, ২৩:১৯


প্রধানমন্ত্রী যেখানে সেখানে জমি কিনে শিল্প কলকারখানা নির্মাণ না করতে বিনিয়োগকারীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, যেখানে সেখানে শিল্প-কলকারখানা নির্মাণ করে কৃষিজমি নষ্ট করবেন না। আমরা সারাদেশে ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলছি। সেখানে শিল্প কারখানা স্থাপন করুন। গ্যাস, বিদ্যুৎ পানিসহ যা যা লাগে সেগুলো দেওয়া হবে। রবিবার বিকেলে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত শ্রমিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা এ সব কথা বলেন।
মে দিবস উপলক্ষে শ্রম মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এই সমাবেশের আয়োজন করে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের এ দেশটা ছোট একটা ভূখণ্ড নিয়ে গঠিত। ছোট্ট দেশে অনেক মানুষ, তাদের সবার মুখে আমাদের অন্ন তুলে দিতে হবে। এ জন্য কৃষি জমির প্রয়োজন। তাই যেখানে সেখানে শিল্প কারখানা করবেন না। জমির ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। এ কারণে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে শিল্প কারখানা করুন।

মালিক শ্রমিকদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, উৎপাদন বাড়াতে হবে। মালিক-শ্রমিক সম্পর্ক উন্নত করতে হবে। লাভ বেশি মালিকেরা পাবেন, তবে শ্রমিকদের জীবনমানের যেন উন্নতি হয় সেদিকেও মালিকদের লক্ষ রাখতে হবে। শ্রমিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, কারখানা যেন ভালোভাবে চলে, সে জন্য শ্রমিকদের ভূমিকা রাখতে হবে। কেননা এটা তাদের রুটি-রুজির ব্যাপার।  সবাইকে কাজ করতে হবে। কেননা বিশ্বে মাথা উঁচু করে বাঁচতে চাইলে কারও কাছে হাত পাতা যাবে না।

প্রধানমন্ত্রী এ সময়ে শ্রমিক বিশেষ করে নারী শ্রমিকদের জন্য উন্নত কর্মপরিবেশ ও থাকার ভালো ব্যবস্থা করতে মালিকদের প্রতি আহ্বান জানান। শ্রমিকদের জন্য উন্নত প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা শ্রমিকদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছি। তারা বর্তমান তথ্য-প্রযুক্তির যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে তাদের দক্ষ করে তুলছি।

আরও পড়তে পারেন: মে দিবসেও ছুটি নেই শরীফাদের

শ্রমিকদের দাবি দাওয়া সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীর বলেন, আমরা ব্যবসা-বাণিজ্য করতে আসিনি। আমরা কল্যাণ করতে এসেছি। শ্রমিক কৃষক এ দেশের মানুষ। তাদের কল্যাণের জন্য আমার রাজনীতি। আমার কাছে দাবি-দাওয়া করার প্রয়োজন নেই। নিজেই জানি কার কী সমস্যা। আর সেই সমস্যাগুলো চিহ্নিত করেই কিন্তু আমরা পদক্ষেপ নেই।

এ সময়ে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তৈরি পোশাক শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৯৬ সালে প্রথমবার ক্ষমতায় আসার পর আমরা গার্মেন্টস শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধি করি। তখন আমরা ৮০০ টাকা থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকা করেছিলাম। পরবর্তী সময়ে ২০১০ সালে এসে আমরা তিন হাজার টাকা ন্যূনতম বেতন নির্ধারণ করে দেই। ২০১৩ সালে সেটা বাড়িয়ে করি পাঁচ হাজার ৩০০ টাকা। আমি নিজে মালিকপক্ষের সঙ্গে দর কষাকষি করে এটা করেছি। আমি ছিলাম বারগেইনিং এজেন্ট। মালিকপক্ষকে আমরা এই মজুরিতে রাজি করিয়েছিলাম। আর এ জন্য মালিকপক্ষকে বিশেষ কিছু সুবিধাও দিতে হয়েছিল।

 /ইএইচএস/এমএন এইচ/

সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম