১৯৭১ সালে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সঙ্গে নিয়মিত ওঠাবসা ছিলো বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক মন্ত্রী ওসমান ফারুকের। ব্রিগেডিয়ার সদউল্লাহর সঙ্গে তার সখ্যও ছিল। তবে এখনই তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেনি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা।
সংস্থার সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান খান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজনের বিষয়ে যুদ্ধাপরাধের প্রাথমিক তদন্ত করতে গিয়ে ওসমান ফারুকের এসব তথ্য পাওয়া গেছে। তবে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু হয়নি। তিনি এও বলেন, তার বিরুদ্ধে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক অভিযোগ নেই। আগামীতে কিছু পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সূত্র জানায়, ওসমান ফারুক একাত্তর সালে ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের এগ্রিকালচার ইকোনমি বিভাগের রিডার ছিলেন। তার বেশকিছু সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। এখন পর্যন্ত এ মামলায় ১১ জনের তালিকা তৈরি হয়েছে। যাদের অধিকাংশই সে সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক বা কর্মকর্তা ছিলেন।
কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাকালীন উপাচার্য ওসমান গণির ছেলে ওসমান ফারুক ২০০১-২০০৬ মেয়াদে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের শিক্ষামন্ত্রী ছিলেন।
ওসমান ফারুকের বিরুদ্ধে কী ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেছে প্রশ্নে আব্দুল হান্নান খান বলেন, গতবছর অক্টোবরে ময়মনসিংহ-৭ আসনে জাতীয় পার্টির সাংসদ এম এ হান্নানকে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে গ্রেফতারের সময় ময়মনসিংহ বিশ্ববিদ্যালয়ে পাকিস্তানি বাহিনীর ‘টর্চার সেলের’ কথা সামনে আসে। সে বিষয়ে আরেকটু তদন্ত করতে গিয়ে আমরা জানতে পেরেছি, ওসমান ফারুক তাদের সবার সঙ্গে এবং পাকিস্তান সেনাদের সঙ্গে সম্পর্ক রেখে চলতেন।
উল্লেখ্য, ময়মনসিংহের শহীদ মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রহমানের স্ত্রী রহিমা খাতুন ময়মনসিংহের আদালত এমপি হান্নানের বিরুদ্ধে মামলা করলে তার এজাহার থেকে মূল বিষয়টি বেরিয়ে আসে। সেই এজাহারে বলা হয়, ১৯৭১ সালের ৯ অক্টোবর আব্দুর রহমানকে ধরে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সেনা ক্যাম্পে নেওয়া হয় এবং সেখানে নির্যাতন চালানোর পর তাকে গুলি করে হত্যা করেন হান্নান ও তার সহযোগীরা।
এর আগে বিএনপির মন্ত্রী আব্দুল আলীম ও সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছিল। এরমধ্যে অপরাধ প্রমাণিত হলেও বয়স বিবেচনায় তাকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেন ট্রাইব্যুনাল। দণ্ড ভোগের মধ্যেই ২০১৪ সালের আগস্টে হাসপাতালের প্রিজন সেলে তার মৃত্যু হয়। আর গতবছর ২২ নভেম্বর বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।
আরও পড়ুন: সহসাই রোহিঙ্গাদের ফেরত নিচ্ছে না মিয়ানমার
/ইউআই/এজে/








