সংসদ সদস্যদের বেতন-ভাতা দ্বিগুণ করে জাতীয় সংসদে বিল পাস হয়েছে। এতে এমপিদের বর্তমান বেতন ২৭ হাজার ৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫৫ হাজার টাকা করা হয়েছে। বেতনের পাশাপাশি অন্যান্য ভাতাও বাড়ানো হয়েছে।
আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বৃহস্পতিবার সংসদে মেম্বারস অব পার্লামেন্ট (রেমুনারেশন অ্যান্ড অ্যালাউন্সেস) (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল-২০১৬ পাসের প্রস্তাব করেন। পরে সেটি কণ্ঠভোটে পাস হয়।
বিলে সংসদ সদস্যদের ব্যয় নিয়ামক ভাতা তিন হাজার থেকে বাড়িয়ে পাঁচ হাজার টাকা, দৈনিক ভাতা ৩০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭৫০ টাকা, স্বেচ্ছাধীন তহবিল তিন লাখ থেকে বাড়িয়ে পাঁচ লাখ টাকা, নির্বাচনী এলাকার মাসিক খরচ সাড়ে সাত হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১২ হাজার ৫০০ টাকা, পরিবহন খরচের মাসিক ভাতা ৪০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭০ হাজার টাকা, বার্ষিক ভ্রমণ খরচ ৭৫ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা, মাসিক লন্ড্রি ভাতা ১ হাজার থেকে বাড়িয়ে দেড় হাজার টাকা এবং মাসিক ক্রোকারিজ ভাতা ৪ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৬ হাজার টাকা করা হয়েছে।
বিলের বিধান মতে, বেতন ১ জুলাই ২০১৫ এবং অন্যান্য ভাতা ১ জুলাই ২০১৬ থেকে কার্যকর হবে।
অারও পড়তে পারেন: ফের পেছালো কিবরিয়া হত্যা মামলার সাক্ষ্য
সংসদ সদস্যদের বেতন-ভাতা বাড়ানোর বিলটি গত ২৪ জানুয়ারি সংসদ অধিবেশনে উত্থাপন করেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। পরে তা পরীক্ষা করে সংসদে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়। ২৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত কমিটির বৈঠকে বিলের বিষয়ে আপত্তি জানান কমিটির সদস্যরা। তারা বলেন, সচিবরা ৮২ হাজার টাকা বেতন পেলেও সংশোধিত আইনে সংসদ সদস্যদের জন্য ৫৫ হাজার টাকা ‘সম্মানি ভাতা’ রাখা হয়েছে।’
গত ১৮ এপ্রিল অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ও ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়াকে নিয়ে বৈঠক করে সংসদীয় কমিটি। ওই বৈঠকে প্রস্তাবিত সকল ভাতা ঠিক রেখে শুধু এমপিদের নির্বাচনী এলাকার অফিস খরচ নয় হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৫ হাজার টাকা নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়।
অারও পড়তে পারেন: ফরিদপুরে জোড়া শিশু হত্যায় মায়ের স্বীকারোক্তি
২৪ জানুয়ারি সংসদে উত্থাপিত বিলে নির্বাচনী এলাকার অফিস খরচ বাড়ানোর প্রস্তাব ছিলো না। সংসদীয় কমিটি খরচ বাড়ানোর সুপারিশ করে সংসদে প্রতিবেদন দেয়। সে হিসেবে এখন থেকে একজন এমপি নির্বাচনী এলাকার অফিস খরচ ১৫ হাজার টাকা করে পাবেন।
পাস হওয়া বিল সম্পর্কে আইনমন্ত্রী বলেছেন, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি এবং দেশের আর্থ-সামজিক অবস্থার প্রেক্ষিতে এবং অষ্টম জাতীয় বেতন স্কেল ঘোষণা করার কারণে সংসদ সদস্যদের জন্য সময়োপযোগী বেতন-ভাতাদি নির্ধারণ করা আবশ্যক।
বিলের ওপর সংশোধনী প্রস্তাব আনার সময় বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সদস্যরা বেতন-ভাতা আরও বাড়ানোর দাবি করলে জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, আমরা নিজেরাই নিজেদেরটা বাড়াচ্ছি। বিবেচকের মত বাড়াতে হবে। আমাদের সামর্থ্য থাকলে বাড়াতাম।
/ইএইচএস /এমএসএম/








