সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারপতিদের মতামতের ভিত্তিতে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে দেওয়া হাইকোর্টের রায় স্থগিত চেয়ে করা রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের শুনানি হচ্ছে না সোমবার।
রবিবার দুপুরের দিকে সুপ্রিম কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ আপিল আবেদন করার পর অ্যাটর্নি জেনারেল জানিয়েছিলেন, সোমবার চেম্বার বিচারপতির কাছে শুনানি হতে পারে।
গত ৫ মে মঈনুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন হাইকোর্টের একটি বিশেষ বেঞ্চ সংবিধানের ষোলতম সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেন। এ রায় ঘোষণার ফলে বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে থাকছে না।
এ সংশোধনীতে বাহাত্তরের সংবিধানের ৯৬ অনুচ্ছেদ পুনঃস্থাপনের মাধ্যমে বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। পাস হওয়া ষোড়শ সংশোধনীর ৯৬ অনুচ্ছেদের দফা-২ এ ছিল, প্রমাণিত অসদাচরণ বা অসামর্থ্যের কারণে সংসদের মোট সদস্য সংখ্যার দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের প্রস্তাবে রাষ্ট্রপতির আদেশে সুপ্রিমকোর্টের বিচারকদের অপসারণ করা যাবে।
দফা-৩ অনুযায়ী, সংসদ সদস্যদের প্রস্তাব সম্পর্কিত এবং বিচারকের অসদাচরণ ও অসামর্থ্য সম্পর্কে তদন্ত ও প্রমাণের পদ্ধতি সংসদ আইনের দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে।
দফা-৪ এ বলা হয়েছিল, কোনও বিচারক রাষ্ট্রপতিকে উদ্দেশ্য করে স্বাক্ষরযুক্ত চিঠির মাধ্যমে পদত্যাগ করতে পারবেন।
উল্লেখ্য, ১৯৭৫ সালে সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীতে সুপ্রিম কোর্টের বিচারকদের অপসারণ ক্ষমতা সংসদের কাছ থেকে রাষ্ট্রপতির হাতে দেওয়া হয়েছিল। পঞ্চম সংশোধনীতে বিচারকদের অপসারণ ক্ষমতা সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের কাছে দেওয়া হয়। প্রধান বিচারপতি ও আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ দুই বিচারপতির সমন্বয়ে ‘সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল’ গঠন করার বিধান রাখা হয়।
আরও পড়ুন-
/ইউআই/এফএস/ এপিএইচ/








