ছাত্রীকে যৌন হয়রানির মামলায় গ্রেফতার হওয়া রাজধানীর আহসানউল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মাহফুজুর রশিদ ফেরদৌসকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়টির রেজিস্ট্রার মুহাম্মদ আবদুল গফুর সোমবার সন্ধ্যায় বাংলা ট্রিবিউনকে এ বিষয়ে নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোনও শিক্ষককে যে শর্তে চাকরিচ্যুত করতে পারেন সেই শর্ত অনুযায়ী তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে’।
এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের তড়িৎ কৌশল বিভাগের প্রাক্তন এই শিক্ষক ও সহকারী প্রক্টরের বিরুদ্ধে এক শিক্ষার্থী যৌন হয়রানির অভিযোগ করেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে। পরে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে ওই শিক্ষকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব কার্যক্রম থেকে সাময়িক অব্যহতি দেওয়া হয়। শিক্ষার্থীরা ওই শিক্ষকের স্থায়ী বরখাস্ত ও শাস্তির দাবিতে আন্দোলন অব্যহত রাখে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, তড়িৎ কৌশল বিভাগের ওই শিক্ষক বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টরের দায়িত্বেও রয়েছেন। তিনি প্রক্টোরিয়াল ক্ষমতা ব্যবহার করে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করতেন। ছাত্রীদের নানাভাবে যৌন হয়রানি করতেন। বিভাগে তার নিজের কক্ষে ছাত্রীদের ডাকতেন এবং না এলে নম্বর কম দেওয়ার হুমকিও দিতেন।
সম্প্রতি এক শিক্ষার্থী বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধন ২০০৩) এর ১০ ধারায় যৌন হয়রানির অভিযোগ এনে কলাবাগান থাকায় একটি মামলা করেন।
গত বুধবার (৪ মে) ভোরে কলাবাগান থানা পুলিশের একটি দল রাজধানীর ইস্কাটনের বাসায় অভিযান চালিয়ে ফেরদৌসকে গ্রেফতার করে। পরে সকালে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কলাবাগান থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শামীম আহমেদ শিক্ষক ফেরদৌসকে হাজির করে রিমান্ড আবেদন করলে দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন ঢাকা মহানগর হাকিম দেলোয়ার হোসেন।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মুহাম্মদ আবদুল গফুর বলেন, ‘তাকে যেদিন পুলিশ গ্রেফতার করেছে সেদিন থেকেই তার চাকরিচ্যুতি কার্যকর করা হয়েছে। আমরা পরবর্তী সিন্ডিকেট সভায় এ বিষয়ে একটি রিপোর্ট জমা দেব। তাছাড়া আদালতে তার বিরুদ্ধে মামলা চলছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে আদালতই তার শাস্তির ব্যবস্থা করবেন।
/আরএআর/এজে








