দ্বিতীয় দফায় পানামা পেপারস প্রকাশের পর অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের আন্তর্জাতিক সংগঠন আইসিআইজের ওয়েসসাইটে বাংলাদেশের অন্তত ৫০ ব্যক্তি ও ৫টি প্রতিষ্ঠানের নাম এসেছে। তালিকায় রয়েছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফরউল্যাহ ও নীলুফার জাফর উল্যাহ।
সোমবার বাংলাদেশ সময় রাত ১২টায় কর ফাঁকি দিয়ে বেনামে বিপুল সম্পদ পাচারের নেপথ্যে থাকা বিশ্বের বিভিন্ন অঙ্গনের দুই লাখের বেশি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নাম জনসমক্ষে প্রকাশ করে অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের সংগঠন আইসিআইজে। তবে আইসিআইজে বলছে, তালিকায় যাদের নাম এসেছে, তারা সবাই ব্যবসায়ে কোনও ধরনের অনিয়মে জড়িত, এমন নয়।
আইসিআইজের প্রকাশ করা বাংলাদেশিদের তালিকায় জাফর উল্যাহ ও নীলুফারের ঠিকানা দেখানো হয়েছে- হাউজ নং ৪-এ, রোড-৭৩, গুলশান-২, ঢাকা, বাংলাদেশ। জাফর উল্যাহ ও নীলুফারকে ব্রিটিশ ভার্জিনিয়া আইল্যান্ডে নিবন্ধিত পাথফাইন্ডার ফিন্যান্স এবং হ্যানসিটিক লিমিটেডের পরিচালক হিসেবে দেখানো হয়।
এই তথ্যভাণ্ডারে বাংলাদেশি অফিসার্সের তালিকায় কফিল এইচ এস মুয়ীদ, দ্যা বেয়ারার, পেসিনা স্টেফিনো, রুডি বেনজামিন, মো. ইউসুফ রায়হান রেজা, ইসরাক আহমেদ, মিসেস নোভেরা চৌধুরী, ফরহাদ গনি মোহাম্মদ, মেহবুব চৌধুরী, বিলকিস ফাতিমা জেসমিন, রজার বার্ব, মো. আবুল বাশারের নাম রয়েছে।
নাম আছে, জাইন ওমর, বেনজীর আহমেদ, মো. আফজালুর রহমান, মল্লিক সুধীর, সরকার জীবন কুমার, নিজাম এম সেলিম, মোহাম্মদ মোকসেদুল ইসলাম, মো. মোতাজ্জারুল ইসলাম, মো. সেলিমুজ্জামান, মো. আফজালুর রহমান, সৈয়দ সেরাজুল হক, এফ এম জুবাইদুল হক, মো. আমিনুল হক, নাজিম আসাদুল হকের।
তালিকায় বাংলাদেশিদের মধ্যে আরও রয়েছেন, তারিক একরামুল হক, ক্যাপ্টেন এম এ জাউল, কাজী রায়হান জাফর, মোহাম্মদ শহীদ মাসুদ, সালমা হক, খাজা শাহাদাত উল্লাহ, সৈয়দা সামিনা মির্জা, দিলীপ কুমার মোদি, মোহাম্মদ ফয়সাল করিম খান, জুলফিকার হায়দার, উম্মে রুবানা, আজমাত মঈন, মির্জা এম ইয়াহিয়া, মো. নজরুল ইসলাম, মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম, জাফর উমেদ খান, আসমা মোনেম, এফ এম রহমাতুল বারী, এ এস এম মহিউদ্দিন মোনেম, খাজা শাহাদত উল্লাহ, মাহতাবউদ্দিন চৌধুরী।
এছাড়াও তালিকার এই অংশে অফশোর কোম্পানির নামের তালিকায় সোয়াইন ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড ও সেভেন সিজ অ্যাসেট লিমিটেডের নাম রয়েছে। দুটি কোম্পানিই ব্রিটিশ ভার্জিনিয়া আইল্যান্ডে নিবন্ধিত। এছাড়াও ৪২টি ঠিকানাও উল্লেখ করা হয়েছে পানামা পেপারসের এই অংশে।
আরও পড়ুন: তালিকায় বাংলাদেশের ৫ প্রতিষ্ঠান ও ৩৫ ঠিকানা
এর আগে, আইসিআইজের পরিচালক জেরার্ড রাইল বলেছিলেন, এখন পর্যন্ত উচ্চপর্যায়ের কিছু নির্দিষ্ট লোকের নাম প্রকাশ পেয়েছে। বিশ্বে আমাদের সঙ্গে সম্পৃক্ত ৩৭০ জন সাংবাদিক প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ ও পর্যালোচনা করে দেখছেন। এটা বিশাল তথ্যভান্ডার। অনেক তথ্য। এবার দুই লাখের বেশি অফশোর কোম্পানির নাম প্রকাশ করা হবে। সেখানে কোম্পানির নাম ও ঠিকানা উল্লেখ থাকবে। কোম্পানিগুলোর পরিচালক ও শেয়ারহোল্ডারদের নামও প্রকাশ করা হবে।
উল্লেখ্য, প্রথম দফায় পানামা পেপারস ফাঁসের মধ্য দিয়ে বিশ্বের প্রভাবশালী রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং রাঘববোয়ালদের আর্থিক কেলেঙ্কারির তথ্য সবার সামনে চলে আসে। গোপনীয়তা রক্ষাকারী হিসেবে পৃথিবীর অন্যতম প্রতিষ্ঠান মোস্যাক ফনসেকা, যেটি পানামার একটি আইনি প্রতিষ্ঠান, সেখান থেকেই সম্প্রতি ফাঁস হয়েছে ১১ মিলিয়ন নথিপত্র। ফাঁস হওয়া নথিগুলোর তথ্য নিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তদন্ত শুরু হয়। ফ্রান্স-অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ড-অস্ট্রিয়া-সুইডেন-নেদারল্যান্ডসসহ বেশকিছু দেশ তাদের নিজ নিজ দেশের অভিযোগ ওঠা ধনী ও ক্ষমতাশালীদের ব্যাপারে তদন্তের কথা জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রও তদন্ত শুরুর কথা জানায়।
আরও পড়ুন: ফাঁস হলো ২ লাখের বেশি অফশোর অ্যাকাউন্ট
/এমও/








