সম্ভাব্য কর ফাঁকি ও অর্থ পাচারে বাংলাদেশিদের সম্পৃক্ততায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। এ ঘটনাকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থাপনায় ‘প্রকট দুর্নীতি-সহায়ক পরিস্থিতির দৃষ্টান্ত’ উল্লেখ করে জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ তদন্ত এবং আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে দুর্নীতিবিরোধী আন্তর্জাতিক ও সংস্থাটি।
গত ৯ মে ইন্টারন্যাশনাল কনসোরটিয়াম অব ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিস্ট’র (আইসিআইজি) প্রকাশিত ‘পানামা পেপারস’ ডাটাবেইজে অর্ধশতাধিক বাংলাদেশির নাম প্রকাশ করে।
মঙ্গলবার সংস্থাটির আউটরিচ অ্যান্ড কমিউনিকেশন বিভাগের পরিচালক রিজওয়ান-উল-আলম স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিবৃতিতে টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, প্রকাশিত তালিকায় যেসব বাংলাদেশির নাম উল্লেখ আছে তাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট ও নির্ভরযোগ্য তথ্য নেই। তবে সম্প্রতি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে বাংলাদেশ থেকে উদ্বেগজনক হারে টাকা পাচারের প্রবণতা প্রকাশ পেয়েছে। ফলে বাংলাদেশ ব্যাংক, দুর্নীতি দমন কমিশন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এবং অ্যাটর্নি জেনারেলের অফিসের উদ্যোগে এসব টাকা ফিরিয়ে আনা এবং জড়িতদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, দেশের বাইরে নামে-বেনামে কোম্পানি প্রতিষ্ঠা বা ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে অর্থ পাচারের মূল লক্ষ্য কর ফাঁকি। যার মূল্য জনগণকেই দিতে হয়। সরকারের উচিত এসব কর ফাঁকি ও অর্থ পাচার বন্ধ করা।
টিআইবি নির্বাহী পরিচালক বলেন, পানামা পেপারসে প্রকাশিত তথ্য আংশিক। মোসাক ফনসেকার মতো আরও অনেক তথাকথিত আইন সহায়তাকারী প্রতিষ্ঠান অর্থ পাচার প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত আছে। তাছাড়া এ দুষ্ট চক্রের সঙ্গে জড়িত বিশ্বের নামি-দামি ব্যাংক ও অ্যাকাউন্টিং কোম্পানিসহ অসংখ্য মধ্যস্থতাকারী। তাই দেশীয় আইনি কাঠামো জোরদার ও কার্যকর করার মাধ্যমে অর্থ পাচার প্রতিরোধে সুদৃঢ় পদক্ষেপ গ্রহণ ও অন্যদিকে জাতিসংঘের দুর্নীতিবিরোধী কনভেনশনসহ আন্তর্জাতিক আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তার মাধ্যমে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনার কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, প্রকাশিত তথ্যে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের সম্পৃক্ততা এটা প্রমাণ করে দুর্নীতি একটি বৈশ্বিক সমস্যা যা থেকে কোনও দেশই মুক্ত নয়।
/এসএনএইচ/এফএস/








