ভারতের পররাষ্ট্র সচিব এস জয়শংকর দু’দিনের দ্বিপক্ষীয় সফরে আগামীকাল বুধবার বিকালে ঢাকায় আসছেন। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব এম শহীদুল হকের ফেব্রুয়ারিতে ভারত সফরের ফিরতি সফর এটি।
জয়শংকর ঢাকায় আসার পরে রাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। শহীদুল হকের সঙ্গে জয়শংকরের আনুষ্ঠানিক বৈঠকে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে বৃহস্পতিবার।
জয়শংকরের সফর পূর্ব নির্ধারিত হলেও বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে সংঘটিত জঙ্গিসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সহিংস ঘটনা যেমন ব্লগার, লেখক, প্রকাশক, শিক্ষক ও ভিন্ন মতাদর্শদের হত্যাকাণ্ড এবং এসব ঘটনার জন্য আইএস ’র দাবির প্রেক্ষাপটে এ সফরকে তাৎপর্যপূর্ণ মনে করা হচ্ছে।
তবে এ ধরনের জঙ্গি তৎপরতাকে সরকার ‘ সম্পূর্ণ দেশীয়’ বলে মনে করে, যদিও এর ফলে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে আলোচিত হচ্ছে।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো বাংলা ট্রিবিউনকে জানিয়েছে, বাংলাদেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে ভারতের পররাষ্ট্র সচিবের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হবে।
এর আগে সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিক্যাট বলেন,তাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি নিশা দেশাই বিসওয়াল গত সপ্তাহে তার সফরের সময়ে ভারতের রাষ্ট্রদূত হর্ষবর্ধন শ্রিংলা’র সঙ্গে বৈঠক করে বাংলাদেশ সম্পর্কে একে অপরের মতামত জানতে চেয়েছেন।
পররাষ্ট্র সচিব এম শহীদুল হকের সঙ্গে দুই ঘণ্টার বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, অবশ্যই তিন সরকার -বাংলাদেশ, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র -উগ্রবাদকে প্রতিহত করার জন্য একমত। এ বিষয়ে আমরা সবাই একমত ।
ভারতের পররাষ্ট্র সচিবের সঙ্গে কি বিষয়ে আলোচনা হবে জানতে চাইলে শহীদুল হক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ভারতের সঙ্গে আমাদের বহুমুখী সম্পর্ক। তাদের সঙ্গে আমাদের সম্পর্কিত সব বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে।
গত বছরের জুনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সফরের সময়ে যৌথ ঘোষণায় উল্লেখিত কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয় ফেব্রুয়ারি মাসের দুই পররাষ্ট্র সচিবের বৈঠকে।
সেই বৈঠকে নিরাপত্তা ও শান্তি, পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সহযোগিতা, ব্যবসা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, উন্নয়ন সহযোগিতা, উপ-আঞ্চলিক সহযোগিতা, কানেক্টিভিটি, আঞ্চলিক ও বহুপাক্ষিক সহযোগিতা এবং মানুষে-মানুষে যোগাযোগ ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা হয়।
এদিকে বাংলাদেশে ভারতের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের জন্য আজ মঙ্গলবার দুই দেশের প্রতিনিধিদলের মধ্যে এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
ভারত ভেড়ামারায় সাধারণ অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং কেরানিগঞ্জ ও মিরসরাইয়ে তথ্য প্রযুক্তি অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপন করতে চায়। এ সংক্রান্ত একটি কাঠামো তৈরির জন্য দুইপক্ষ আলোচনা করেছে।
ভারতের দূতাবাসের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়,বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেন অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের নির্বাহী সদস্য এসএম শওকত আলী এবং ভারতের পক্ষে নেতৃত্ব দেন সে দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব শ্রিপ্রিয়া রঙ্গনাথন।
গত ৫ মে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে মুখপাত্র ভিকাশ স্বরূপ বলেন,তারা ভিসা প্রদান প্রক্রিয়া আরও উন্নত করার এবং ভিসা প্রদানের জন্য আরও লোকবল বাড়ানোর চেষ্টা করছেন,যাতে করে বাড়তি চাহিদা মেটানো সম্ভব হয়।
বাংলাদেশে পর্যটক ভিসা প্রদানের ক্ষেত্রে ই-টোকেন যোগাড়ের জন্য টাকা দিতে হয় এমন এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন,আমরা বিষয়টি জানি এবং একটি স্বচ্ছ ও দক্ষ ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার চেষ্টা করছি।
/এসএসজেড/এমএসএম/








