সড়ক দুর্ঘটনায় খ্যাতিমান চলচ্চিত্র নির্মাতা তারেক মাসুদ ও সাংবাদিক মিশুক মুনীরের নিহতের ঘটনায় ক্ষতিপূরণের মামলা তুলে নেওয়ার দাবিতে সড়ক পরিবহন মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদের দাবি ‘আদালত অবমাননা’ উল্লেখ করে আইনজীবীদের মাধ্যমে নোটিশ ইস্যু করেছেন স্বজনরা। ড. কামাল হোসেন অ্যাসোসিয়েটস এর একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০১১ সালের ১৩ আগস্ট মানিকগঞ্জ থানায় দায়েরকৃত মামলা বর্তমানে মানিকগঞ্জ দায়রা আদালতে বিচারাধীন। নিহত দুইজনের স্ত্রী ক্যাথরিন মাসুদ ও মঞ্জুলি কাজী ২০১২ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি বাস কোম্পানির মালিক, চালক এবং ইন্সুরেন্স কোম্পানির বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণ দাবি করে সড়ক পরিবহন অধ্যাদেশ ১৯৮৩ এর অধীনে পৃথক মামলা করেন।
এই পরিস্থিতিতে মামলাটি প্রত্যাহারের দাবিতে ৪৮ ঘণ্টা ধর্মঘট ডাকা আদালত অবমাননা বলে উল্লেখ করা হয় বিজ্ঞপ্তিতে।
এবিষয়ে নিহত তারেক মাসুদের স্ত্রী ক্যাথরিন মাসুদ বলেন, আমি আমার স্বামী ও আমার সন্তান তার বাবাকে হারিয়েছে। আমি মামলা প্রত্যাহার করতে তাদের দেওয়া এধরনের হুমকিতে হতভম্ব হয়ে গেছি।
এবছর ১৩ মার্চ চলচ্চিত্রকার তারেক মাসুদ ও এটিএন নিউজের প্রধান নির্বাহী মিশুক মুনীরের ক্ষতিপূরণ মামলার শুনানি হাইকোর্টে শুরু হয়েছে। বিচারপতি জিনাত আরা ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চে এ মামলার বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়।
দুর্ঘটনায় নিহত তারেক মাসুদের স্ত্রী ক্যাথরিন মাসুদ মোট ৭ কোটি ৭৬ লাখ ২৫ হাজার ৪৫২ টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে এ মামলাটি করেন। দুর্ঘটনায় দায়ী বাসের মালিক, রিলায়েন্স ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিসহ তিনজনকে এ মামলার বিবাদী করা হয়েছে।
এর আগে, মামলার শুনানির প্রথম দিনে ক্যাথরিন মাসুদের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। বাদীপক্ষে মামলা পরিচালনা করছেন বিশিষ্ট আইনজীবী ড. কামাল হোসেন। রিলায়েন্স ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী ইহসান এ সিদ্দিক।
উল্লেখ্য, ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলা এলাকায় ২০১১ সালের ১৩ আগস্ট সড়ক দুর্ঘটনায় চলচ্চিত্রকার তারেক মাসুদ ও এটিএন নিউজের প্রধান নির্বাহী মিশুক মুনীরসহ পাঁচজন নিহত হন।
/ইউআই/এমও/








