বহির্বিশ্বের সঙ্গে রাজনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরালো করার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মে মাসের শেষে এবং জুন মাসের প্রথম সপ্তাহে জাপান ও সৌদি আরব সফর করবেন।
জাপানে তিনি উন্নত বিশ্বের সাতটি দেশ নিয়ে গঠিত জি-সেভেন এর শীর্ষ সম্মেলনের আউট রিচ প্রোগ্রামে অংশ নেবেন। অন্যদিকে সৌদি আরবে তিনি একটি দ্বিপক্ষীয় সফর করবেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
জি-সেভেন বৈঠক
জি-সেভেন ভুক্ত দেশ যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জাপান, ইতালি, ফ্রান্স, জার্মানি ও কানাডা নিয়ে শীর্ষ সম্মেলন হবে এ মাসের শেষে এবং সেখানে বাংলাদেশ, ইন্দোনেশিয়া, শ্রীলঙ্কা ও ভিয়েতনামের সরকার বা রাষ্ট্রপ্রধানদের দাওয়াত দেওয়া হয়েছে।
এটি প্রধানমন্ত্রীর দ্বিতীয়বার জি-সেভেন এর আউটরিচ প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ। এর আগে ২০০১ সালে জি-সেভেন এর আউটরিচ প্রোগ্রামে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দাওয়াত পেয়েছিলেন এবং অংশগ্রহণ করেছিলেন।
জাপানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমা বাংলা ট্রিবিউনকে এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, আউটরিচ প্রোগ্রামের আওতায় জি-সেভেন এর সম্মেলনে বিভিন্ন সরকার বা রাষ্ট্রপ্রধানদের দাওয়াত দেওয়া হয় এবং তাদের সাফল্য সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়। আর যাদের দাওয়াত দেওয়া হয় এটি তাদের সাফল্যের একটি স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচনা করা হয় এবং সে কারণে এটি বাংলাদেশের জন্য একটি সম্মানের বিষয়।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, জি-সেভেন-এ অর্থনৈতিক বিষয়গুলো এবং স্বাগত দেশের নিজস্ব কোনও বিষয় থাকলে সেটি আলোচনায় প্রাধান্য পায়।
এক্ষেত্রে বলা যায়- নিরাপত্তা, উদ্বাস্তু, সাইবার ইস্যু, মহাকাশ বিজ্ঞান, জলবায়ু পরিবর্তন, মানবাধিকার, নারী ও সেক্সুয়াল ভায়োলেন্স, শান্তিরক্ষা, দুর্নীতি, স্বাস্থ্য ও অন্যান্য বৈশ্বিক বিষয়গুলো আলোচনায় প্রাধান্য পাবে।
এপ্রিল মাসে জি-সেভেন এর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা একটি বৈঠক করেন এবং সেখানে একটি যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করা হয়।
কর্মকর্তাটি বলেন, সেই বিবৃতিতে প্রথম বিষয়টি ছিল সন্ত্রাসবাদ ও উগ্রবাদ মোকাবেলা এবং এ বিষয়ে বাংলাদেশের অনেক সাফল্য আছে যেটি বিশ্বের সামনে উপস্থাপন করার একটি সুযোগ পাওয়া যাবে এই বৈঠকে।
সৌদি আরব সফর
দ্বিতীয়বারের মতো দ্বিপক্ষীয় সফরে জুন মাসের প্রথম সপ্তাহে সৌদি আরব যাচ্ছেন শেখ হাসিনা। এর আগে ২০০৯ সালে তিনি দ্বিপক্ষীয় সফরে সৌদি আরব গিয়েছিলেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এ সফরের মাধ্যমে আরও মজবুত হবে।
এবারের সফরে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো হচ্ছে সৌদির শ্রমবাজার সম্পূর্ণ উন্মুক্ত, বিনিয়োগ ও অন্যান্য সহযোগিতা। অন্যদিকে সৌদি আরবের পক্ষে সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলা।
কর্মকর্তাটি বলেন, সৌদি আরব উগ্রবাদ মোকাবেলায় একটি জোট গঠন করেছেন এবং বাংলাদেশ সে জোটের সদস্য।
বাংলাদেশ কোনও সামরিক শক্তি ব্যবহারের সঙ্গে সম্পৃক্ত হবে না বরং তারা জ্ঞান বা অন্য অসামরিক বিষয়ে এ জোটকে সহায়তা করবে। এছাড়া ঢাকার নীতি হচ্ছে জাতিসংঘের অনুমোদন ছাড়া বাংলাদেশ কোনও সামরিক জোটে অংশগ্রহণ করবে না বলে কর্মকর্তাটি জানান।
/এসএসজেড/ এএইচ/
আরও খবর পড়ুন-








