এক সিমেই সব মোবাইলফোন অপারেটরের সুবিধা বা এমএনপি সেবা চালু করতে চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এর ফলে এমএনপি সেবা চালু করতে আর কোনও বাধা রইল না। এখন নিয়ন্ত্রক সংস্থা এমএনপি লাইসেন্স দেওয়ার আনুষ্ঠানিকতা শুরু করতে পারবে।
ভয়েস কল ও ইন্টারনেটের উচ্চমূল্য, দুর্বল নেটওয়ার্ক কাভারেজ, নেটওয়ার্ক সমস্যা, ভয়েস কলের নিম্নমান, গ্রাহক সেবার অসন্তুষ্টি মেটাতে এমএনপি সেবা চালুর উদ্যোগ নেয় বিটিআরসি। অন্যদিকে টুজি লাইসেন্স নবায়ন গাইডলাইনেও এমএনপি সেবার উল্লেখ রয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, লাইসেন্সধারী অপারেটর এমএনপি চালু হলে এই সেবা বাস্তবায়ন করবে।
ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব এম. রায়হান আখতার মঙ্গলবার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, প্রধানমন্ত্রী এমএনপির চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছেন। আজ ফাইল বিটিআরসিতে পাঠানো হবে। তিনি জানান, ফাইলে কোনও কাটাছেঁড়া হয়নি। শর্তসহ অন্যান্য বিষয়গুলো অপরিবর্তিত রয়েছে।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, এর আগে নীতিমালায় ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ অনুমোদন দেয়। অর্থমন্ত্রণালয় অনুমোদন দেওয়ার পরে যাতে কোনও ধরনের বির্তক তৈরি না হয় সে কারণে প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন নেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নিলামের মাধ্যমে একটি অপারেটরকে ১৫ বছর জন্য এমএনপি লাইসেন্স দেওয়া হবে। নিলামের ভিত্তিমূল্য হবে ১ কোটি টাকা। প্রতিষ্ঠানটিকে বার্ষিক লাইসেন্স ফি দিতে হবে ২০ লাখ টাকা। তবে লাইসেন্স পাওয়া প্রতিষ্ঠানটি দ্বিতীয় বছর থেকে সরকারের সঙ্গে ৫ দশমিক ৫ শতাংশ হারে রাজস্ব ভাগাভাগি করবে।
সূত্র আরও জানায়, একটি নিবন্ধিত বাংলাদেশি বা প্রবাসী বাংলাদেশি মালিকানাধীন কোম্পানি নিলামে অংশগ্রহণের জন্য যোগ্য বলে বিবেচিত হবে। তবে কোনও বিদেশি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশি কোম্পানির সঙ্গে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে নিলামে অংশগ্রহণ করতে পারবে। তবে ওই বিদেশি কোম্পানির শেয়ারের পরিমাণ হতে পারবে সর্বোচ্চ ৫১ শতাংশ। প্রতিষ্ঠানটিকে বৈদেশিক মুদ্রা বিনিয়োগ করতে হবে। ফলে দেশের বাজারে বিনিয়োগ করা অর্থ তুলে নিয়ে যাওয়ার কোনও সুযোগ থাকবে না।
এমএনপির চূড়ান্ত হওয়া নীতিমালায় আরও বলা হয়, নিলামে অংশ নিতে হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে এক বা একাধিক দেশে ন্যূনতম তিন বছর এই সেবা দিতে হবে এবং গ্রাহক হতে হবে ১০ মিলিয়ন বা ১ কোটি।
ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ৫টি দেশের ৫ অপারেটর মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করে এমএনপি সেবা দিতে আগ্রহ প্রকাশ করে। এর মধ্যে রয়েছে ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, লেবানন, দক্ষিণ আফ্রিকা ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের কোম্পানি। মন্ত্রণালয়ের যুক্তি, একাধিক দেশে এমএনপি সেবা দিলে এবং তার গ্রাহক এক কোটি হলে সে প্রকৃত পক্ষেই এমএনপি অপারেটর। পশ্চিমা দেশের কোনও অপারেটর হলে তার পক্ষে এক দেশে এক কোটি গ্রাহক পাওয়া সম্ভব হবে না। ফলে তাকে অবশ্যই এমএনপি অপারেটর হতে হবে।
প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালের ১৩ জুন বিটিআরসির দেওয়া এক নির্দেশনায় মোবাইলফোন অপারেটরগুলোকে পরবর্তী ৭ মাসের মধ্যে এমএনপি চালু করতে বলা হয়। নির্দেশনায় এমএনপি চালুর জন্য ৩ মাসের মধ্যে সব অপারেটরকে একটি কনসোর্টিয়াম গঠন করতে বলা হয়। কনসোর্টিয়াম পরবর্তী ৩ মাসের মধ্যে এমএনপি সিস্টেম গড়ে তুলবে যা কেন্দ্রীয়ভাবে একটি সফটওয়্যারের মাধ্যমে কাজ করবে। বেঁধে দেওয়া সময় ২০১৪ সালের জানুয়ারির মাঝামাঝিতে শেষ হয় কিন্তু চালু হয়নি এমএনপি। পরবর্তী সময়ে এমএনপি চালুর জন্য একই বছরের মে মাসে সংশ্লিষ্টদের নিয়ে একটি কমিটি গঠন করে দেয় বিটিআরসি। ওই কমিটিকে এ ব্যাপারে একটি প্রতিবেদন দিতে বলা হয়। কমিটি কাজের জন্য কয়েক দফা সময় বাড়িয়ে আগস্ট মাসে প্রতিবেদন দেয়। সেটি ছিল অন্তবর্তীকালীন প্রতিবেদন। ওই প্রতিবেদনে এমএনপি চালু করতে ৫ বছর সময় প্রয়োজন বলে উল্লেখ করা হয়।
/এইচএএইচ/এজে







