৭১৭টি ইউপিতে ভোটগ্রহণ শুরু

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
২৮ মে ২০১৬, ০৮:০৭আপডেট : ২৮ মে ২০১৬, ০৮:১৩





ইউপি নির্বাচন শুরু হলো দেশের ইউনিয়ন পরিষদের পঞ্চম ধাপের নির্বাচনে ভোট গ্রহণ। শনিবার সকাল ৮টা থেকে ৭১৭টি ইউনিয়নে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। চলবে বিকাল ৪টা পর্যন্ত। নির্বাচনি এলাকায় প্রার্থী ও ভোটারদের মধ্যে উৎসব প্রত্যাশার পাশাপাশি উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা ও আতঙ্কও বিরাজ করছে। প্রথম চার ধাপের মতো এবারও কেন্দ্র দখল- নির্বাচনি সহিংসতার আশঙ্কা করছেন অনেক প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা। অবশ্য নির্বাচন কমিশন দাবি করছে, অন্যান্য ধাপের তুলনায় বেশি গ্রহণযোগ্য ‍ও সুষ্ঠু নির্বাচনের।
কমিশন জানিয়েছে, সুষ্ঠু নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মাঠে রয়েছেন পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবির লক্ষাধিক সদস্য। তাদের পাশাপাশি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছেন জুডিশিয়াল ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা। ভোটগ্রহণ উপলক্ষে নির্বাচনি এলাকাগুলোয় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
অারও পড়তে পারেন: ধর্মভিত্তিক সংগঠনগুলোর সঙ্গে সখ্য বাড়াতে চায় আ. লীগ

নির্বাচন কমিশন সচিব মো. সিরাজুল ইসলাম শুক্রবার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, সুষ্ঠু ভোটগ্রহণের লক্ষ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছি। প্রিজাইডিং অফিসাররা নির্বাচনি সামগ্রী নিয়ে বর্তমানে কেন্দ্রে গিয়ে অবস্থান করছেন। আমরা চাই ভোটাররা স্বতঃস্ফূর্তভাবে কেন্দ্রে গিয়ে তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়ে নিরাপদে বাড়ি ফিরবেন। এক্ষেত্রে কেউ প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছি। প্রার্থীদের শঙ্কার বিষয়ে তিনি বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে শঙ্কার কিছু নেই। নির্বাচনে অনিয়ম করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। নির্বাচন কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকেও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

নির্বাচন পর্যবেক্ষক মহলের মতে, নির্বাচনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রার্থীরা। স্বতন্ত্র প্রার্থীদের উল্লেখযোগ্য অংশ আওয়ামী লীগ ও বিএনপি থেকে মনোনয়ন না পেয়ে বিদ্রোহী হয়ে লড়ছেন। গত চার ধাপে সহিংস ঘটনার বেশিরভাগই আওয়ামী লীগ ও একই দলের বিদ্রোহী প্রার্থীদের মধ্যে সংঘটিত হয়েছিল। এবারও ওই ঘটনার পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এই প্রসঙ্গে ইসির কর্মকর্তারা জানান, প্রথম চার ধাপের মতোই পঞ্চম ধাপের নির্বাচন উপলক্ষে একই ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে কমপক্ষে ২০জন পুলিশ ও আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। তবে এবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে চরম সতর্কতামূলক অবস্থায় থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়তে পারেন: আমরা ওসমান পরিবারের দালালি করতে মাঠে নামি নাই: হেফাজত
এদিকে, প্রথম চারধাপের সহিংসতা ও অনিয়মের ঘটনায় প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা না থাকায় এ ধাপের ভোট নিয়ে প্রার্থী ও ভোটারদের মধ্যে শঙ্কা বিরাজ করছে। বিভিন্ন নির্বাচনি এলাকায় প্রতিপক্ষকে হুমকি-ধামকিতে বিরোধী মতের প্রার্থীদের মধ্যে সুষ্ঠু ভোট নিয়ে এ শঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীদের এলাকায় সহিসংতার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
৫ম ধাপের ভোট তথ্য


পঞ্চম ধাপে ৪৪ জেলার ৮৬ উপজেলার ৭১৭ ইউপিতে ভোট হচ্ছে। এতে মোট ভোটার ১ কোটি ১০ লাখের বেশি। ৭ হাজারের বেশি ভোট কেন্দ্রে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা হবে ভোট চলবে। পঞ্চম ধাপের ভোটে চেয়ারম্যান পদে ৩ হাজার ২৫৪ জন প্রার্থী রয়েছেন। এরমধ্যে মোট ১৫টি রাজনৈতিক দলের ১ হাজার ৭২৭ জন ও ১ হাজার ৫২২ জন লড়ছেন স্বতন্ত্র হিসেবে। দু’টি ইউপিতে আওয়ামী লীগের কোনও প্রার্থী নেই। বিএনপির প্রার্থী নেই ১০০ ইউপিতে। নির্বাচনে জাতীয় পার্টি ১৭৭টি, জাসদ ২১টি, বিকল্পধারা দুটি, ওয়ার্কার্স পার্টি ১৩টি, ইসলামী আন্দোলন ১২২টি, জেপি দুটি, ইসলামী ফ্রন্ট ১১টি, এলডিপি ছয়টি, সিপিবি পাঁচটি, জেএসডি একটি, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ ছয়টি, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট সাতটি এবং অন্য একটি দল এক ইউপিতে প্রার্থী দিয়েছে। তফসিল ঘোষণার পর নানা কারণে এ পর্যন্ত ১৪টি ইউপির ভোট স্থগিত করা হয়েছে। এদিকে, ফেনীর দাগনভুঞার লস্করপুর ইউনিয়নের সব পদের প্রার্থীই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ায় ওই ইউনিয়নে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে না।সাধারণ সদস্য পদে ২৭ হাজারের বেশি ও সংরক্ষিত সদস্য পদে ৭ হাজারের বেশি প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। পঞ্চম ধাপের নির্বাচনে ৪১জন চেয়ারম্যান প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। তারা সবাই আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থী।

মাঠে লক্ষাধিক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য

ইসি সূত্রে জানা গেছে, পঞ্চম ধাপের ইউপি নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লক্ষাধিক সদস্য মাঠে রয়েছেন। প্রতিটি ইউপিতে পুলিশ, এপিবিএন ও ব্যাটালিয়ন আনসারের সমন্বয়ে একটি মোবাইল ফোর্স এবং তিনটি ইউপির জন্য একটি স্ট্রাইকিং ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে। প্রতিটি উপজেলায় র‌্যাবের দু’টি মোবাইল ও একটি স্ট্রাইকিং ফোর্স এবং বিজিবির দু’টি মোবাইল টিম ও একটি স্ট্রাইকিং ফোর্স থাকছে। আইনশঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের দৃশ্যমানভাবে মুভ করতে বলা হয়েছে। যেন নির্বাচনি বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে—এমন ব্যক্তিদের জন্য আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এবং ভোটাররা স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিতে পারেন। নির্বাচনি এলাকায় ভোটগ্রহণের পরের দিন রবিবার পর্যন্ত তারা অবস্থান করবেন। এছাড়া, আচরণ বিধি তদারকিতে জুডিশিয়াল ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরাও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছেন।

যান চলাচল ও মিছিল-সমাবেশ নিষিদ্ধ
পঞ্চম ধাপের ভোটগ্রহণ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে নির্বাচনি এলাকাগুলোতে যানবাহন চলাচলের ওপর বিধি-নিষেধ আরোপ করা হয়েছে। তবে কমিশনের অনুমোদিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সাংবাদিক, পর্যবেক্ষকসহ অন্যান্য গাড়ি চলাচল করতে পারবে। হাইওয়ে এ নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকছে না। এছাড়া নির্বাচনি এলাকায় সব ধরনের মিছিল-সমাবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে মিছিল বের করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

/ইএইচএস/ এমএসএম/এমএনএইচ/

সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম