জিপিএ পাঁচ পাওয়া শিক্ষার্থীদের মান প্রশ্নবিদ্ধ করে একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে সম্প্রতি প্রচারিত প্রতিবেদন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ নাগরিক মহলে চলছে জোর সমালোচনা। এরই অংশ হিসেবে দেশের বিশিষ্ট সংগীতশিল্পী, সমাজ ও সংস্কৃতিকর্মী মাকসুদুল হক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে সংশ্লিষ্ট টেলিভিশন চ্যানেলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর একটি ইংরেজি খোলা চিঠি প্রকাশ করেছেন।
বার্তাটির ভাবানুবাদ নিম্নরূপ:
প্রিয় ফাহিম ভাই,
আপনাদের প্রচারিত সাম্প্রতিক একটি প্রতিবেদন গোটা জাতিকে অস্বস্তিতে ফেলেছে। বিষয়টি আমাকে বিব্রত করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এটা ‘ভাইরাল’ হয়ে গেছে, আপনি নিশ্চয়ই জানেন।
সূত্র: https://www.facebook.com/subhashis.bhowmik/videos/10205173740101691/
অনেক নেতিবাচক বিষয়ে আপনার ত্বরিৎ হস্তক্ষেপের প্রশংসা আমি করে এসেছি। বিব্রত বোধ করা সত্ত্বেও এই প্রতিবেদনের ব্যাপারে আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ না করে পারছি না। প্রায় পরিচর্যাহীন এই প্রতিবেদন নির্মমতা, দীনতা ও ছাত্রদের ছোট করার অপচেষ্টার কারণে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। প্রতিবেদনটি প্রচারিত হওয়ার পর অল্পবয়েসী এসব শিক্ষার্থী কী তীব্র মানসিক পীড়নের ভেতর দিয়ে যাবে, তা আপনাদের প্রতিবেদক একেবারেই ভেবে দেখেননি। পরীক্ষায় খারাপ ফল অর্জনের কারণে শিক্ষার্থীদের মধ্যে রীতিমতো আত্মহত্যা প্রবণতা দেখা দিয়েছে। এমন স্পর্শকাতর মুহূর্তে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির কথা না ভেবে আপনাদের বার্তা সম্পাদক কী করে এমন একটি প্রতিবেদন অনুমোদন করতে পারলেন তা বিস্ময়কর!
আপনারটিসহ বিভিন্ন চ্যানেলের প্রতিবেদনগুলোয় যেখানে যৌনকর্মী থেকে শুরু করে ধর্ষক, আটক জঙ্গি এমনকি মুখচেনা অপরাধীদের মুখ পর্যন্ত ঝাপসা করে দেওয়া হয়, সেখানে এসব শিক্ষার্থীর মুখ থেকে শুরু করে সবরকম পরিচিতি এভাবে উন্মোচিত করে দেওয়া হলো? এটা কোনোভাবেই ক্ষমা করা যায় না।
যে ক্ষতি হয়ে গেছে তার দায় আপনি বা মাছরাঙা (টেলিভিশন) কেউই অস্বীকার করতে পারেন না। আপনাদের বিরুদ্ধে অভিভাবক, ছাত্র বা কোনও নাগরিক সংগঠন যদি আইনের আশ্রয় নেয় তো মোটেও অবাক হবো না।
এই অভিযোগের ব্যাপারে আপনার অভিমত ব্যক্ত করলে কৃতজ্ঞ থাকবো।
বাংলাদেশের আর দশজন নাগরিকের মতোই আমিও ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছি।
ধন্যবাদ
মাকসুদুল হক
সংগীতশিল্পী, সমাজ ও সংস্কৃতিকর্মী
আরও পড়ুন: সাংবাদিকতার ‘এথিকস’ নিয়ে প্রশ্ন
'অজ্ঞ শিক্ষার্থী' বনাম 'মূর্খ সাংবাদিক'
/এইচকে/








