নিজের ও শিক্ষার্থীদের হেনস্তার প্রতিবাদ করতে গিয়ে চাকরি খুইয়েছেন শরিয়তপুরের মনোয়ারা সিকদার মেডিক্যাল কলেজ অ্যাণ্ড হাসপাতালের মনোচিকিৎসক প্রজ্ঞা পারমিতা পণ্ডিত। কলেজের লাইব্রেরিয়ান তার সঙ্গে সঠিক আচরণ না করায় এবং বাজে মন্তব্য করায় তিনি পাল্টা আঘাত করেন এবং কলেজ কর্তৃপক্ষ তাকে ‘মেয়ে বলে পুলিশের কাছে কোনও ফৌজদারি অভিযোগ না করে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে’ বলে জানিয়েছে। এদিকে এ বিষয়ে কলেজের অধ্যক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে এটা একেবারেই কলেজ ও সেই শিক্ষকের ব্যক্তিগত বিষয় উল্লেখ করে মন্তব্য করা যাবে না বলে জানান।
প্রজ্ঞা ১০ জুন তার ফেসবুকে লিখেছেন, তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। তিনি চাকরিচ্যুতির কাগজ আপলোড করে লেখেন, আমি ভাবলাম এটা শেয়ার করা উচিত। আমাকে ‘ডিজ-অনার’ করার কারণে একজন পুরুষের গালে মেরেছিলাম বলে আমি চাকরি হারিয়েছি। কলেজের অধ্যক্ষ ড. আবুল হাসনাত হাফিজ উদ্দিন আহমেদ স্বাক্ষরিত আপলোড করা চাকরিচ্যুতির কাগজে লেখা, … লাইব্রেরিয়ানের সঙ্গে আপনার আচরণকে ‘সহিংসতা’ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা একজন শিক্ষকের কাছ থেকে ‘কাঙ্ক্ষিত’ না। লাইব্রেরিয়ানের লিখিত বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে এটা প্রমাণিত আপনি তাকে ‘হেনস্তা’ করেছেন। আপনি নারী বলে আপনার বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে কোনও ফৌজদারি অভিযোগ করিনি।
তার সঙ্গে কী আচরণ করেছে সবাই জানতে চাইলে প্রজ্ঞা জানান, অনেকেই জানতে চাইছেন, লাইব্রেরিয়ান আর আমার মধ্যে আসলে কী হয়েছিল, ‘ডিজ-অনার’ এর লেভেলটা কতখানি। একজন ডাক্তার, একজন লাইব্রেরিয়ানের ওপর হাত তুলতে যাবে কখন? লাইব্রেরিয়ান তার সীমা অতিক্রম করার পর অবশ্যই। ... (সে) যেসব বলেছে এতদিন এবং চাকরি যাওয়ার পরেও বলে চলেছে। ... আমার বিচারে যেটা ঠিক সেটাই করেছি, প্রতিদানে আমার ওপরই অবিচার হয়েছে বলে আমি মনে করি।’ তবে প্রজ্ঞার সঙ্গে আলাদাভাবে কথা বলা সম্ভব হয়নি।
মনোয়ারা সিকদার মেডিক্যাল কলেজের নিয়োগ প্রক্রিয়া, ভর্তি প্রক্রিয়া এবং চাকরিচ্যুতির পর পাওনাদি না পাওয়া বিষয়েও মুখ খুলেছেন প্রজ্ঞা। তিনি বলেন, প্রথম মাসের বেতন আপনি পাবেন না, সেটা এফডিআর বলে কেটে নেওয়া হবে। বলা হবে চাকরি ছাড়ার সময় দিয়ে দেওয়া হবে। যে কোনও সময় আপনি 'টার্মিনেটেড' হতে পারেন। জুন মাসের ৮ তারিখ টার্মিনেট করলে মে মাসের পুরো বেতন কর্তৃপক্ষ রেখে দেবে। একজনও স্থায়ী প্রফেসরবিহীন এই মেডিক্যাল কলেজ চলেছে। বিভিন্ন সরকারি/বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজের সম্মানীয় স্থায়ী প্রফেসরগণ সপ্তাহে এক-দুই দিন করে নীরবে নিভৃতে শরীয়তপুর গিয়ে ক্লাস নিয়ে নিয়ে কলেজের প্রাণ টিকিয়ে রেখেছেন। ... ৯ মাসের চাকরি জীবনে আমি একজন রোগীও ভর্তি থাকতে দেখিনি। এই হাসপাতালের ওপর ভর করে কলেজ দাঁড়াবে, নাকি কলেজের ভিত্তিতে হাসপাতাল- কর্তৃপক্ষের নিজেদেরই সন্দেহ আছে।
অধ্যক্ষ ড. আবুল হাসনাত হাফিজ উদ্দিন আহমেদের কাছে বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে গেলে তিনি এ বিষয়ে কোনও কথা বলতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বলেন, প্রতিষ্ঠানের কারোর বিরুদ্ধে কর্তৃপক্ষ কোনও ব্যবস্থা নিলে সেটা নিয়ে কোনও কথা বলা যাবে না, কারণ এটা তার সম্মানের সঙ্গে জড়িত, বিষয়টা কনফিডেন্সিয়াল।
তিনি আরও বলেন, আমার মনে হয় না এসব নিয়ে আমাদের পক্ষ থেকে বলার কিছু আছে।
প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক পুষ্পেন রায় ঘটনাটি স্বীকার করে বলেন, কলেজের ব্যবস্থাপনা কমিটি যেটা ভালো মনে করেছে সেটাই করেছে। এখানে আমার কিছু বলার নেই। তবে সেই শিক্ষক লাইব্রেরিয়ানকে না মেরে লিখিত অভিযোগ করতে পারতেন।
যিনি হেনস্তার শিকার হয়েছেন তাকেই উল্টো চাকরিচ্যুত করা যায় কিনা প্রশ্নে তিনি বলেন, আমার মনে হয় এসব নিয়ে কথা না বলাই ভালো। তার বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি হয়েছে। সবাই যেটা ঠিক মনে করেছে সেটাই হয়েছে।
এজে/








