প্রশাসক থাকাকালে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে যেভাবে চলতো, এক বছর আগে দুজন নতুন মেয়র আসার পরও সেই একইভাবে চলছে নগরীর রাস্তা মেরামত ও উন্নয়ন কাজ। নির্বাচিত প্রতিনিধিদের তৎপরতা বাড়লেও কাজের গতি বাড়েনি। কোনও নির্দেশনা মানছেন না প্রভাবশালী ঠিকাদাররা। সেই পুরনো স্টাইলেই তারা মাসের পর মাস মানুষকে ভুগিয়ে নিজেদের সুবিধা মতো কাজ করছেন।
সরকার দলীয় প্রভাবশালী ঠিকাদার যথারীতি টেন্ডার বাগিয়ে নেওয়ার পর কাজ করছেন অত্যন্ত ধীর গতিতে। ফলে জানুয়ারি মাসে শুরু হওয়া অনেক কাজ এখন শেষই হয়নি। সঠিক নজরদারি না থাকায় কাজের মানও ভালো না। ঠিকাদার কোনোরকম কাজ করে বেশি মুনাফা লাভে ব্যস্ত বলে অভিযোগ করেছেন বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা।
সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের যাত্রাবাড়ী শহীদ ফারুক সড়কের উন্নয়ন কাজ চলছে প্রায় ছয় মাস হলো। কাজের সুবিধার্থে ঠিকাদার সড়কের একপাশ খুঁড়ে বিশাল গর্ত করে রেখেছেন। কোথাও ভরাট হয়েছে, কোথাও হয়নি। কোথাও আবার কিছু সুরকি ফেলে রাখা হয়েছে। কিন্তু কাজ আর শেষ হয় না। স্থানীয় বাসিন্দা মো. কুদ্দুস বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, মাঝে-মধ্যে রোলার এনে সুরকি বালির মিশ্রণ সমান করা হয়। এর ফলে মানুষের চরম দুর্ভোগ হলেও ঠিকাদারের সেদিকে খেয়াল নেই।
যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তা থেকে সায়েদাবাদ টার্মিনাল পর্যন্ত সড়কের কাজ গত ছয় মাসেও শেষ হয়নি। যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তা থেকে কাজলা পর্যন্ত সড়কের বড় বড় গর্ত এখনও ভরাট হয়নি। একই অবস্থা চলছে নারিন্দার শাহসাহেব লেনে। কয়েক মাস আগে ঠিকাদার এখানে বড় বড় গর্ত করে ড্রেনেজ পাইপ লাইন স্থাপন করেছেন। এরপর মেনহোল করেছেন। কিন্তু সড়কটিকে চলাচলের যোগ্য করতে জোর তৎপরতা নেই।
৫১ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর কাজী হাবিবুর রহমান বলেন, আমরা চেষ্টা করছি ঠিকাদাররা যেন দ্রুত কাজ শেষ করতে পারে। কিন্তু মাঝে মধ্যে বৃষ্টি হওয়ায় কাজ বিঘ্নিত হচ্ছে।
আর কে মিশন রোডে সেন্ট্রাল উইমেন্স কলেজের কাছে একটি রাস্তা জজ গলিতে মেরামত কাজ শুরু হয় প্রায় তিন মাস আগে। তখন রাস্তাটি দিয়ে যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়। এরপর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও গলি পুরোপুরি মেরামত হয়নি। বকশিবাজার প্রধান সড়ক মেরামতের নামে মাসের পর মাস সময়ক্ষেপণ করা হয়। বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে স্টেডিয়ামের বিপরীতে প্রধানসড়ক কেটে উত্তোলিত মাটি সড়কের ওপরই ফেলে রাখা হয়েছে দীর্ঘদিন।
উত্তরা আবাসিক এলাকার দশ নম্বর সেক্টরের অধিকাংশ রাস্তার অবস্থা খুবই খারাপ। সেক্টরের রানাভোলা অ্যাভিনিউ চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। কিছুদিন আগে সড়কটিতে ড্রেনেজ লাইন স্থাপন হলে মেরামত সম্পন্ন করা হয়নি।
প্রগতি সরণি, বারিধারা জে-ব্লক, শাহজাদপুর, উত্তর বাড্ডা ও ভাটারার জলাবদ্ধতা নিরসনে দুই মাসেরও বেশি সময় আগে কাজ শুরু করে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রভাবশালী ঠিকাদার। এ কাজের নামে খোঁড়াখুঁড়ি করে মানুষের ভোগান্তি বাড়লেও কাজ আর শেষ হয়নি। ফলে দুর্ভোগের মধ্যে দিয়েই লোকজনকে চলাফেরা করতে হচ্ছে। এমনকি গুলশান আবাসিক এলাকার বহু রাস্তার কাজও চলছে ঢিমেতালে।
জানা গেছে, দুই সিটি করপোরেশনের অধীন চার শতাধিক রাস্তার কাজ চলছে। এগুলোর বেশির ভাগই বেহাল রয়েছে। রাস্তাগুলো নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের দুর্ভোগ হলে দ্রুত মেরামতের কোনও উদ্যোগ নেই। এমনকি কর্মকর্তাদের মতে, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বার বার তাগিদ দিলেও ঠিকাদাররা তা গ্রাহ্য করছেন না। তারা তাদের মতো করেই পুরানো স্টাইলে উন্নয়ন কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
যাত্রাবাড়ীর বাসিন্দা মো. কুদ্দুস বলেন, বিভিন্ন নামে নেওয়া হলেও কাজগুলো কয়েকজন ঠিকাদারের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। কর্তৃপক্ষ যেহেতু প্রায় একই সময়ে কার্যাদেশ দিয়ে কাজ সম্পন্ন করার সময় বেঁধে দিয়েছে, সেহেতু ঠিকাদার কাজ শুরু করেছেন ঠিকই, কিন্তু শেষ করতে পারছেন না।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. নূরুল আমীন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, খোঁড়া রাস্তা তাড়াতাড়ি ভরাট করে মেরামত করা হলে কোয়ালিটি ভালো হয় না। বৃষ্টি হলে রাস্তার ওই অংশ দেবে যায়। এ কারণে কোথাও কোথাও মাটি দাবতে একটু সময় দেওয়ায় কাজ শেষ হতে দেরি হচ্ছে।
/ওএফ / এএইচ /
আরও পড়ুন:
মেয়র হানিফ ফ্লাইওভারের নিচে অভিশপ্ত সড়ক!








