হামলাকারীদের সংখ্যা ছিল ৭/৮ জন। তাদের বয়স ২০ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে। তাদের কারও পরনে প্যান্ট শার্ট, কারোর ছিল প্যান্টের সঙ্গে টিশার্ট। প্রত্যেকের পিঠে ছিল ব্যাগ, হাতে ছিল অস্ত্র। শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে হঠাৎ করে ঢুকেই এলোপাতাড়ি গুলি চালাতে শুরু করে তারা। তিন তলা বেকারির ছাদে উঠে লাফিয়ে ও দেয়াল টপকে স্টাফদের কয়েকজন পালিয়ে আসতে সক্ষম হন। তাদেরই কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।
আর্টিজানের হিসাবরক্ষণ শাখায় কাজ করেন সিজান চৌধুরী নামের একজন। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, হামলার সময় তিনি নিচ তলায় ছিলেন। ওই সময় বেকারির তখনকার শিফটের প্রায় ২৫ জন স্টাফ ও ২০ জনের মতো কাস্টমার ছিলেন। কাস্টমারদের মধ্যে প্রায় ১৫ জন বিদেশি ও পাঁচ থেকে ছয়জনের মতো বাংলাদেশি ছিলেন।
সেজান বলেন, আমি তাদের হাতে অস্ত্র দেখেছি। আমার অন্য সহকর্মীরা জানিয়েছেন হামলাকারীর সংখ্যা সাত থেকে আট জনের মতো হবে। তাদের সবার বয়সই হবে ২০ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে। তাদের কারও পরনে প্যান্ট শার্ট, কারোর ছিল প্যান্টের সঙ্গে টিশার্ট। প্রত্যেকের পিঠে ছিল ব্যাগ, হাতে ছিল অস্ত্র। বেকারিতে ঢুকেই তারা এলোপাতাড়ি গুলি শুরু করে। আমি নিচতলায় ছিলাম। পেছনে দরজা দিয়ে বের হয়ে দেয়াল টপকে পালিয়ে আসতে পেরেছি। হামলা শুরুর পর পালাতে ২০ মিনিটের মতো লেগেছে আমার।
মইনুদ্দিন নামের আরেক স্টাফ জানান, হামলার সময় তিনি নিচ তলাতেই ছিলেন। সামনের দরজা দিয়ে ঢোকে হামলাকারীরা। তাদের পরনে ছিল শার্ট ও টিশার্ট। পিঠে ছিল ব্যাগ এবং হাতে অস্ত্র। কেই গুলি চালাতে শুরু করে। গুলি শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তারা প্রাণ বাঁচানোর জন্য দৌড় দেন। তাদের কয়েকজন তিন তলার ছাদে উঠে লাফ দেন। এর মধ্যে কয়েকজনের হাত-পা ভেঙেছে এবং ছিলে-কেটে গেছে।
তিনি বলেন, ‘গুলি শুরু হওয়ার পরই ভয়ে পালাই। হামলাকারীদের দিয়ে আর খেয়াল করার সুযোগ ছিল না। ভয়ঙ্কর অবস্থা তৈরি হয়।’
এপিএইচ/
আরও পড়ুন:
হদিস মিলছে না ৭ জাপানির
গুলশান হামলা: শ্রীলঙ্কার দুই নাগরিক জীবিত উদ্ধার








