যুক্তরাষ্ট্র পররাষ্ট্র দফতরের অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি নিশা দেশাই বিসওয়াল আগামীকাল রবিবার দুইদিনের সফরে ঢাকায় আসছেন। দুই মাসের ব্যবধানে ঢাকায় এটি তার দ্বিতীয় সফর। সরকারের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
দেশে জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহে দুটি সন্ত্রাসী হামলা ঘটার প্রেক্ষাপটে ধারণা করা হচ্ছে, নিশার সফরে নিরাপত্তা ইস্যুটিই বেশি গুরুত্ব পাবে।
এর আগে এপ্রিল মাসের শেষ সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের সাবেক কর্মকর্তা ও ইউএসএআইজি'র বাংলাদেশ অফিসের কর্মকর্তা জুলহাজ মান্নানসহ দু’জনকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনার পর মে মাসে ঢাকা সফর করেন নিশা। সেসময়েও নিরাপত্তা ইস্যু নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে কথা বলেন তিনি।
সরকারের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, রবিবার ঢাকায় পা রাখার পর পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী এবং পররাষ্ট্র সচিব এম শহিদুল হকের সঙ্গে বৈঠক করবেন নিশা। সোমবার তিনি বৈঠক করবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের সঙ্গে। এছাড়াও সমাজের বিভিন্ন স্তরের প্রতিনিধিদের সঙ্গে তার বৈঠকের কথা রয়েছে।
গত ১ জুলাই গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় ১ জন বাংলাদেশ আমেরিকানসহ ১৮ জন বিদেশি এবং ৪ জন বাংলাদেশি নিহত হন। এ ঘটনার রেশ মিলিয়ে যাওয়ার আগেই বৃহস্পতিবার পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিনে শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে ঈদের জামাত চলাকালে ঈদগাহের অদূরে পৃথক সন্ত্রাসী হামলায় দুই পুলিশসহ ৪ জন নিহত হন। এ ঘটনার পরপরই যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের জন্য বাংলাদেশে ভ্রমণ সতর্কতা (ট্রাভেল অ্যালার্ট) নোটিশ জারি করে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। পরে আজ শুক্রবার তা বাড়িয়ে বাংলাদেশ ভ্রমণে সর্বোচ্চ সতর্কতা নোটিশ (ট্রাভেল ওয়ার্নিং) জারি করে দেশটি।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা শুক্রবার জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিন জো আবের কাছে এক চিঠি লিখে বাংলাদেশে সাতজন জাপানি নিহত হওয়ার ঘটনায় শোক প্রকাশ করেন। ফলে বাংলাদেশে জঙ্গি হামলার ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্র ভীষণ গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে বলেই কূটনীতিকরা ভাবছেন।
উল্লেখ্য, গুলশান হামলায় ঘটনায় ৩ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার পক্ষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি টেলিফোনে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে। ওই ফোনালাপে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবিরোধী অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে গুলশান হামলায় দায়ীদের ধরতে ও ভবিষ্যতে বাংলাদেশে সন্ত্রাসী তৎপরতা বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে সহায়তা করতে চায় বলে শেখ হাসিনাকে জানিয়েছেন জন কেরি।
কেরি তার ফোনালাপে বাংলাদেশ সরকারকে তদন্তের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখার জন্য উৎসাহিত করেন এবং প্রয়োজনে এফবিআইসহ যুক্তরাষ্ট্রের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর মাধ্যমে সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দেন।
নিশা দেশাইয়ের সফরে এসব বিষয় উঠে আসতে পারে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
/এসএসজেড/টিএন/








