গত ১০ জুলাই দুপুর ২ টায় একজন নারী ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের নবজাতক ওয়ার্ডে কোলে করে নিয়ে আসেন সদ্য ভূমিষ্ট হওয়া একটি শিশুকে। সঙ্গে পুলিশ। ভর্তি খাতায় ‘আননোন’ লিখে শিশুটিকে সেদিন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেই থেকে শিশুটি এখানেই আছে। চিকিৎসা চলছে তার। জ্বর, জন্ডিস, ব্লাড ইনফেকশনে আক্রান্ত শিশুটির বাবা-মায়ের খোঁজ চলছে সর্বত্র,কিন্তু কেউ দায়িত্ব নিয়ে এগিয়ে আসেননি এখনও।
বুধবার হাসপাতালে গিয়ে জানা যায়,সেদিন বাড্ডা থেকে একজন নারী শিশুটিকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন।সঙ্গে ছিল বাড্ডা থানার পুলিশ। শিশুটিকে ভর্তি করার পরদিন শাহবাগ থানায় হাসপাতালের পক্ষে নবজাতক ওয়ার্ড মাস্টার জিল্লুর রহমান একটি জিডি করেন।
ভর্তির পর আমরা শিশুটিকে নবজাতক ওয়ার্ডে রেখে দেই,এখন তার চিকিৎসা চলছে, আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি তাকে সুস্থ করে তুলতে। কিন্তু এখনও শিশুটি শঙ্কামুক্ত নয়-বলছিলেন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের নবজাতক বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা.শাহরিয়ার মোরশেদ।
তিনি আরও বলেন, আমাদের যতটুকু সার্পোট দেওয়ার আমরা দিচ্ছি, কিন্তু তাকে এখনও ‘শঙ্কামুক্ত’ বলতে পারছি না। নবজাতক বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক মনীষা ব্যানার্জীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি মেডিক্যাল বোর্ডও গঠন করা হয়েছে শিশুটির জন্য।
অধ্যাপক ডা. মনীষা ব্যানার্জী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ছেলে শিশুটির বয়স আজ চারদিন হবে বলে অনুমান করছি। তার ওজন ২ দশমিক ৮ কেজি। ধারণা করছি, জন্মের সময় সে সুস্থই ছিল। কিন্তু তাকে ডাস্টবিনে ফেলে রাখা হয়েছিল পলিথিন দিয়ে মুড়িয়ে। নাড়ীও কাটা ছিল। যার কারণে তার ইনফেকশন হয়ে গেছে। এরই ধারাবাহিকতায় তার জ্বর, জন্ডিস এবং শ্বাসকষ্ট হয়েছে। জন্ডিসের জন্য তাকে এখন ফটোথেরাপি দেওয়া হচ্ছে বলেন মনীষা ব্যানার্জী। তবে শিশুটি সুস্থ হওয়ার পর তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের নিয়ম অনুযায়ী সমাজ সেবা অধিদফতরের অধীনে থাকা যে কোনও একটি সরকারি শিশু সদনে পাঠানো হবে।
শিশুটিকে উদ্ধারকারী বাড্ডা থানা সাব ইন্সপেকটর মোহাম্মদ নওশাদ আলী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, বাড্ডা এলাকার পোস্ট অফিস গলির ভেতর এক ডাস্টবিনে একটি শিশু পাওয়া গেছে বলে স্থানীয়রা থানায় খবর দেয়। আমি গিয়ে দেখি শিশুটিকে কোলে নিয়ে একজন নারী বসে আছেন। তার কাছ থেকেই শিশুটিকে উদ্ধার করি। একটি প্লাস্টিকের শপিং ব্যাগে শিশুটি মোড়ানো ছিল। ওই নারী এবং স্থানীয় মানুষের কাছে শুনেছি, শিশুটির কান্না শুনে লোকজন এগিয়ে আসে। পরে ওই নারী তাকে তুলে নেয়। তাকে নিয়েই আমরা হাসপাতালে এসে শিশুটিকে ভর্তি করি।
বাড্ডা এলাকাতে শিশুটির খোঁজ পেতে থানা থেকে মাইকিং করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, কে বা কারা শিশুটিকে এভাবে ফেলে গেছে সে সর্ম্পকে এখনও কিছুই জানতে পারিনি।আমাদের কাছে কেউ এসে এখনও শিশুটির অভিভাবকত্ব দাবিও করেনি। বাবা-মা না পাওয়া গেলে সরকারি কোনও শিশুসদনে পাঠানো হবে শিশুটিকে।
আরও পড়তে পারেন: জঙ্গিবাদবিরোধী ‘ফর্মুলা’ নিয়ে আসছেন খালেদা জিয়া!
আরও পড়ুন: মুখের কথায় ৯ দিনের মেয়র!
/জেএ/এমএসএম /








