মঙ্গোলিয়ার রাজধানী উলানবাটোরে ১১তম এশিয়া-ইউরোপ শীর্ষ সম্মেলনের (আসেম) সাইড লাইনে জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের সঙ্গে বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আবেকে তিনি জানিয়েছেন, বাংলাদেশে সাম্প্রতিক জঙ্গি হামলার শেকড় খুঁজে বের করার ক্ষেত্রে তার সরকার উদ্যোগ নিয়েছে এবং দেশে ইতোমধ্যেই সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জাতীয় ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ১ জুলাই গুলশানে হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলায় নিহত ১৭ বিদেশির মধ্যে ৭ জনই জাপানি। তারা বাংলাদেশে মেট্রোরেল প্রকল্পে কাজ করছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জাতীয় ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পাশাপাশি দেশের চিন্তাশীল জনগোষ্ঠী এই অবস্থা থেকে দ্রুত উত্তরণে খুবই সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে।
বৈঠকের পরে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের বলেন, জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে বৈঠকে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের যুদ্ধে তার একাত্মতার দৃঢ় সংকল্প ব্যক্ত করেন।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গুলশান হামলায় জাপানি নাগরিক নিহত হওয়ায় তার গভীর শোকের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।
প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের প্রতি তার পূর্ণ সমর্থনের কথা উল্লেখ করে বাংলাদেশে চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলো অব্যাহত রাখাসহ বাংলাদেশে জঙ্গি হামলার নেপথ্য বিষয় নিয়ে তথ্য আদান-প্রদানে পূর্ণ সহযোগিতার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীকে আশ্বস্ত করেন।
তিনি এ সময় গুলশানের হামলার হতাহতদের স্বজনদের প্রতি অকুণ্ঠ সহানুভূতি এবং একাত্মতা প্রকাশ করায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।
গুলশানের জঘণ্য হামলার তীব্র নিন্দা করে আবে বলেন, এই আসেম সম্মেলনের মাধ্যমেই সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে বিশ্বে এই কঠোর বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া হবে যে, আমরা কোনও ধরনের সন্ত্রাসকে সহ্য করব না এবং আমরা সম্মিলিত কণ্ঠেই সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাবো।
শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ ও জাপানসহ উন্নয়ন সহযোগী এবং বন্ধুভাবাপন্ন বেশ কয়েকটি দেশের নাগরিক গুলশানের ঘটনায় প্রাণ হারান।
তিনি বলেন, আমরা মনে করি, জাপান আমাদের পরীক্ষিত বন্ধু এবং উন্নয়ন সহযোগী। সুতরাং জাপানের নাগরিক যারা বাংলাদেশের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে কাজ করছে তাদেরসহ জনগণকে নিরাপদে রাখা ও তাদের সার্বিক নিরাপত্তা বিধানে সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছি।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. আবুল কালাম আজাদ, পররাষ্ট্র সচিব মো. শহিদুল হক, মঙ্গোলিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ফজলুল করিম, বেলজিয়াম এবং ইইউতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ইসমত জাহান এ সময় উপস্থিত ছিলেন। সূত্র: বাসস।
/এফএস/এজে/








