রাজধানীর গুলশান ও কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় সন্ত্রাসী হামলার জন্য বিএনপি-জামায়াতকে দায়ী করেছেন মহাজোটের সংসদ সদস্যরা। তারা বলেন, আগুন সন্ত্রাসে ব্যর্থ হয়ে এখন বিএনপি-জামায়াত গুপ্ত হত্যা শুরু করেছে। তাদের লক্ষ্য হচ্ছে অস্বাভাবিক পরিবেশ তৈরি করে সরকার উৎখাত করা। জঙ্গিদের আশ্রয়-প্রশ্রয় ও অর্থ দাতাদের সঙ্গে কোনও ধরণের ঐক্য নয়।
মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে গুলশান, শোলাকিয়া, সৌদি আরবের মদিনা, ফ্রান্সের নিস শহরে সন্ত্রাসী হামলা এবং বিশ্বব্যাপী সংঘটিত জঙ্গি হামলার ঘটনায় নিন্দা প্রস্তাবের ওপর সাধারণ আলোচনায় তারা এ কথা বলেন।
আওয়ামী লীগের সিনিয়র সংসদ সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম ১৪৭ বিধির এই সাধারণ আলোচনার প্রস্তাবটি আনেন।
প্রস্তাবের ওপর বক্তব্যকালে শেখ সেলিম বলেন, ‘ঘটনার পরে সারা বিশ্ব যখন নিন্দা জানিয়েছে। খালেদা জিয়া ঘটনার নিন্দা না জানিয়ে সরকারে পদত্যাগ চেয়েছেন।’
সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে বিএনপি ঐক্যের আহ্বান নাকচ করে তিনি বলেন, বিএনপি-জামাত নব্য মুসলিম লীগ। এরা জঙ্গি। এই জঙ্গিদের সঙ্গে কোনও ঐক্য হতে পারে না। বিএনপি আর জামায়াতের সঙ্গে কোনও পার্থক্য নেই।
জাসদ সভাপতি তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু হামলার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ‘এগুলো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। ঘটনার পেছনে ঘটনা রয়েছে। বিডিআর হত্যা, চাঁদে সাঈদী, আগুন সন্ত্রাসের ধারাবাহিকতায় শোলাকিয়া এবং গুলশানের ঘটনা। অতীতের সকল ঘটনার সঙ্গে শোলাকিয়া ও গুলশানের ঘটনা একই সূত্রে গাঁথা।’
আওয়ামী লীগের সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত ঐক্য প্রসঙ্গে বলেন, ‘পানির সঙ্গে তেলের ঐক্য হয় না। তুমি মানুষ মারবা আমি বাঁচাবো, তা হলে ঐক্য হয়। জামাত-শিবিরকে বাদ দেন। এরা সন্ত্রাসী। বিএনপির মধ্যেও দু’ভাগ হয়ে গেছে। একটি অংশ জামায়াতকে বাদ দিয়ে মূল ধারায় আসতে চায়।’
সরকার দলীয় সংসদ সদস্য ফারুক খান বলেন, ‘বাংলাদেশে সন্ত্রাসবাদের মূল হোতা কারা আমরা জানি। বিএনপি-জামায়াতের নেতৃত্বের ২০ দল সন্ত্রাসবাদের প্রবক্তা।’
দীপু মনি বলেন, ‘বিএনপির নেতারা বলছেন, তাদের নেতাদের নাকি গুম করা হচ্ছে। তাহলে কী তথাকথিত এই গুম হওয়া নেতারাই জঙ্গি হয়ে গেছেন?’
জাতীয় পার্টির জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু গুলশান সঙ্কটের জন্য সরকারকে দায়ী করেন বলেন, ‘জানমালের নিরাপত্তা দেওয়ার দায়িত্ব সরকারের। ঘটনা যারাই করে থাকুক না কেনো, দায় সরকারকে নিতেই হবে।’
বিএনএফের এসএম আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘সংসদের প্রতিনিধিত্বমূলক দলগুলোকে নিয়ে সন্ত্রাসবিরোধী সংসদ কমিটি গঠন করতে হবে।’
জাসদের মঈন উদ্দিন খান বাদল বলেন, ‘আমাদের এখানে জঙ্গি তৎপরতার মূলে রয়েছে জামায়াত। আর তাদের মাথার ওপর ছাতা ধরে আছে বিএনপি ও খালেদা জিয়া। খুনীদের সঙ্গে কোনও ঐক্য হতে পারে না। ঐক্য যেটা হওয়ার সেটা হয়ে গেছে।’
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘দেশে কিছু একটা হলেই টুকটাক করে নিশা দেশাইকে পাঠিয়ে দেন। ফ্রান্সের নিস শহরে কি নিসা দেশাইকে পাঠিয়েছেন? বাংলাদেশে অযাচিত ছবক দিতে আসবেন না।’
জাসদের কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, ‘টুটোফুটো ঘটনায় সরকারের পরিবর্তন করা যায় না। কিন্তু দেশের অনেক ক্ষতি করা যায়।’
আলোচনায় অংশ নিয়ে আরও বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের আব্দুল মতিন খসরু, জাহাঙ্গীর কবীর নানক, আফম বাহাউদ্দিন নাসিম, আব্দুল মান্নান, হাছান মাহমুদ, হুইপ শহীদুজ্জামান সরকার, ফজিলাতুন নেসা বাপ্পী, স্বতন্ত্র সদস্য তাহজীব আলম সিদ্দিকী, তরিকত ফেডারেশনের সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী প্রমুখ।
/ইএইচএস/এনএস/
আরও পড়ুন: গুলশান ও শোলাকিয়ায় হামলার তদন্তে বিশেষ টিম: সংসদে প্রধানমন্ত্রী








