মায়ের পেটে গুলিবিদ্ধ সুরাইয়ার প্রথম জন্মদিন ২৩ জুলাই (শনিবার)।আর যাদের অক্লান্ত এবং আন্তরিক চেষ্টায় গুলিবিদ্ধ সুরাইয়া সুস্থ হয়ে মা-বাবার কোলে ফিরেছে, সেই চিকিৎসকরা উদযাপন করছেন সুরাইয়ার প্রথম জন্মবার্ষিকী।
সুরাইয়ার চিকিৎসায় গঠিত মেডিক্যাল বোর্ডে থাকা চিকিৎসকরা সুরাইয়ার বিভিন্ন ছবি দিয়ে স্মরণ করেছেন তাকে। সেখানে তারা লিখেছেন, সুরাইয়ার জন্য ভালোবাসা, প্রাথর্না- সুরাইয়া সুস্থ হয়ে বড় হোক।
২০১৫ সালের ২৩ জুলাই যুবলীগের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মাগুরা শহরের দোয়ারপাড় এলাকায় সংঘর্ষ চলাকালে মায়ের পেটে থাকা অবস্থায় গুলিবিদ্ধ হয় সুরাইয়া।ওইদিন রাতেই মাগুরা সদর হাসপাতালে অপারেশন হয় সুরাইয়ার মা নাজমা বেগমের।
সন্তান প্রসবের পর দেখা যায়, পেটে থাকা শিশুটিও গুলিবিদ্ধ হয়েছে। দুইদিন পর মা নাজমা বেগম এবং সুরাইয়াকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে সুরাইয়ার চিকিৎসায় গঠিত হয় ১০ সদস্যের মেডিক্যাল বোর্ড।
চিকিৎসকদের নিবিড় পরিচর্যায় থাকা সুরাইয়াকে বেবি অব নাজমা নামেই ভর্তি করা হয় হাসপাতালে।নবজাতক বিভাগের আইসিইউতে (এনআইসিইউ) ২৪ দিন চিকিৎসা নেওয়ার পর পর একটু আশঙ্কামুক্ত হলে মায়ের কোলে তাকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়,নাম রাখা হয় ‘সুরাইয়া’।
এরপর দীর্ঘ ২৬ দিন চিকিৎসা করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের চিকিৎসকরা তাকে সুস্থ করে তোলেন। গত বছরের ২১ আগস্ট সুরাইয়া এবং তার মা নাজমা বেগমকে ছাড়পত্র দেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের শিশু সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক আব্দুল হানিফ টাবলু বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, সুরাইয়ার চিকিৎসাটা আমাদের জন্য খুবই চ্যালেঞ্জিং ছিল। কারণ, এ ধরনের ঘটনার মুখোমুখি এই প্রথম হয়েছি আমরা। আমাদের টিমওয়ার্ক খুবই ভালো ছিল। সৃষ্টিকর্তার রহমতে মেডিক্যাল বোর্ডসহ সবার আন্তরিক চেষ্টা এবং অক্লান্ত পরিশ্রমে আমরা সুরাইয়াকে সুস্থ করে বাবা-মায়ের কাছে ফেরত দিতে পেরেছি।
মায়ের পেটে গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনা পৃথিবীতে হাতেগোনা আরও কয়েকটি ঘটেছে জানিয়ে আব্দুল হানিফ টাবলু বলেন, এটা শুধু বাংলাদেশেই নয়, পৃথিবীতেও এই ঘটনা প্রথম। ইন্টারনেটের মাধ্যমে আমরা জানতে পেরেছি, মায়ের পেটে গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনা দুই/একটি হলেও তারা বাঁচেনি। মায়ের পেটে গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় বেঁচে যাওয়া একমাত্র শিশু সুরাইয়াই।
শিশু সার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. কানিজ হাসিনা শিউলি বলেন, আমরা প্রথমদিন থেকেই শিশুটির জন্য খুব সতর্ক ছিলাম। আমাদের টিমের সবাইসহ হাসপাতালের অন্যান্য যারা রয়েছেন, তারাও খুব সচেতন ছিলেন শিশুটির বিষয়ে। ওর আজকে প্রথম জন্মবার্ষিকী আমার নিজেরই খুব ভালো লাগছে, আনন্দ হচ্ছে। সুস্থ হয়ে শিশুটা বেঁচে থাকুক, এটাই কামনা করি।
সুরাইয়ার বাবা বাচ্চু ভূঁইয়া বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আপনারা সহযোগিতা না করলে আমি মেয়েকে ফিরে পাইতাম না। আর ঢাকা মেডিক্যালের ডাক্তারদের কাছে আমার ঋণ জীবন দিয়েও শোধ করতে পারবো না।
তিনি বলেন, তবে সুরাইয়ার ডানচোখ নষ্ট হয়ে গেছে। চোখের চিকিৎসার জন্য মাঝে মাঝেই ঢাকায় আসতে হয়। জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে সুরাইয়ার চোখের চিকিৎসা চলছে। পাশাপাশি ডান হাতেও শক্তি কম। এ হাত দিয়ে ও কিছু ধরতে পারে না। তবে মেয়েকে যে ‘ফিরত পাইছি’ এতেই হাজার শুকরিয়া বলেন, বাচ্চু ভূঁইয়া।
/জেএ/এবি/
আরও পড়ুন-








