ফেসবুকে আইএসের বাংলা হ্যাশট্যাগ তাদের আন্তর্জাতিক হ্যাশট্যাগের চেয়ে সংখ্যাগত দিক থেকে সামনে এগিয়ে গেছে।আইএসের বাংলা হ্যাশট্যাগের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় আশঙ্কায় পড়েছেন জঙ্গিবাদ নিয়ে যারা গবেষণা করছেন তারা।
তারা বলছেন,ভয়ের কারণ, কেননা যারা এই সব কনটেন্ট দেখেন বা দেখতে আগ্রহী হন বা প্রকাশ্যে এগুলো খোঁজ করেন তাদের অধিকাংশই এসবের প্রতি একটা ‘সমর্থনসূচক মনোভাব’ থাকে।
জঙ্গিবাদ নিয়ে ও তাদের অনলাইন কার্যক্রম নিয়ে কাজ করছেন যারা তাদের একজন নির্ঝর মজুমদার। তার বিশ্লেষণে বেরিয়ে এসেছে, ফেসবুকে আইএসের প্রধান বাংলা হ্যাশট্যাগটার গতকাল রবিবার বাংলাদেশ সময় রাত আটটা পর্যন্ত ‘টকিং অ্যাবাউট’ ছিল ৯৩ হাজারের বেশি মানুষ, যেখানে তাদের ইন্টারন্যাশনাল হ্যাশট্যাগটার ক্ষেত্রে যেখানে সর্বমোট ‘টকিং অ্যাবাউট’ ৯০ হাজারের কিছু বেশি।
কোনও অ্যাকাউন্ট বা পেজ থেকে যখন কোনও বিষয়ের পেজে লাইক দেওয়া হয়,পোস্ট দেওয়া হয়, সেই পোস্টগুলোতে লাইক/কমেন্ট/শেয়ার করা হয়, সেই বিষয়টি মেনশন করা হয়, কাউকে সে ব্যাপারে ট্যাগ করা হয় অর্থাৎ সেই নির্দিষ্ট বিষয়ে যত ধরনের অ্যাক্টিভিটি হয়,তার প্রায় সব কিছু মিলিয়ে একটি হিসাব হলো এই- ‘টকিং অ্যাবাউট’।
গবেষকরা বলছেন, জঙ্গিবাদের অনলাইন প্রচারণা থামাতে সমন্বিত একটা নীতিমালা দরকার এবং সেগুলো বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগুলোকে কাজে লাগানোর এখনই সময়। ফেসবুক খুবই নিষ্ঠুরতার সঙ্গে নির্লিপ্ত থেকে শিশুদের ভয়ঙ্কর বিপদের মুখে ফেলছে উল্লেখ করে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফেসবুকের উচিত অটোমেটিক্যালি এই ধরনের হ্যাশট্যাগগুলো ব্লক করা। কিন্তু তারা সেটি করছে না।
জঙ্গিবাদ নিয়ে গবেষণা করছেন নির্ঝর মজুমদার। তিনি বলেন, এরা বন্ধ করা ফেসবুক পেজ, ওয়েবসাইট, নানা কনটেন্ট ফাইল শেয়ার সাইটগুলোতে আপলোড করে দেয় এবং পরে সোস্যাল মিডিয়াতে এই হ্যাশট্যাগগুলোসহ সেগুলো পোস্ট করে। ফলে, খুব সহজে ও দ্রুতই এই কনটেন্ট, লিঙ্ক বা সাইটগুলো ফের ছড়িয়ে পড়ে। এর একটি সমাধান হলো, এই হ্যাশট্যাগগুলো যাতে পাবলিক সার্চে ভিজিবল না হয়, সে জন্য সোস্যাল মিডিয়াগুলোকে অফিশিয়ালি জানানো।
আশঙ্কার কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, যারা এই সব কনটেন্ট দেখেন, বা দেখতে আগ্রহী হন বা প্রকাশ্যে এগুলো খোঁজ করেন তাদের অধিকাংশই এসবের প্রতি একটা সমর্থনসূচক মনোভাব থাকে।
আইসিস নিয়ে এই মুহূর্তে আলাপ করছে ৯৩ হাজার ৭শ ৭০ জন। সবাই যে আইসিসের প্রশংসা করছেন সেটি নাও হতে পারে।
এ বিষয়ে ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস স্ট্র্যাটেজি ফোরামের সদস্য ওমর শেহাব বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ফেসবুকের উচিত অটোমেটিক্যালি এই ধরনের হ্যাশট্যাগগুলো ব্লক করা। কিন্তু তারা সেটি করছে না। আমি যদ্দুর জানি, বাংলাদেশ পুলিশের কাছে এটি মনিটরিংয়ের কোনও টুল নেই।
তিনি বলেন, ফেসবুক ধরতে পারতো যদি তারা বাংলা মেশিন ট্রান্সলেশনে বিনিয়োগ করতো। কিন্তু তারা বাংলাদেশের বাজার থেকে লাভ করলেও একই বাজারের ভোক্তাদের জন্য বিনিয়োগ করতে চায় না। ফেসবুকে শিশুবয়স থেকে যে কেউই ঢুকতে পারে। আমরা শিশুদের দিয়ে কখনও ভারী কাজ করাই না। কারণ, এতে তাদের ক্ষতি হওয়ার ঝুঁকি থাকে। ফেসবুক খুবই নিষ্ঠুরতার সাথে নির্লিপ্ত থেকে এই সব শিশুদের ভয়ঙ্কর বিপদের মুখে ফেলে দিচ্ছে। সরকারের উচিত ফেসবুককে এই তথ্য প্রকাশে বাধ্য করা যে, তাদের বাংলা মেশিন ট্রান্সলেশন সংক্রান্ত রোডম্যাপ কী!
/ইউআই/এবি/








