জঙ্গি-সন্ত্রাসবাদ দমনে সর্বোচ্চ কর্ম তৎপরতা প্রদর্শন করতে মাঠ প্রশাসন কর্মকর্তাদের দিক-নির্দেশনা দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ ব্যাপারে স্থানীয় জনসাধারণকে বেশি সম্পৃক্ত করতে জেলা প্রশাসকদের নির্দেশনা দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এছাড়া সম্মেলনে সন্ত্রাস ও উগ্রবাদী তৎপরতার বিষয়ে জেলা প্রশাসকদের আরও সতর্ক থাকতে বলা হবে। জঙ্গি-সন্ত্রাসবাদ নিয়ে সরকারের ‘জিরো ট্লারেন্স’ মনোভাব আবারও জেলা প্রশাসকদের কাছে পুনর্ব্যক্ত করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
জেলা থেকে শুরু করে উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে সমানভাবে জঙ্গি-সন্ত্রাসবাদ নির্মূলে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হবে বলে তথ্য পাওয়া গেছে। পাশাপাশি জেলা প্রশাসকরা মাঠ পর্যায়ে যেসব সমস্যার সম্মুখীন হন, এবারের সম্মেলনে তাও উঠে আসবে। মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের নিয়ে চলতি বছরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনে এ নির্দেশনা দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
আজ মঙ্গলবার থেকে শুরু হচ্ছে চার দিনের এ জেলা প্রশাসক সম্মেলন। সকাল সাড়ে ৯ টায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে শেখ হাসিনা এ সম্মেলনের উদ্বোধন করবেন। সচিবালয়ে মন্ত্রিসভা সম্মেলন কক্ষে হবে বাকি অধিবেশনগুলো। গত রবিবার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম বলেন, ১৮টি কার্য অধিবেশনে ৩৩৬টি প্রস্তাবের ওপর আলোচনা হবে ডিসি সম্মেলনে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব আরও বলেন, বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকরা যেসব প্রস্তাব করেছেন, সেগুলো নিয়ে সম্মেলনে বিস্তারিত আলোচনা হবে। জেলা প্রশাসকরা মাঠপর্যায়ে যেসব চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হন, সেসব বিষয় ছাড়াও বিদ্যমান সম্ভাবনা সম্পর্কে মন্ত্রী, উপদেষ্টা, সচিবদের উপস্থিতিতে আলোচনা করে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দিকনির্দেশনা পাবেন। নাগরিক সেবাগুলো কীভাবে আরও দ্রুত করা যায়, সে বিষয়েও নির্দেশনা পাবেন তারা।
জানাগেছে, জঙ্গি-সন্ত্রাসী হামলার ব্যাপারে জেলা প্রশাসকদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে থাকতে বলা হবে। বিশেষ করে বিভাগ ও জেলা পর্যায়ে থাকা আইন-শৃংখলা সংক্রান্ত কোর কমিটি আরও কার্যকর করতে পরামর্শ দেওয়া হবে। একই সঙ্গে মহানগর, জেলা, উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদে সন্ত্রাস এবং নাশকতাবিরোধী কমিটিগুলো যাতে আরও কার্যকর হয়, সেজন্য জেলা প্রশাসকদের ভূমিকা নিতে বলা হবে।
জানাগেছে, ৩৯টি মন্ত্রণালয়সম্পর্কিত ৩৩৬টি প্রস্তাবের ওপর আলোচনা হবে। এবার সবচেয়ে বেশি ২৭টি প্রস্তাব এসেছে ভূমি মন্ত্রণালয় বিষয়ে। আর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়সম্পর্কিত ২৫টি প্রস্তাব দিয়েছেন জেলা প্রশাসকরা ।
সম্মেলনে ১৮টি কার্য অধিবেশনের বাইরে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান, রাষ্ট্রপতির সঙ্গে জেলা প্রশাসকদের সৌজন্য সাক্ষাৎ, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে একান্তে আলোচনা ছাড়াও একটি সমাপনী অধিবেশন থাকবে।
জানা গেছে, এবারের সম্মেলনে ভূমি ব্যবস্থাপনার বিষয়টি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাবে। অগ্রাধিকারে থাকবে আইন-শৃংখলা রক্ষা সংক্রান্ত বিষয়। এছাড়া, সম্মেলনে স্থানীয় সরকারের কার্যক্রম, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসৃজন, সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনী, শিক্ষার মানোন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবা, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যবহার, ই-গভর্নেন্স, পরিবেশ সংরক্ষরণ ও দূষণরোধ, ভৌত অবকাঠামোর উন্নয়ন এবং বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও সমন্বয়, মাঠপর্যায়ে উন্নয়ন কার্যক্রম মূল্যায়নসহ বিভিন্ন বিষয় আলোচনা হবে।
এপিএইচ/








