সংসদ সদস্যদের চাপের মুখে নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অনুমোদন দিতে হয় বলে সংসদকে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ।
মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তরে সরকার দলের আ খ ম জাহাঙ্গীর হোসাইনের এ সম্পর্কিত সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন,সংসদ সদস্যরা চাপ প্রয়োগ করেন বলে নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান করার অনুমতি দিতে হয়। আমরা তখন বলে দেই অনুমতি দিচ্ছি, তবে বেতন দিতে পারবো না। যদিও আমরা নৈতিকভাবে বেতন দিতে বাধ্য।
শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, এবার যারা এসএসসি পাস করেছে তারা সব ভর্তি হওয়ার পরেও সারা দেশের সাত লাখ আসন ফাঁকা আছে। তাহলে বুঝে নিন আমরা কি পরিমাণ কলেজ খুলেছি। ৪৮টি প্রতিষ্ঠানে একজন ছাত্রও ভর্তির আবেদন করেনি। ৭০০ প্রতিষ্ঠানে ১-২ জন করে আবেদন করেছে। তবুও নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অনুমতি এবং শিক্ষকদের বেতন দেওয়ার বিষয়টি সমন্বয় করতে নতুন আইন করা হবে।
জেবুন্নেসা আফরোজের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আগামী বাজেটে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ সাপেক্ষে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভূক্ত করার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
সোহরাব উদ্দিনের প্রশ্নের জবাবে নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, কারিগরি শিক্ষার প্রসারে সরকার প্রতিটি উপজেলায় একটি করে কারিগরি বিদ্যালয় স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ইতিমধ্যে ১০০টি উপজেলায় বিদ্যালয় স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে। দ্বিতীয় পর্যায়ে ৩৮৯টি উপজেলায় একটি করে কারিগরি বিদ্যালয় ও মহাবিদ্যালয় স্থাপনের প্রকল্প শিগগির পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হবে।
এম আবদুল লতিফের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন,সম্প্রতি দু’টি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় একটি চক্র জালিয়াতির মাধ্যমে ভুয়া ও অযোগ্য শিক্ষার্থী ভর্তির অপচেষ্টা করেছে। জালিয়াতির কারণে অনেকের ছাত্রত্ব বাতিল করা হয়েছে। অনেককে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। পরীক্ষার কক্ষে মুঠোফোনসহ অন্যান্য ইলেকট্রনিক ডিভাইসের ব্যবহার নিষিদ্ধ করার পর ভুয়া শিক্ষার্থী ভর্তি অনেকাংশে রোধ করা সম্ভব হয়েছে। ভবিষ্যতে জালিয়াতি রোধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সাগুফতা ইয়াসমীন এমিলির সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ বলেন, মাত্র এক মাস হয়েছে আমি দায়িত্ব নিয়েছি। সকল কর্মকাণ্ড সম্পর্কে এখনও অবহিত হইনি। তদন্ত করে দেখব। কেউ রাষ্ট্রবিরোধী কাজে জড়িত থাকলে দ্রুত তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সাগুফতা ইয়াসমীন জানতে চান, দেশে অনেক এনজিও আছে, যারা রাষ্ট্রবিরোধী কাজে জড়িত। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না?
এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে নুরুজ্জামান আহমেদ বলেন, শুধু রাষ্ট্রবিরোধী নয়, সরকার বিরোধী কর্মকাণ্ডেও যারা জড়িত থাকবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রশ্নোত্তরের আগে বিকেল সাড়ে পাঁচটার পর স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদের অধিবেশন শুরু হয়।
/ইএইচএস/এমএসএম /








