বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, বিদেশি ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশে আসতে চাইছেন না, চলে যাচ্ছে- এমন বক্তব্য সঠিক নয়। বিদেশিদের নিরাপত্তা আমরা শতভাগ নিশ্চিত করেছি। বিদ্যমান সন্ত্রাসী ঘটনা শুধু বাংলাদেশেই নয়, বৈশ্বিক সমস্যা। বাংলাদেশের সবকিছুই স্বাভাবিক আছে। সেটি আমরা বিশ্ববাসীকে দেখাতে চাই। অল্প কিছুদিনের মধ্যেই সব ধরনের জঙ্গি কর্মকাণ্ড বন্ধ হয়ে যাবে।
সাম্প্রতিক জঙ্গি তৎপরতার ঘটনায় দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ীদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় বাণিজ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে বৃহস্পতিবার (২৮ জুলাই) এই মতবিনিময় হয়।
বাণিজ্যমন্ত্রীর সভাপতিত্বে এই সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব হেদায়েতুল্লাহ আল মামুন, এফবিসিসিআইয়ের প্রেসিডেন্ট মাতলুব আহমাদ, বিটিএমএ’র প্রেসিডেন্ট তপন চৌধুরী, মেট্রোপলিটন চেম্বারের সভাপতি নাসিম মঞ্জুর, বিজিএমইএ’র ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাইনুদ্দিন মিন্টু, বিকেএমইএ’র প্রেসিডেন্ট সেলিম ওসমান, এফবিসিসিআইয়ের সাবেক প্রেসিডেন্ট ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সালমান এফ রহমান এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা।
সভায় মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করতেই দেশে সাম্প্রতিক সহিংসতার ঘটনাগুলো ঘটেছে। একাত্তরে দেশের স্বাধীনতার জন্য বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্য হয়। ৪৫ বছর পর ২০১৬ সালে দেশের অগ্রযাত্রাকে ধরে রাখতে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আরেকবার জাতীয় ঐক্য হলো। এ ঐক্যের জন্য জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে এক লাখ আলেম বিবৃতি দিয়েছেন। সারাদেশে এক যোগে অভিন্ন খুতবা দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, আমরা একুশ সালের মধ্যেই মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হবো। আর ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশে পরিণত হবো। কোনও বাধা এগুলো আটকাতে পারবে না।
সালমান এফ রহমান বলেন, ব্যবসা বাণিজ্য ভালোভাবেই চলছে। সন্ত্রাসী হামলার ঘটনার পর বিদেশিরা বাংলাদেশে আসতে ভয় পাচ্ছিল। তবে সেটা কেটে গেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী চমৎকার কাজ করেছে। তারা ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা দিচ্ছে। যা বিদেশেও আমরা পাই না। তবে ব্যবসায় চ্যালেঞ্জ আছে, তা মোকাবিলা করতে হবে।
বিটিএমএ’র সভাপতি তপন চৌধুরী বলেন, দেশের মানুষ জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে আজ ঐক্যবদ্ধ। তবে সতর্ক থাকতে হবে যেন এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে। যেকোনও ঘটনায়ই একটা ধাক্কা লেগেছে, আমাদেরও কিছুটা লেগেছে। এটা অস্বীকার করার কিছুই নাই। তবে বড় ধরনের কোনও পরিবর্তন হয়নি। চ্যালেঞ্জ বেড়েছে। আমাদের কারখানা চলছে, ব্যবসাও বেড়েছে।
এফবিসিসিআই এর প্রেসিডেন্ট মাতলুব আহমাদ বলেন, পহেলা জুলাইয়ের ঘটনায় আমরা বিস্মিত হয়েছি। এ ধরনের দৃষ্টান্ত বিরল। যেখানে একটা দেশের তিন বাহিনীর প্রধানরা উপস্থিত থেকে ঘটনা মোকাবিলা করেছেন। পৃথিবীতে এ ধরনের ঘটনা ইতিহাসে বিরল। আমাদের ব্যবসা কমেনি। চাহিদা বেড়েছে। আমরা চাহিদা অনুযায়ী পণ্য সরবরাহ কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমরা শিগগির গোলটেবিল বৈঠক করবেন। যেখানে বাণিজ্য মন্ত্রী থাকবেন। সেপ্টেম্বরে জঙ্গি বিরোধী কনভেনশন করা হবে। যেখানে প্রধানমন্ত্রী থাকবেন। আমার কয়েকটা কোম্পানিটিতে বিদেশি প্রকৌশলীরা কাজ করছেন। তারা কেউ দেশ ছাড়েননি। সবাই কাজ করছেন। কাজেই আতঙ্কের কিছু নাই। সাংবাদিকদের দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা করতে হবে।
মেট্রোপলিটন চেম্বারের সভাপতি নাসিম মঞ্জুর বলেন, এ ঘটনা বৈশ্বিক। এটা বাস্তবতা, বাংলাদেশেও আসছে। এটা নিয়ে দুঃশ্চিন্তার কিছু নাই। বিশ্ববাসী জানতে চাই ঘটনা মোকাবিলায় আমরা কতটুকু প্রস্তুত। সে ক্ষেত্রে আমাদের রেসপন্স ভাল তা বিশ্ববাসী ইতোমধ্যে জেনেছে। ভবিষ্যতে যদি এ ধরনের ঘটনা যেন না ঘটে সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। এটা সেই বাংলাদেশ সবাই জঙ্গিবাদেরবিরোধী। অভিযুক্ত জঙ্গিদের লাশও অভিভাবকরা নিতে চায় না। এই বাস্তবতার দেশ বাংলাদেশ। গাজীপুরে ১০ হাজার বিদেশি কাজ করেন, পুলিশ তাদের নিরাপত্তা দিচ্ছেন। মোট কথা আমাদের ওপর আস্থা রাখতে হবে।
বিকেএমইএ’র সভাপতি সেলিম ওসমান বলেন, ৪৫ বছরে যে ঐক্য হয়নি জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে তা এবার হয়েছে। এটি প্রধানমন্ত্রীর ডাকে হয়েছে। পোশাক খাতকে ধ্বংস করার ষড়যন্ত্র এটা। কিন্তু, আমরা স্বাভাবিক আছি। শোলাকিয়ায় বড় ধরনের ঘটনা ঘটতে পারতো। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সেটা ঠেকিয়েছে। জুলাই-আগস্ট মাসে ব্যবসায়ীরা অবকাশযাপন করেন তাই এ সময় আমদানি-রফতানি কম থাকে। তবে রফতানি বন্ধ হয়নি। গুজব ছড়ালে সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কেউ কেউ গুজব ছড়াচ্ছে। এর মধ্যে রাজনীতি এনে দেশকে ধ্বংস করবেন না।
/এসআই/এসএনএইচ/এফএস/টিএন/
আরও পড়ুন:








