পুলিশ সুপার (এসপি) বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু হত্যার দুই মাস পার হলেও কারণ এখনও অজ্ঞাত। নৃশংস এ হত্যাকাণ্ডের দুই মাস পরও পুলিশের সোর্স মুসা পলাতক। পুলিশ এখনও মিতুর মোবাইল ফোন ও যে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে হত্যা করা হয়েছে তা উদ্ধার করতে পারেনি। ৬০ দিন অতিবাহিত হওয়ার পর মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে এসব তথ্য জানিয়েছে পুলিশ।
দুই সন্তানের মা মিতুকে গত ৫ জুন চট্টগ্রামের জিইসি এলাকায় তার বাসার নিকট কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করা হয়।
জানা গেছে, দুই হত্যাকারীসহ পুলিশ সাতজনকে গ্রেফতার করেছে, যারা সরাসরি এ হত্যাকাণ্ডে অংশ নিয়েছে। যদিও প্রধান সন্দেহভাজন আসামি কামরুল ইসলাম মুসা ওরফে মুসা সিকদার এখনও পলাতক। তবে মুসার স্ত্রী পান্না আখতারের অভিযোগ, গত ২২ জুন সাদা পোশাকের পুলিশ মুসাকে গ্রেফতার করেছে।
তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)-এর অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম ও অপারেশন) দেবদাস ভট্টাচার্য্য বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, তদন্ত চলমান থাকলেও গ্রেফতারকৃত ৫ অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনে আমরা অনেক এগিয়েছি।
তিনি আরও বলেন, হত্যাকাণ্ডের মোটিভ এখনও অস্পষ্ট। মুসা গ্রেফতার হলেই এ ভয়াবহ হত্যার মোটিভ ও মূল হোতার পরিচয় বেরিয়ে আসবে।
দেবদাস জানান, পুলিশ এখনও মিতুর মোবাইল ও হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ধারালো ছুরি উদ্ধার করতে পারেনি।
হত্যাকাণ্ডের ৬০ দিন পার হলেও তদন্তকারীরা জানেন না কেন মিতু ওই দিন সকালে আধা ঘণ্টা আগে বের হয়েছিলেন এবং কীভাবে হত্যাকারীরা তার বের হওয়ার সময় জানতে পেরেছিল।
হত্যাকাণ্ডের পর প্রতিবেশী ও মিতুর বাবা মোশাররফ হোসেন জানিয়েছিলেন, স্কুল থেকে মাহির মিতুর নাম্বারে একটি এসএমএস পাঠিয়েছিল। তবে পুলিশ বলছে, কল তালিকা খতিয়ে দেখার পর সকালে কোনও এসএমএস আসেনি।
হত্যা মামলায় গ্রেফতার দুই আসামি ওয়াসিম ও আনোয়ার গত ২৬ জুন আদালতে জবানবন্দি দেন। তারা বলেন, মুছার নেতৃত্বে হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে। কিন্তু মুছা কার নির্দেশে ও কেন এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন, সে ব্যাপারে কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি জবানবন্দিতে।
জবানবন্দিতে বলা হয়, হত্যাকাণ্ডে তারা (ওয়াসিম ও আনোয়ার) এবং মো. রাশেদ, নবী, মো. শাহজাহান, কামরুল সিকদার ওরফে মুছা ও মো. কালু অংশ নিয়েছেন। তাদের মধ্যে নবী ও রাশেদ গত ৪ জুলাই রাতে রাঙ্গুনিয়ায় পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলে ছিল ওয়াসিম, মুছা ও নবী। মাহমুদাকে ছুরিকাঘাত করেন নবী। অস্ত্র সরবরাহ করে ভোলা।
মুসা ও কালু কোথায় আছে জানতে চাইলে সিএমপির গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) সহকারী কমিশনার ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামরুজ্জামান জানান, পুলিশ মুসা ও কালুকে গ্রেফতারের চেষ্টা করছে।
এদিকে, মিতুর স্বামী এসপি বাবুল আক্তার ৫ এপ্রিল পদোন্নতি পাওয়ার পর থেকে তিনি পুলিশ সদর দফতরে পুলিশ সুপার হিসেবে সংযুক্ত রয়েছেন। স্ত্রী মিতু হত্যার পর থেকে তিনি আর অফিস করেননি। এ সময়ে তিনি ছুটিতেও ছিলেন না বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
স্ত্রী মিতু নিহত হওয়ার পর, গত ২৪ জুন রাতে বাবুল আক্তারকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গোয়েন্দা কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। ১৬ ঘণ্টা পর তাকে ২৫ জুন সন্ধ্যায় বনশ্রীতে অবস্থিত তার শ্বশুরের বাসায় আবার পৌঁছে দেওয়া হয়। এর ৩৮ দিন পর বুধবার প্রথম তিনি পুলিশ সদর দফতরে যান। এরপর বৃহস্পতিবারও তিনি সদর দফতরে যান। এ বিষয়ে বাবুল আকতারের শ্বশুর মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘আজও (বৃহস্পতিবার) বাবুল পুলিশ সদর দফতরে গেছে। গত এপ্রিলে পদোন্নতির পর তার চাকরি পুলিশ সদর দফতরে সংযুক্ত করা হয়।’
/এএ/








