বেশ কৌশলেই বায়তুল মোকাররম মসজিদের সামনে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করলো হেফাজতে ইসলাম। সংগঠনটির ঘোষিত কর্মসূচি সন্ত্রাস, নৈরাজ্য ও মানুষ হত্যার প্রতিবাদে হলেও মূল লক্ষ্য ছিল ‘শিক্ষানীতি, শিক্ষা আইন ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের দেওয়া জঙ্গিবাদবিরোধী খুতবা’র প্রতিবাদ জানানো।
শুক্রবার জুমার নামাজের পর বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটের সামনে একটি সমাবেশ ও পরে বিক্ষোভ মিছিল করে হেফাজত। সন্ত্রাস, নৈরাজ্য ও মানুষ হত্যার জন্য বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থাকে দায়ী করে সেই শিক্ষানীতি, শিক্ষা আইন ও সিলেবাস পরিবর্তনের দাবি জানান হেফাজতের নায়েবে আমির ও ঢাকা মহানগরীর আহ্বায়ক নূর হোছাইন কাসেমী। হেফাজতের এক কেন্দ্রীয় নেতা জানান, সরকারি চাপ থাকায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের খুতবা নিয়ে কথা বলা হয়নি।
শুক্রবার জুমার নামাজের পর বায়তুল মোকররমের উত্তর গেটে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করে হেফাজত ঢাকা মহানগরী। সমাবেশে শুধু ঢাকা মহানগরীর আহ্বায়ক নূর হোছাইন কাসেমী বক্তব্য রাখেন। এরপর বায়তুল মোকাররম থেকে পল্টন মোড়, দৈনিক বাংলা হয়ে ফের বায়তুল মোকাররমের সামনে এসে মিছিলটি শেষ হয়। মিছিল শেষে দোয়া পরিচালনা করেন হেফাজতের যুগ্ম মহাসচিব আবুল কাশেম।
সমাবেশে নূর হোছাইন কাসেমী বলেন, ইসলামের সঙ্গে সন্ত্রাসের সামান্যতম সম্পর্ক নেই। সন্ত্রাস নিমূর্ল করতে প্রয়োজন শিক্ষা অঙ্গনে পরিবর্তন। শিক্ষার মাধ্যমে মানুষের চিন্তা চেতনার বিকাশ ঘটে। আমাদের শিক্ষার্থীরা সুশিক্ষা না পাওয়ার কারণে সন্ত্রাসী হচ্ছে। জাতিকে এ সমস্যা থেকে রক্ষা করতে হলে শিক্ষানীতি,খসড়া শিক্ষা আইন এবং বর্তমান সিলেবাসকে পরিবর্তন করে কোরআন-সুন্নাহর আলোকে তা করতে হবে। তাহলেই দেশ সন্ত্রাস, দুর্নীতি থেকে মুক্তি পাবে।
হেফাজতের এই নেতা সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ারও আহ্বান জানান। তিনি বলেন, আসুন সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলি। ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় যেনো দেশের শান্তি থাকে।
কৌশলী কর্মসূচি পালন প্রসঙ্গে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হেফাজতের এক কেন্দ্রীয় নেতা বলেন, গত ২৯ জুলাই ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীতে বিক্ষোভ মিছিল কর্মসূচি পালনের কথা থাকলেও পুলিশের চাপের মুখে কর্মসূচি স্থগিত করতে হয়। পরবর্তীতে ৫ আগষ্ট তারিখ নির্ধারণ করা হয়। গতকালও (৪ আগষ্ট) পুলিশ, গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারা দফায় দফায় আমাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। কর্মসূচি পালন না করতে বলেছেন।সর্বশেষ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন প্রদত্ত খুতবা নিয়ে কথা না বলার শর্তে কর্মসূচি পালনের অনুমতি দেয় পুলিশ। এজন্য ঢাকা মহানগরীর আহ্বায়ক ছাড়া অন্যদের বক্তব্য দিতে দেওয়া হয়নি।
হেফাজতে ইসলামের বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পল্টনসহ বায়তুল মোকাররম মসজিদলগ্ন এলাকায় ছিল বাড়তি নিরাপত্তা। সরেজমিনে দেখা যায়, পল্টন ও দৈনিক বাংলার মোড় থেকে মসজিদের দিকে আসা মুসুল্লিসহ অন্যদের শরীরে তল্লাশি চালিয়ে তবেই মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় ঢুকতে দেওয়া হয়। মসজিদের উত্তর ও দক্ষিণ ফটকে বসানো হয় আর্চওয়ে। আর্চওয়ের মধ্য দিয়ে মসজিদে আগতদের প্রবেশ করতে হয়। সঙ্গে ব্যাগ নিয়ে কাউকে ঢুকতে দেওয়া হয়নি।
এ প্রসঙ্গে পুলিশের মতিঝিল জোনের উপ কমিশনার আনোয়ার হোসেন বলেন, নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করেই পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
আরও পড়তে পারেন: বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা কমিটি বাতিল করেছে ছাত্রলীগ
/সিএ/ এমএসএম/








