প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব আবুল কালাম আজাদ বলেছেন, প্রত্যেক শিক্ষকই ছাত্রছাত্রীদের জন্য আদর্শ ও পরামর্শক। ছাত্র, শিক্ষক এবং সবার চেষ্টায় জঙ্গিবাদ নামক অপশক্তি একদিন দেশ থেকে বিতাড়িত হবে।
তিনি বলেন, শিক্ষক, ছাত্রছাত্রী, অভিভাবক, সুশীল সমাজ, সরকারি কর্মচারী ও সংবাদমাধ্যমের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় সন্ত্রাস জঙ্গিবাদ মোকাবিলা করা হবে।
শনিবার সকাল ১০টায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা অডিটরিয়ামে ঢাকা জেলার স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা প্রধানদের সঙ্গে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ প্রতিরোধে করণীয় শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ সব কথা বলেন।
ঢাকা জেলা প্রশাসন আয়োজিত এ সভায় মহানগরীসহ ঢাকা জেলার মোট ৮৫৪টি স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা প্রধানরা অংশগ্রহণ করেন।
ঢাকা জেলা প্রশাসক সালাউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে এ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. আবুল কালাম আজাদ। এ ছাড়া মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব সুরাইয়া বেগম, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সোহরাব হোসাইন, ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার হেলালুদ্দিন আহমেদ, ঢাকা পুলিশ সুপার শাহ্ মিজান শাফিউর রহমানসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব আবুল কালাম আজাদ বলেন, দেশ যখন প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের ও ২০৪১ সালের উন্নত দেশের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, তখনি দেশের উন্নয়নের গতিকে থমকে দেওয়ার জন্য দেশকে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।
শিক্ষক ছাত্রছাত্রীদের আদর্শ উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রত্যেক শিক্ষকই ছাত্রছাত্রীদের জন্য আদর্শ ও পরামর্শক। ছাত্র, শিক্ষক এবং সবার চেষ্টায় জঙ্গিবাদ নামক অপশক্তি একদিন দেশ থেকে বিতাড়িত হবে।
শিক্ষাসচিব সোহরাব হোসেন বলেন, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ মোকাবিলায় ছাত্রছাত্রীদের সচেতন, নজরদারি ও পরামর্শ দেওয়ার জন্য শিক্ষকদের ভূমিকা অপরিসীম।
তিনি বলেন, জঙ্গিবাদের মাধ্যমে যারা দেশের উন্নয়ন ব্যাহত করছে, তাদের ঐক্যবদ্ধভাবে মোকাবিলার জন্য শিক্ষকরা সামনে থেকে নেতৃত্বে দিয়ে জাতিকে পথ দেখাবেন।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব সুরাইয়া বেগম বলেন, যেসব বড়ভাইদের বিভ্রান্তিকর পরামর্শে এ প্রজন্মের ছাত্রছাত্রীরা সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদে জড়িয়ে পড়ছে, তাদের ব্যাপারে সবাইকে সচেতন হতে হবে।
ঢাকা পুলিশ সুপার শাহ্ মিজান শাফিউর রহমান বলেন, মানুষ হত্যা কোনও ধর্মই অনুমতি নেই। বিদ্যালয়ের ধর্মীয় শিক্ষকরা ছাত্রছাত্রীদের সচেতনতায় ভূমিকা পালন করতে পারেন।
মতবিনিময় সভায় মিরপুর বাংলা কলেজের অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) ও বাংলাদেশ শিক্ষক ফেডারেশনের সভাপতি মো. বদরুল হাওলাদার বলেন, বিদ্যালয়, কলেজগুলোতে সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ মোকাবিলায় সরকারের মনিটরিং ও সংযোগ বৃদ্ধি করতে হবে। আগের মতো জেলা প্রশাসকদের ও জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কমিটিগুলোর দায়িত্ব দিতে হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে পরিদর্শন বাড়াতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, শিক্ষকরা জাতির পথ প্রদর্শক। শিক্ষকদের শিক্ষা ও অনুপ্রেরণা ভবিষ্যত প্রজন্মকে দেশপ্রেমিক হিসেবে গড়ে তুলবে। তাদের তৈরি করা মূল্যবোধের মাধ্যমে বর্তমান প্রজন্ম সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরি করবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্কাউটিং, গার্লসগাইড, রোভার প্রভৃতি আন্দোলনকে জোরদার করতে হবে।
/এবি/








