বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেসা মুজিবের দূরদর্শিতায় বাংলাদেশের স্বাধীনতার দ্বার খুলেছিল বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, আইয়ুব খান যখন করাচিতে গোলটেবিল বৈঠকের আহ্বান করেন, সেখানে প্যারোলে মুক্তি নিয়ে বঙ্গবন্ধুকে বৈঠকে অংশ নিতে নিষেধ করেছিলেন বঙ্গমাতা। এ সময় তিনি মামলা তুলে সম্পূর্ণ মুক্ত হয়ে বৈঠকে অংশ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন। তার সেই দূরদর্শী পরামর্শ পরবর্তীতে দেশের স্বাধীনতার দ্বার খুলে দিয়েছিল। ওইদিন সেই গোলটেবিল বৈঠকে বঙ্গবন্ধু অংশ নিলে সব শেষ হয়ে যেত।
সোমবার ওসমানি স্মৃতি মিলনায়তনে বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেসা মুজিবের ৮৬তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এ আলোচনা সভার আয়োজন করেন।
সভায় সভাপতিত্ব করেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি। সভায় আরও বক্তব্য রাখেন কথা সাহিত্যিক সেলিনা হোসেন, জাতীয় মহিলা পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপিকা মমতাজ বেগম, সংসদ সদস্য রেবেকা মোমেন, সচিব নাসিমা বেগম প্রমুখ।
স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মা কখনও বাবাকে পেছনে টেনে ধরেননি। সব সময় তিনি বাবাকে প্রেরণা জুগিয়েছেন। তিনি সব সময় দেশের স্বাধীনতা ও মানুষের কল্যাণের কথা চিন্তা করেছেন। ১৫ আগস্ট ঘাতকরা যখন বাবাকে মেরে ফেললো, মা বাঁচার আকুতি করেননি। তিনি ঘাতকদের বলেন, স্বামীকে যখন মেরে ফেলেছো আমাকেও মেরে ফেলো।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, মার সব সময় আত্মবিশ্বাস ও সাহস ছিল যে এ দেশ স্বাধীন হবেই। কখনও মাকে ভেঙে পড়তে দেখিনি। আমার বাবা এমএলএ ও মন্ত্রী ছিলেন। বিভিন্ন সময় তাকে করাচিতে যেতে হতো। কিন্তু আমার মা একদিনের জন্যও করাচিতে যাননি। বাবার সঙ্গে যেতেও চাননি। তিনি বলতেন, ওদের সঙ্গে থাকবো না, ওদের চেহারাও দেখবো না। একটার পর একটা ঘাত-প্রতিঘাত এসেছে, তখনও মাকে ভেঙে পড়তে দেখিনি। বাবাকে তিনি কখনও বরাজনীতি ছেড়ে দিতে বলেননি ।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, তিনি প্রতিটি পদে পদে আওয়ামী লীগকে শক্তিশালী করার বিষয়ে অন্তরালে থেকে কাজ করে গেছেন। কখনও তিনি সামনে আসেননি। আমার মা, আমার দাদা-দাদিসহ পরিবারের সবাই জাতির পিতাকে সহযোগিতা করেছেন। ফজিলাতুন্নেসা তার স্বামীকে খুব কম সময় কাছে পেতেন। কখনও তিনি একটানা দুই বছর স্বামীকে কাছে পাননি। আমরাও একটানা দুইবছর বাবাকে কাছে পাইনি। কিন্তু কখনও অনুযোগ অভিযোগ করেননি তিনি ।
ছয় দফা জনপ্রিয় করতে বঙ্গবন্ধুর প্রচারণার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ কর্মীরা ঠিক থাকে। নেতারা সব সময় বেতাল হয়ে যান। ছোটবেলা থেকে এটা দেখে আসছি। ওই সময় ভাল ভাল নেতারা বলতেন ছয় দফা না আট দফা। কিন্তু মা বলতেন, ছয় দফাই বাঙালির মুক্তির সনদ। এখানেও বঙ্গমাতার দৃঢ় দেখেছি।
/পিএইচসি/এসএনএইচ/ এপিএইচ/








