বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনায় সরকার গঠিত ফরাস উদ্দিনের তদন্ত রিপোর্ট এখনও প্রকাশ করা হয়নি। এ অবস্থার মধ্যেই ফরাস উদ্দিনের সেই রিপোর্টের একটি কপি চেয়েছে সোসাইটি ফর ওয়ার্ল্ডওয়াইড ইন্টারব্যাংক ফিন্যান্সিয়াল টেলিকমিউনিকেশন বা সুইফট কর্তৃপক্ষ।
২৯ জুলাই সুইফট কতৃপক্ষ অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।
চিঠিতে বলা হয়েছে, বাংলদেশি একটি অনলাইন পত্রিকা সুইফটকে জড়িয়ে রিপোর্ট করেছে, যা আমাদের জন্য অত্যন্ত বিরক্তিকর।
ফরাস উদ্দিনের রিপোর্টের বরাত দিয়ে ওই অনলাইনটি একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। অথচ এখন পর্যন্ত আমরা ফরাস উদ্দিনের সেই রিপোর্ট হাতে পায়নি। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, আমাদেরকে ফরাস উদ্দিনের রিপোর্টের একটি কপি পাঠানোর জন্য অনুরোধ রইলো।
অর্থমন্ত্রীর কাছে পাঠানো ওই চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, অনলাইনটির প্রতিবেদনে ইনফরম্যাটিক্স, সুইফট এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের সাত কর্মকর্তা রিজার্ভের অর্থ পাচারের সঙ্গে জড়িত উল্লেখ করা হয়েছে। এ ধরনের তথ্য মিডিয়ায় আসায় আমাদের মধ্যে সৌহার্দ্য সম্পর্ক বিনষ্ট করবে বলে মনে করে সুইফট।
এদিকে, এখনও ফরাস উদ্দিনের সেই প্রতিবেদন প্রকাশ করেনি সরকার। যদিও বাজেটের পরে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে বলে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ঘোষণা দিয়েছিলেন। জানা গেছে, রিজার্ভ চুরি নিয়ে অন্তর্র্বতীকালীন প্রতিবেদন ও চূড়ান্ত প্রতিবেদনে দুই ধরনের তথ্য দিয়েছে তদন্ত কমিটি। তদন্ত কমিটির প্রধানও তেমনটাই জানিয়েছিলেন।
ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্কে রক্ষিত বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে ১০ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরির ঘটনায় সাবেক গভর্নর মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিনকে আহ্বায়ক করে গত ১৫ মার্চ তদন্ত কমিটি গঠন করে সরকার। কমিটিকে ৩০ দিনের মধ্যে অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিবেদন এবং ৭৫ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়। সময় মতো প্রতিবেদন জমা দেয় মোহাম্মদ ফরাস উদ্দিনের নেতৃত্বে তিন সদস্যের কমিটি। কমিটির অপর দুই সদস্য ছিলেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোহাম্মদ কায়কোবাদ এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের তৎকালীন অতিরিক্ত সচিব গকুল চাঁদ দাস।
কমিটির কর্মপরিধির মধ্যে ছিল বাংলাদেশ থেকে অবৈধভাবে এই অর্থ কীভাবে ও কার বরাবর গেল, অবৈধ পরিশোধ ঠেকাতে বাংলাদেশ ব্যাংক কী পদক্ষেপ নিয়েছে, বিষয়টি উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের কাছে গোপন রাখার যৌক্তিকতা কী, বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের দায়িত্বে অবহেলা ছিল কিনা, অর্থ উদ্ধারের সম্ভাবনা কতটুকু, একই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে করণীয় কী ইত্যাদি।
এ কমিটি গত ৩০ মে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়। এ সময় অর্থমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, আমি প্রতিজ্ঞাবদ্ধ যে আগামী ১৫-২০ দিনের মধ্যে এই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে।’
এরপর গত ২১ জুলাই অর্থমন্ত্রী সংসদে বলেন, কয়েক দিনের মধ্যে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে।
/জিএম/এবি/
আরও পড়ুন
সেবা রফতানির অর্থ সংগ্রহের শর্ত শিথিল করলো বাংলাদেশ ব্যাংক








