
জঙ্গি সন্দেহে আটক হওয়া মানারাত ও ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের চার নারী শিক্ষার্থীর দ্বিতীয় দফায় ৪ দিনের ও তাদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী গ্রেফতার হওয়া ফুয়াদ আল মাহাদীর ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। রবিবার বিকাল সোয়া তিনটায় ঢাকা মহানগর হাকিম এমদাদুল হক এ আদেশ দেন।
জামাআতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ ( জেএমবি)-র সক্রিয় সদস্য হিসেবে গ্রেফতার হওয়া ওই চার নারী হচ্ছেন মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ফার্মেসি বিভাগের শিক্ষার্থী আকলিমা রহমান মনি, খাদিজা পারভীন মেঘনা ও ইসরাত জাহান। ও ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) থেকে এমবিবিএস পাস করা চিকিৎসক ঐশী।
অন্যদিকে, গ্রেফতারকৃত ফুয়াদ আল মাহাদী বাংলাদেশ ইসলামিক ইউনিভার্সিটির ছাত্র।ওই চার নারীর রিমান্ডে দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ২১ আগস্ট রবিবার তাকে কলাবাগানের লেকসার্কাস এলাকার ফ্ল্যাট ১/বি ২৬/১ থেকে গ্রেফতার করা হয়। তাকেও জামাআতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ ( জেএমবি)-র সদস্য বলে দাবি করেছে র্যাব।
রবিবার বিকাল সোয়া তিনটায় ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে প্রত্যেক আসামির ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন র্যাব-৪ এর সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. শামসুল হক।
রিমান্ডের আবেদনে বলা হয়, ওই চার নারীকে ৫ দিনের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করে প্রচুর গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। মামলাটির সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাদের আরও নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। একইসঙ্গে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গ্রেফতার হওয়া মাহাদীকেও জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন।
রিমান্ড আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, ইলেকট্রনিক ডিভাইসে সংরক্ষিত আরও তথ্য উদঘাটন ও এদের সঙ্গে সম্পৃক্ত অজ্ঞাতনামা জঙ্গিদের গ্রেফতারে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবদের জন্য ও এদের সঙ্গে জড়িতদের নাম ঠিকানা যাচাইয়ের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড প্রয়োজন।
শুনানি শেষে আদালত ওই আদেশ দেন।
তবে এদিন ওই ৪ নারীর পক্ষে কোনও আইনজীবীকে আদালতে দেখা যায়নি। তবে আদালতে উপস্থিত ছিলেন মাহাদীর আইনজীবী মশিউর রহমান।তিনি মাহাদীর রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিনের আবেদন করেন।
এছাড়াও আদালতে উপস্থিত হয়ে মাহাদীর মা সফুরা বেগম আদালতকে বলেন, আমার স্বামী নুরুল ইসলাম একজন মুক্তিযোদ্ধা ও লক্ষ্মীপুর জেলা কৃষক লীগের সভাপতি। তিনি লক্ষ্মীপুরের বসিকপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ। আমার ছেলে বাংলাদেশ ইসলামিক ইউনিভার্সিটিতে ইংরেজি বিষয়ে মাস্টার্স পড়ছে। মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান হয়ে আমার ছেলে জঙ্গি সংগঠনের সদস্য হতে পারে না। সে নির্দোষ। গত দুই তিনদিন ধরে আমার ছেলের কোনও সন্ধান পাইনি। সে নিখোঁজ ছিল। পরে শুনি যে সে র্যাবের হাতে গ্রেফতার হয়েছে। সে জঙ্গি হতে পারে না।
আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে মাহাদীও দাবি করেন, তিনি একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান এবং জঙ্গি নন। তিনি জেএমবি’র সদস্য নন।
এরপরেই বিচারক এ আদেশ দেন।
উল্লেখ্য, ওই চার নারীকে জেএমবি’র জঙ্গি সন্দেহে গত ১৪ ও ১৫ আগস্ট গাজীপুর ও রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। এদের প্রত্যেকের কাছেই জিহাদি কার্যক্রমের নথিপত্র পাওয়া গেছে বলে পরদিন জানান, র্যাবের মুখপাত্র মুফতি মাহমুদ খান এ তথ্য জানিয়েছেন। পরে তাদের মিরপুর থানায় সোপর্দ করা হয় ও সেখানে মামলা দায়ের করা হয়। এরপর বুধবার তাদের আদালতে নেওয়া হলে বিচারক তাদের প্রত্যেকের ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। সেদিন অর্থাৎ ১৭ আগস্ট মানারাতের তিন শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কার করে কর্তৃপক্ষ। অন্যদিকে, র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ন (র্যাব) মামলাটির তদন্তে আগ্রহের কথা জানালে মামলাটি মিরপুর থানা থেকে র্যাবের হাতে ন্যস্ত করা হয়। ওই চার নারীকে জিজ্ঞাসাবাদের পর মাহাদীকে ২১ আগস্ট কলাবাগান থেকে গ্রেফতার করে র্যাব।
/এসআইটি/টিএন/
আরও পড়ুন:
জেএমবি’র চার নারী সদস্য ৫ দিনের রিমান্ডে








