মন্ত্রিসভা কমিটি জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতা পদক প্রত্যাহারের উদ্যোগ নিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি। শুক্রবার বিকেলে জরুরি সংবাদ সম্মেলন করে এ অভিযোগ তোলেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তাঁর মতে, পদক প্রত্যাহারের মধ্য দিয়ে সরকার জাতিকে বিভক্ত করতে চায়।
রাজধানীর নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘জিয়াউর রহমান সম্পর্কে আওয়ামী লীগের মূল্যায়ন কী, তা সবাই জানেন। কিন্তু দলীয় মূল্যায়নে রাষ্ট্র চলে না। রাষ্ট্র সবার। এই রাষ্ট্রকে যদি দলীয় বানাতে চান, তখন রাষ্ট্র থাকবে, দল থাকবে না।’
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ আযম খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘অত্যন্ত হতাশার সঙ্গে লক্ষ্য করছি, এই সরকার ঐক্যের রাজনীতি বিসর্জন দিয়ে জাতিকে বিভক্ত করছে। পরিকল্পিতভাবে জাতিকে বিভাজনের দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।’
আওয়ামী লীগ সরকার সামরিক ছাড়া বাকি সবক্ষেত্রে পদকের নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। রাষ্ট্রীয় পদক গ্রহণের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির অনুমতির প্রয়োজন ছিল। জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রীয় সম্মাননার ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেন। ১৯৭৭ সালে স্বাধীনতা পদক ও একুশে পদক প্রবর্তন করেন।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘যিনি পদক প্রবর্তন করলেন তিনি বাদ। এটা যে কত বড় সংকীর্ণতার পরিচয় এবং আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত, তা আওয়ামী লীগ যেদিন বুঝবে, সেদিন আর সংশোধনের সুযোগ থাকবে না।’
ফখরুল বলেন, ‘২০০৩ সালে খালেদা জিয়ার সরকার শেখ মুজিবুর রহমানকে মরণোত্তর স্বাধীনতা পদকে ভূষিত করেন। এটা ছিল রাজনৈতিক উদারতার দৃষ্টান্ত।’
ফখরুল জানান, ২০০৩ সালে তৎকালীন সরকার মুক্তিযুদ্ধে অবদান রাখার জন্য শেখ মুজিবুর রহমান ও জিয়াউর রহমানকে মরণোত্তর স্বাধীনতা পদক দেয়। সেই পদক ও নথি জাতীয় জাদুঘরে সংরক্ষিত আছে বলে জানান ফখরুল।
/এসটিএস/এআরএল/
আরও পড়ুন:








