
ওবাইদুল খান নামে এক বখাটের ছুরিকাঘাতে নিহত উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুলের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী সুরাইয়া আক্তার রিশার (১৪) হত্যাকারীকে গ্রেফতারের দাবিতে তৃতীয় দিনের মতো সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ মিছিল করছে স্কুলটির শিক্ষার্থীরা।
মঙ্গলবার বেলা ১২ থেকে তারা রাজধানীর কাকরাইল আবার সড়ক অবরোধ করে কাকরাইল মোড়ে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করছে। এতে কাকরাইলসহ আশপাশের সড়কে প্রচণ্ড যানজট দেখা গেছে।
এর আগে গতকাল সোমবার শিক্ষামন্ত্রী স্কুলটিতে উপস্থিত হয়ে বখাটে ওবাইদুলকে দ্রুত গ্রেফতার করে বিচার করার আশ্বাস দিয়েছেন। এছাড়া রমনা থানার সহকারী কমিশনার (এসি) শিবলী নোমান ঘটনাস্থলে এসে শিক্ষার্থীদের শান্ত করেন এবং ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে রিশার ঘাতক হিসেবে অভিযুক্ত ওবায়দুল খানকে গ্রেফতার করা হবে বলে ঘোষণা দেন।
তার আশ্বাসে শিক্ষার্থীরা শান্ত হয় এবং মঙ্গলবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত আন্দোলন স্থগিত করে। তবে এ সময়ের মধ্যে খুনি গ্রেফতার না হলে আবার আন্দোলন শুরু হবে বলে জানিয়েছে শিক্ষার্থীরা।
এদিকে রিশা হত্যার ঘটনায় ওবায়দুল রহমানের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। সে যেন পালাতে না পারে, এ জন্য ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছে পুলিশ।
উল্লেখ্য, মাস ছয়েক আগে স্কুলের ড্রেস বানাতে রিশা মায়ের সঙ্গে গিয়েছিল দরজির কাছে। সেই দরজি ফোন নম্বর পেয়ে উত্ত্যক্ত করত তাকে, পিছু নেয় তার। কিন্তু তার প্রেমের প্রস্তাবে রিশা সাড়া না দেওয়ায় ক্ষিপ্ত ওবাইদুল গত বুধবার (২৪ আগস্ট) বেলা পৌনে ১২টার দিকে কাকরাইলে উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুলের সামনেই ছুরিকাঘাত করে রিশাকে।
গুরুতর আহতাবস্থায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তির চারদিন পর রবিবার (২৮ আগস্ট) রিশা মারা যায়।
মৃত্যুর আগে রিশা বলে গেছে, ওই দরজি ওবায়দুলই ছুরি মেরেছে তাকে। পুলিশকেও সে এই জবানবন্দি দিয়েছে।
এদিকে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ওবায়দুলকে ধরতে তার গ্রামের বাড়ি দিনাজপুরের বীরগঞ্জে অভিযান চালানো হয়েছিল। হত্যার পর সেখানে অবস্থান করেছিল সে। কিন্তু গণমাধ্যমে ওবায়দুলের ছবি প্রকাশ হলে গ্রামের বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়।
/আরএআর/টিএন/








