দেশ গড়ায় ছাত্রলীগকে আত্মনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, “যদি সংকল্প দৃঢ় থাকে, তবে যে কোনও অর্জন সম্ভব। বঙ্গবন্ধু বলতেন, মহৎ অর্জনের জন্য মহৎ ত্যাগ দরকার। আমরা সেভাবেই কাজ করে যাচ্ছি। বাঙালির জন্য যে কোনও ত্যাগে আমি সবসময় প্রস্তুত। এ দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। আরও এগিয়ে যাবে। তবে কখনোই বিজয়ের ইতিহাস ভুললে চলবে না। এতে আমাদের অস্তিত্বই থাকবে না। জাতির পিতা জীবন দিয়ে গেছেন। সেই আদর্শ নিয়েই আমাদের চলতে হবে।”
বুধবার রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ আয়োজিত শোকদিবসের আলোচনা সভায় তিনি এ আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী এ সময় বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী বইটি সবাইকে পড়ে দেখারও আহ্বান জানান।
নিজেকে রাজনীতিতে সম্পৃক্ত করার বিষয় উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, “মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ফিরিয়ে আনবো বলেই বাংলাদেশে রাজনীতি শুরু করি।
জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার বন্ধ করে দিয়েছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ওই সময় বিবিসিতে ইন্টারভিউ দিয়ে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছিল খুনিরা। তারা বলেছিল, কে আমাদের বিচার করবে! কারণ, শেখ মুজিবকে মেরে ফেলেছি।” তিনি বলেন, “যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করা হয়েছে এবং করা হচ্ছে এবং দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, আমরা বিচার করেছি! আমরাই করেছি।” তিনি আরও বলেন, “বঙ্গবন্ধুর আমলে ১১ হাজার যুদ্ধাপরাধী সাজাপ্রাপ্ত ছিল। ২২ হাজার মামলা হয়েছিল। আরও মামলা হচ্ছিল। জিয়াউর রহমান ক্ষমতা দখল করে সব যুদ্ধাপরাধীর বিচার বন্ধ করে দিলেন। গোলাম আযমকে পাকিস্তান থেকে ফিরিয়ে আনা হলো; মন্ত্রী বানানো হলো।”
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “শত বাধা-বিপত্তি পেরিয়ে যুদ্ধাপরাধের বিচারের রায় কার্যকর হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও হবে।”
ইতিহাস বিকৃতি থেকে সামাজিক যে অবক্ষয় হয়েছে, তার ফলেই জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাসের উত্থান হয়েছে বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বঙ্গবন্ধু হত্যায় বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান জড়িত ছিলেন বলে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, “যারা এদেশের স্বাধীনতা চায়নি, তারাই পঁচাত্তরের হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। আর পঁচাত্তরের আগস্টে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর থেকেই এদেশের ইতিহাস বিকৃতি শুরু।”
বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর জিয়াউর রহমানের ক্ষমতা দখল এবং তখনকার পরিস্থিতি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “৭৫ সাল থেকে দেশে ১৯টি ক্যু হয়েছে। তখন স্বাধীনভাবে চলার কোনও সুযোগ ছিল না। কথা বলারও কোনও সুযোগ ছিল না।”
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার মায়ের স্মৃতিচারণ করে বলেন, “বাবার কথা তো অনেক লেখা হয়। কিন্তু মায়ের (শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব) কথা তো লেখা হয় না। তবে আমার মায়ের অবদান কিন্তু কম নয়! তিনি বাবার পাশে থেকে অনেক কাজ করে গেছেন। সেসবও তুলে আনা দরকার।”
প্রধানমন্ত্রী এ সময় বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী বইটি সবাইকে পড়ে দেখার আহ্বান জানান এবং বঙ্গবন্ধুর আদর্শে দেশ গড়ার কাজে আত্মনিয়োগ করতে ছাত্রলীগকে পরামর্শ দেন তিনি।
ছাত্রলীগ সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের বিভিন্ন অবদান, বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনচেতা মনোভাবের বিশ্লেষণ করেন সিনিয়র সাংবাদিক ও গবেষক সৈয়দ বদরুল আহসান। সভা পরিচালনা করেন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইন।
আরও পড়ুন: ‘বিবিসিকে তারা বলেছিল কে আমাদের বিচার করবে’
/ইএইচএস/এবি/আপ-এআর/








