‘মুক্তিযোদ্ধাদের রক্তে লেখা যেই সংবিধান, আমি সেই সংবিধানকে লঙ্ঘন করিনি। আমি সংবিধান লঙ্ঘন করেছি পাকিস্তানের’- এ মন্তব্য করেছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক।
শনিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘জঙ্গি, সন্ত্রাস দমনে প্রয়োজন বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বাস্তবায়ন’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। আলোচনা সভাটির আয়োজন করে বঙ্গবন্ধু গবেষণা পরিষদ।
বীর মুক্তিযোদ্ধা আ ক ম মোজাম্মেল হক আদালতের রায় প্রসঙ্গে বলেন, ‘গত বৃহস্পতিবার আপিল বিভাগ পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেছে। তাই আমি জেনে, শুনে সংবিধান লঙ্ঘন করতে পারি না। এমনকি লঙ্ঘনও করিনি। কারণ এ সংবিধান মুক্তিযোদ্ধাদের রক্তে লেখা। আর যা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রচনা করে গেছেন। তাই আমি, সংবিধান লঙ্ঘন করেছি কিন্তু তা পাকিস্তানের। আর সেই সংবিধানকে আমি লাথি মেরে বঙ্গোপসাগরে নয় বরং সিংহলী নদীর ওপারে ফেলে দিতে চাই।’
‘তবে আদালত যে রায় দিয়েছে, তা নিয়ে আমি এখন আর কিছু বলবো না। পূর্ণাঙ্গ রায়ের কপি হাতে পেলেই আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলে তারপর এ বিষয়ে কথা বলব।’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
১৯৭২-এর সংবিধানকে জিয়াউর রহমান, এরশাদ এবং খালেদা বিগত ৩০বছর ধরে পদদলিত করেছে এমন মন্তব্য করে বলেন, ‘আমরা দেশের সংবিধানকে সমুন্নত রেখেছি ও রক্ষা করেছি। তাই যে কোনও মূল্যেই এ সংবিধানকে সমুন্নত রাখার চেষ্টা করে যাব।’
সংগঠনের সভাপতি লায়ন মো. গনি মিয়ার সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন, সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট হোসনে আরা বেগম বাবলী, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কেন্দ্রীয় কমান্ডের ভাইস চেয়ারম্যান ইসমত কাদির গামা, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের চেয়ারম্যান ইসমাইল প্রমুখ।
উল্লেখ্য, আদালতে বিচারাধীন বিষয়ে মন্তব্য করায় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক ও খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম তাদের শপথ ভঙ্গ করেছেন বলে সংখ্যাগরিষ্ঠের ভিত্তিতে পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। যদিও শপথ ভঙ্গ হয়েছে বলে মনে করেন না বেঞ্চের অন্য তিন বিচারপতি।
গত ২৭ মার্চ আদালত অবমাননায় দোষী সাব্যস্ত করে দুই মন্ত্রীকে ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। অনাদায়ে সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড। মানবতাবিরোধী অপরাধী মীর কাসেম আলীর চূড়ান্ত রায়ের আগে সর্বোচ্চ আদালত নিয়ে করা মন্তব্যের জন্য দুই মন্ত্রীর নিঃশর্ত ক্ষমার আবেদন প্রত্যাখ্যান করে প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার নেতৃত্বাধীন আট সদস্যের আপিল বিভাগ ওই রায় দিয়েছেন।
গত ৫ মার্চ ঢাকায় ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির এক গোলটেবিল বৈঠকে আলোচনায় মীর কাসেমের রায় নিয়ে কামরুল ইসলাম ও মোজাম্মেল হক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার সমালোচনা করেছিলেন। এরপর আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ তাদের প্রতি আদালত অবমাননার রুল জারি করেন। রুলের শুনানি শেষে এ রায় দেওয়া হয়েছিল।
/এসআইএস/টিএন/








