রাত ১২.৩২ মিনিটে কাসিমপুর কারাগার থেকে মীর কাসেমের লাশ নিয়ে তার গ্রামের বাড়িতে রওনা দিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। তার মরদেহ গ্রামের বাড়িতে দাফন করা হবে। সেখানে দাফনের প্রস্তুতি চলছে।
কড়া নিরাপত্তায় গাড়ির বহরে প্রথমে চারটি পুলিশের গাড়ি, তারপর তিনটি অ্যাম্বুলেন্স, দুটি র্যাবের গাড়ি, তিনটি পুলিশের গাড়ি এবং শেষে ফায়ার সার্ভিসের একটি গাড়ি রয়েছে।
এর আগে শনিবার রাত ১০টা ৩৫ মিনিটে গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারে ৭১-এ মানবতাবিরোধী অপরাধে জামায়াত নেতা মীর কাসেম আলীর ফাঁসি কার্যকর হয়।
মানিকগঞ্জে মীর কাসেমের লাশ নিয়ে যাওয়া প্রসঙ্গে গাজীপুরের এসপি হারুন অর রশীদ বলেন, ‘আমাদের পর্যাপ্ত চেকপোস্ট আছে। সড়কে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আছে। টহল পুলিশ রয়েছে। ’
শনিবার সন্ধ্যায় র্যাব-৪ এর এএসপি উনু মং বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, সরকারের সিদ্ধান্ত ঠিকঠাক থাকলে মীর কাসেমের গ্রামের বাড়ি মানিকগঞ্জের চালা গ্রামে তাকে দাফন করা হবে। আহমাদিয়া সুলতানিয়া সামসুল উলুম হাফেজিয়া ও এতিমখানা মাদ্রাসার হুজুর হাফেজ মাওলানা আব্দুল কাদেরকে মীর কাসেম আলীর নামাজে জানাজা পড়ানোর জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে। কবর খোঁড়ার কাজ করছেন চালা ইউনিয়নের সাকুচিয়া গ্রামের মৃত কছিম উদ্দিন বিশ্বাসের ছেলে সামেজ উদ্দিন বিশ্বাস (৭০)।
জানা গেছে, মীর কাসেম আলীর নির্মিত মসজিদ সংলগ্ন লেবু বাগানের পাশে তার কবর খোঁড়ার প্রস্তুতি চলছে। যে স্থানে তাকে দাফন করা হবে তার আশপাশের মানুষের আনাগোনাও সীমিত করা হয়েছে।
হরিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম জানান, সব কিছু প্রস্তুত রাখা আছে। মীর কাসেম আলীর লাশ দাফনে যাতে কোনও প্রতিবন্ধকতা না হয় সেজন্য ব্যাপক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। তিন শতাধিকেরও বেশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য থাকছে মীর কাসেম আলীর গ্রামের বাড়ি ঘিরে।
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধকালীন চট্টগ্রামের কিশোর মুক্তিযোদ্ধা জসিম উদ্দিন আহমেদসহ আটজনকে হত্যার দুটি ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তখনকার আলবদর কমান্ডার মীর কাসেমকে ২০১৪ সালের ২ নভেম্বর মৃত্যুদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল।
মীর কাসেমের নেতৃত্বে চট্টগ্রামে যে ভবনটিতে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষের লোকদের ধরে নিয়ে নির্যাতন চালানো হতো, সেই ডালিম হোটেলকে রায়ের পর্যবেক্ষণে ‘ডেথ ফ্যাক্টরি’ বলা হয়। রায়ে বলা হয়, ‘আলবদর সদস্য ও পাকিস্তানি সেনারা মুক্তিযোদ্ধাদের ধরে ডালিম হোটেলে নিয়ে আসতো আমৃত্যু নির্যাতন করার উদ্দেশ্যেই। এটাও প্রমাণিত যে, ডালিম হোটেলে আলবদর সদস্যদের পরিচালনা ও নির্দেশনা দিতেন মীর কাসেম আলী নিজে।’
ইসলামী ছাত্রশিবিরের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মীর কাসেম আলীর বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধকালীন চট্টগ্রামে মানবতাবিরোধী অপরাধের ১৪টি অভিযোগ এনেছিল প্রসিকিউশন। এর মধ্যে ১১ ও ১২ নম্বর অভিযোগে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।
এর মধ্যে ১১ নম্বর অভিযোগে আপিলেও মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকে। এ অভিযোগে বলা হয়, মীর কাসেমের পরিকল্পনা ও নেতৃত্বে আলবদর বাহিনীর সদস্যরা মুক্তিযোদ্ধা জসিমকে অপহরণ করে আন্দরকিল্লার ডালিম হোটেলে নিয়ে নির্যাতনের মাধ্যমে হত্যার পর তার এবং আরও পাঁচজনের লাশ কর্ণফুলী নদীতে ফেলে দেওয়া হয়।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমার মনে হয় এ রায় কার্যকরের মধ্য দিয়ে একাত্তরের শীর্ষস্থানীয় অপরাধী বলয়ের বিচার সম্পন্ন হলো। তার মানে এই নয় যে, কাজ শেষ হয়েছে। বিচার অব্যাহত রাখতে হবে। এই অপরাধীরা যে ভাবাদর্শে অপরাধ করেছে তারও বিচার করতে হবে।’
ছবি: নাসিরুল ইসলাম
/এআরআর/এবি/আপডেট- এপিএইচ/
আরও পড়ুন








