
চট্টগ্রামে আলোচিত এসপি বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু হত্যাকাণ্ডের পর তিন মাস পার হলেও প্রধান অভিযুক্ত কামরুল ইসলাম মুসা এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ ও তদন্তকারী কর্মকর্তারা।
তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মিতু হত্যাকাণ্ডের পর পুলিশের সোর্স কামরুল ইসলাম মুসা ওরফে মুসা সিকদার ঘটনার পর থেকেই আত্মগোপনে রয়েছে। তবে এ হত্যাকাণ্ডে অংশ নেওয়া অপর দুইজন নুরুল ইসলাম রাশেদ এবং নূর নবী গত ৫ জুলাই চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় পুলিশের সঙ্গে বন্দুক যুদ্ধে নিহত হয়েছে।
গত ৫ জুন নগরীর জিইসি মোড় এলাকায় মাহমুদা খানম মিতুকে ছুরিকাঘাত ও গুলি করে হত্যা করে পালিয়ে যায় তিনজন মোটরসাইকেল আরোহী। মিতু ওইদিন তার সন্তানকে স্কুলে পৌঁছে দিতে যাচ্ছিলেন। পরে বাবুল আক্তার নগরীর পাঞ্চলাইশ থানায় অজ্ঞাত তিনজনের নামে একটি মামলা করেন। বর্তমানে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) মামলাটির তদন্ত করছে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও ডিবির সহকারী কমিশনার (এসি-দক্ষিণ) মো. কামরুজ্জামান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এখনও মামলার তদন্ত চলছে। যদিও মামলার প্রধান দুই সন্দেহভাজন মুসা সিকদার ও কালু এখনও পলাতক রয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে এ পর্যন্ত সাতজনকে আটক করেছে পুলিশ। তারা রিমান্ডে এ ঘটনায় জড়িত কয়েকজনের নাম উল্লেখ করেছে। তাদের ধরতে পুলিশ অভিযান অব্যাহত রেখেছে।’
ডিবির এই সহকারী কমিশনার বলেন, ‘বাবুল আক্তার নিজে থেকে পুলিশের সঙ্গে কোনও যোগাযোগ রাখেনি। পুলিশই তদন্তের স্বার্থে নিয়মিত তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।’
যদিও এই তদন্ত কর্মকর্তা মামলার মোটিভ সম্পর্কে কোনও স্পষ্ট ধারণা দেননি।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তারা বলেন, ‘যদিও মিতু হত্যাকাণ্ডে অনেক অগ্রগতি হয়েছে। তবে ঘটনার পর মিতুর মোবাইল ফোনটি পাওয়া যাচ্ছে না। তবে পুলিশ হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত কয়েকটি ধারাল অস্ত্র উদ্ধার করেছে।’
ঘটনার পর পুলিশ ও তদন্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মিতু হত্যাকাণ্ডে ৭/৮ জন পেশাদার খুনি অংশ নেয়। যার মধ্য তিনজন সরাসরি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। ঘটনার পর ৬ জুন নগরীর বাদুরতলা এলাকার একটি গ্যারেজ থেকে পুলিশ হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে। আর ৮ জুন এ ঘটনায় শিবিরের সাবেক নেতা ও হাটহাজারির ফারহাবাদ এলাকায় মুসাবিয়া দরবার শরীফের কেয়ারটেকার আবু নসর গুন্নুকে আটক করে পুলিশ। ১১ জুন মতি ঝরনা এলাকা থেকে শাহ জামান রবিনকে আটক করে আদালতে হাজির করে।
পরে ২৫ জুন নাটকীয়ভাবে বাবুল আক্তারকে ঢাকায় তার শ্বশুর বাড়ি থেকে গোয়েন্দা কার্যালয়ে নিয়ে গিয়ে ১৫ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। ২৬ জুন হত্যাকারী মোতালেব মিয়া ওয়াসিম এবং আনোয়ারকে আটক করে গোয়েন্দারা।
স্বীকারোক্তিতে তারা দাবি করে, ‘মুসা এ হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করে এবং টাকার বিনিময়ে তাদের ভাড়া করা হয়। ঘটনার দিন মুসা মিতুর মাথায় গুলি করে এবং নবী তাকে ছুরিকাঘাত করে।’
তারা আরও দাবি করে, ‘এহতেশামুল হক ভোলা নামে এক ব্যক্তি এ হত্যাকাণ্ডের জন্য মুসাকে অস্ত্র সরবরাহ করে।
২৮ জুন নগরীর বাকালিয়া এলাকা থেকে অস্ত্রসহ এহতেশামুল হক ভোলা ওরফে হানিফুল হক ওরফে ভোলাইয়া এবং তার সহযোগী মনিরকে আটক করে। পরে মিতু হত্যা মামলায় ভোলাকে আটক দেখিয়ে তাকে রিমান্ডে নেওয়া হয়। পরে পুলিশ মোটরসাইকেল সরবরাহ করার অভিযোগে রাঙ্গুনিয়া থেকে মুসার বড় ভাই সাইফুল ইসলাম সাকু এবং শাহজাহানকে আটক করে।
৫ জুলাই গোয়েন্দা বিভাগ জানায়, রানির হাট এলাকায় অভিযান চলাকালে পুলিশের সঙ্গে বন্দুক যুদ্ধে রাশেদ এবং নবী নিহত হয়। যদিও ২ জুলাই রাশেদের বাবা এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, ২৩ জুন সাদা পোশাকের পুলিশ বাড়ি থেকে রাশেদ ও নবীকে তুলে নিয়ে যায় এবং তার পর থেকেই তারা নিখোঁজ ছিল।
রাশেদের পরিবারের মতো মুসার স্ত্রীও পান্না সিকদার দাবি করে, সাদা পোশাকের পুলিশ গত ২২ জুন বাড়ি থেকে মুসা ও তার বড় ভাই সাকুকে তুলে নিয়ে যায়।
এদিকে, এ মামলার পর রাজধানীতে নিহত মাহমুদা খানম মিতুর স্বামী বাবুল আক্তারকে ২৪ জুন পুলিশ সদর দফতরে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে তিনি পদত্যাগপত্র জমা দেন। দীর্ঘদিন পর গতকাল ৬ আগস্ট মঙ্গলবার তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
/এসএনএইচ/টিএন/








