প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে কার্ড ও ১০ টাকা দরের চাল পেয়ে চিলমারীর হতদরিদ্র হালিমা বেগম বললেন, ‘বেটি (শেখ হাসিনা) হামার খাওয়ার ব্যবস্থা করছে। তাই আগত নৌকাত ভোট দিছি, ফির দিমো। বেটি হামারগ ক্ষিধার জ্বালা বুইজবার পাইছে।’
মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চিলমারীর এ ইউ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে এক সুধী সমাবেশে দেশের হতদরিদ্র জনগোষ্ঠীকে ১০ টাকা দরে চাল দেওয়া কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
১০ টাকা দরে চাল পেয়ে কুড়িগ্রামের চিলমারীর হতদরিদ্র মানুষেরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ওপর ভীষণ খুশি। বছরে পাঁচ মাস ১০ টাকা দরে চালের নিশ্চয়তা পেয়ে তারা এখন নৌকা মার্কায় ভোট দেওয়ারও নিশ্চয়তা প্রদান করেছেন।
মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চিলমারীর এ ইউ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এক সুধী সমাবেশে দেশের হতদরিদ্র জনগোষ্ঠীকে দশ টাকা দরে চাল দেওয়া কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। এ দিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চিলমারীর উপজেলার ১৫ জনের হাতে দশ টাকা দরে ত্রিশ কেজি চাল ও একটি করে কার্ড বিতরণ করেন। যা দিয়ে তারা বছরে পাঁচ মাস ১০ টাকা দরে ত্রিশ কেজি চাল পাবেন। সরকারের এ সুবিধার আওতায় থাকবে দেশের ৫০ লাখ মানুষ।
কুড়িগ্রামের চিলমারীতে দশ টাকা দরে ত্রিশ কেজি চাল ও কার্ড পাওয়া হতদরিদ্রদের সঙ্গে কথা হয় বাংলা ট্রিবিউনের। জানতে চাওয়া হয় তাদের অনুভূতির কথা।
দশ টাকা দরে ত্রিশ কেজি চাল ও একটি কার্ড প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে নেন আব্দুল খালেক। তার কাছে এই ব্যবস্থা নিয়ে জানতে চাইলে খালেক বলেন, ‘খুব ভাল লাগছে। আওয়ামী লীগ সরকার মাসে ৩০ কেজি চাউলের ব্যবস্থা করি দিছে, খরার সময় হামার আর খাওয়ার চিন্তা করা লাইগব্যার নয়। প্রধানমন্ত্রীক ছালাম দিছি, তাঁই ছালাম নিছে হামার খুব ভাল লাগব্যার নাগছে।’
চাল পাওয়া ফাতেমা বেগম জানান, ‘মাসের চিন্তা আর নাই। ৩০০ টাকা দিয়া একমাস পার হইবে। খরার সময় হামার খুব খাবার কষ্ট হয়, এলা আর সেই কষ্ট থাইকপ্যার নয়। সরকারক (শেখহাসিনা) কাছত থাকি দেখপার পায়া আমার অনেক ভাল লাগছে। বেটি আমার কাছে দোয়া চাইছে।’
এদিন চাল পেয়েছেন বাসন্তী রাণী নামে আরেক নারী। এসময় ’৭৪ এর দুর্ভিক্ষের সময় আলোচিত সেই বাসন্তীকে ভেবে প্রধানমন্ত্রী তাকে প্রশ্ন করেন, ‘তুমিই বাসন্তি রাণী?’ তবে এরপরেই তিনি নিশ্চিত হন এই বাসন্তী সেই বাসন্তী নন। তারপরও প্রধানমন্ত্রীর এমন প্রশ্নে কার্ড নিতে আসা বাসন্তি রাণী অনেক আনন্দিত হয়েছেন জানিয়ে বলেন, ‘আগে প্রধানমন্ত্রীকে খালি টেলিভিশনে দেখছি, আইজ তার হাত থাকি কার্ড আর চাউল নিয়া খুব ভাল লাগছে। এই কথা আমার সারা জীবন মনে থাইকবে।শেখ হাসিনা খুব ভালো।’
প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে কার্ড ও চাল গ্রহণকারী হালিমা বেগম জানান, ‘বেটি (শেখ হাসিনা) হামার খাওয়ার ব্যবস্থা করছে। তাই আগত নৌকাত ভোট দিছি, ফির দিমো। ’ বেটি হামারগুলার (আমাদের) ক্ষিধার জ্বালা বুইজবার পাইছে।’
মোস্তফা আলী জানান, ‘শেখ হাসিনার দেওয়া চাউল নেওয়ার জন্য ছুটি আছচি। বিরাট উপকার হইল, মাসে ৩০ কেজি করি হামরা পাঁচ মাসে দেড়শ’ কেজি চাউল পামো। হামার আর অভাব থাকপ্যার নয়, খাওয়া নিয়া হামার আর চিন্তা থাকপ্যার নয়। হামরা নৌকাত-এ ভোট দিমো।’
কার্ড পাওয়াদের তালিকায় নাম আছে এমন একজন সুবিধাভোগী নারী বুলবুলি রাণী। স্বামী ভ্যানচালক, সংসারে তাই অভাব লেগেই থাকে। সরকারের দেওয়া ১০ টাকা কেজি দরে চাল পাওয়ায় কেমন লাগছে জানতে চাইলে এই নারী জানান, ‘এলা থাকি কাতি (কার্তিক) মাসে হামার আর মঙ্গা থাইকপ্যার নয়। এটায় হামার শান্তি।’
/টিএন/








