টঙ্গীর ট্যাম্পাকো লিমিটেড কারখানায় বিস্ফোরণের পর ২৩ জনকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে আনা হয়েছে। তাদের মধ্যে চার জন মারা গেছেন বলে জানিয়েছেন ঢামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিজানুর রহমান।
তিনি সাংবাদিকদের জানান, ‘সকাল ৬টায় দুর্ঘটনার পর থেকেই টঙ্গী থেকে এখানে রোগী আসতে শুরু করেছে। হাসপাতালে আসার পর তিনজন চিকিৎসা নিয়ে চলে গেছেন। ১২ জন বিভিন্ন ইউনিটে চিকিৎসীন আছেন। বার্ন ইউনিটে তিন জন আছেন। দুই জনের অপারেশন চলছে। ১২ বছরের একটি শিশুর অবস্থা আশঙ্কাজনক। সে অপারেশনের জন্য ফিট নয়। তার অবস্থার একটু উন্নতি হলে অপারেশন করা হবে। মর্গে চারজনের লাশ রাখা আছে।’
ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিহতরা হচ্ছেন- সিকিউরিটি গার্ড দেলোয়ার হোসেন (৪৫), মেশিনম্যান আনোয়ার হোসেন (৪০), শ্রমিক অহিদুজ্জামান স্বপন (৩৪) ও অজ্ঞাত নারী।
ওই কারাখানার খোকন নামের এক কর্মী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, 'অজ্ঞাত নারী কারখানার কেউ নন। তিনি পথচারী। আমি তাকে হাসপাতালে নিয়ে এসেছি। তার লাশ মর্গে পড়ে আছে।'
তিনি আরও জানান, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অত্যন্ত গুরুত্বে সঙ্গে ট্যাম্পাকোর রোগীদের বিষয়টি দেখছেন।
এদিকে টঙ্গী ৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক মো. পারভেজ মিয়া জানান, হাসপাতালে ১৪ জনের লাশ রাখা হয়েছে। এছাড়াও আশঙ্কাজনক অবস্থায় ২০ জনকে ভর্তি করা হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের উপ সহকারী পরিচালক আখতারুজ্জামানও এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। ট্যাম্পাকো কারখানায় উদ্ধার কাজ চলছে। ফায়ার সার্ভিসের ২০টি ইউনিট আগুন নেভানোর কাজ করছেন।
নিহতদের মধ্যে রয়েছেন- ট্যাম্পাকোর সিকিউরিটি গার্ড আবদুল হান্নান ও জাহাঙ্গীর, প্রিন্টিং টেনিশিয়ান রফিকুল ইসলাম, শিফট ইনচার্জ শুভাশিশ চন্দ্র, জেনারেটর অপরেটর আনিসুর রহমান, ক্লিনার শঙ্কর সরকার।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, কারখানার ভেতরে শতাধিক শ্রমিক ছিলেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। মৃতের সংখ্যা বাড়তে পারে।
ফায়ার সার্ভিসের প্রধান নিয়ন্ত্রণ কক্ষের কর্তব্যরত কর্মকর্তা পলাশ মণ্ডল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘শনিবার (১০ সেপ্টেম্বর) ভোর ৬টা ৫ মিনিটের দিকে টঙ্গীর টাম্পাকো প্যাকেজিং কারখানায় নিচতলায় বয়লার বিস্ফোরণ ঘটে। এরপর কাখানায় আগুন ধরে যায়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ২০টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। কারখানাটি পাঁচ তলা। সেখানে রাতের শিফটে কাজ করছিলেন শ্রমিকরা। বিস্ফোরণের পর ভবনটি ধসে পড়েছে।'
গাজীপুরের পুলিশ সুপার হারুন উর রশীদ গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, আশেপাশের ভবনগুলোতে আগুন যাতে ছড়িয়ে না পড়ে সেজন্য সতর্ক অবস্থায় রয়েছে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলের আশেপাশে অবস্থান নিয়েছে এবং উৎসুক জনতাকে সরিয়ে দিয়েছে। যাতে জানমালের ক্ষয়-ক্ষতি কমিয়ে আনা যায় তার জন্য সচেষ্ট রয়েছে আইন-শৃঙ্খলাবাহিনী।
আরও পড়ুন-
টঙ্গীতে বয়লার বিস্ফোরণে নিহত অন্তত ১৮
বিস্ফোরণের পর ধসে গেছে টঙ্গীর ওই কারখানা
/জেএ/জেইউ/এফএস/এআরএল/








