টঙ্গীর টাম্পাকো প্যাকেজিং কারখানায় আগুনে দগ্ধ হয়ে এবং ভবন ধসে নিহত ২৫ জনের মধ্যে ২৪ জনের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। তাদের মধ্যে ২৩ জনের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
শনিবার বিকেলের মধ্যেই নিহত শ্রমিকদের মরদেহ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে আনা হয়। এরপর রাতে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। জানা গেছে, ২৩ জনের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ঢামেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজন মারা গেছেন। এ নিয়ে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৫ জনে।
শনিবার (১০ সেপ্টেম্বর) ভোর ছয়টা পাঁচ মিনিটের দিকে গাজীপুরের টঙ্গীর টাম্পাকো প্যাকেজিং কারখানায় বিস্ফোরণের পর আগুন ধরে যায়। পরে পাঁচতলা ভবনটি আংশিক ধসে পড়ে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ২৬টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে।
দুর্ঘটনার সময় শ্রমিকরা রাতের শিফটে কাজ করছিলেন। এতে ২৫ জন শ্রমিক নিহত ও শতাধিক শ্রমিক আহত হন। নিহত ২৫ জনের মধ্যে ২৪ জনের নাম জানা গেছে। তারা হলেন – আনিসুর রহমান (৪০), আব্দুল হান্নান (৬৫), ইদরিস আলী (৪০), জাহাঙ্গীর আলম (২৪), মামুন (২৮), রোজিনা (২০), মিজান (২৮-৩০), সাইদুর রহমান (৫০), মাইনুদ্দিন (৩৫), আল মামুন (৪০), হাসান সিদ্দিকি (৩০), সোলেমান (৩২), এনামুল হক (২৮), রাশেদ (২৫), শঙ্কর সরকার (২৫), গোপাল দাস (২৫), রফিকুল ইসলাম (২৮), সুভাষ চন্দ্র প্রসাদ (৩৫),আশিক (১২), দেলোয়ার হোসেন (৫০), আনোয়ার হোসেন (৪০), ওয়াহিদুজ্জামান স্বপন (৩৫), তাহমিনা আক্তার (২০), রিপন দাস (৩০)। একজনের পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। আহতদের ঢামেক হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এদিকে, শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত শনিবার দিনগত রাত সোয়া একটার সময়ও আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা যায়নি। ফায়ার সার্ভিসের ২৬টি ইউনিট কাজ করছে বলে জানা গেছে।
শনিবার বিকেল পাঁচটার দিকে আগুন কিছুটা কম দেখা গেলেও সন্ধ্যার পর হঠাৎ আগুন বেড়ে যায়। এসময় এক নাগাড়ে আগুন জ্বলতে থাকে। তখন ফায়ার সার্ভিস কর্মীদেরও পানি দিতে দেখা যায়নি। এরপর রাত নয়টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের প্রধান কার্যালয়ের স্টেশন ম্যানেজার সানোয়ার হোসেন বলেন, ‘পানি নেই। তুরাগ থেকে পানি আনতে হচ্ছে। এতে বিলম্ব হচ্ছে। তাছাড়া কেমিক্যালে আগুন বলে সহজে নিভছে না। হঠাৎ করেই জ্বলে উঠছে।’
/এসএ/








