টাম্পাকো ফয়েলস কারখানা ধসের ঘটনায় আজ সোমবার ও গতকাল রবিবার যে লাশ উদ্ধার করা হয়েছে, তা ডিএনএ টেস্ট করে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। উদ্ধারকৃত লাশ শনাক্ত করতে না পারায় গাজীপুর জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সোমবার দুপুরে গাজীপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) হারুন অর রশীদ বাংলা ট্রিবিউনকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, ‘আমরা লাশগুলো ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছি। যেসব লাশ শনাক্ত করা যাচ্ছে না, তাদের ডিএনএ পরীক্ষা করা হবে। স্বজনদের সঙ্গে তাদের ডিএনএ মিলিয়ে দেখে লাশ দেওয়া হবে। এছাড়াও তাদের আঙ্গুলের ছাপ নেওয়া হবে। যার মাধ্যমে তাদের জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যের ভিত্তিতে শনাক্তের চেষ্টা করা হবে। আমরা নিশ্চিত হয়ে লাশ হস্তান্তর করতে চাই।'
এর আগে সোমবার ভোরে ধ্বংসস্তূপের মধ্য থেকে দুই শ্রমিকের লাশ উদ্ধার করে সেনাবাহিনী ও ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী দল। সেখানে নিহতের স্বজনরা থাকলেও তাদের লাশ কেউ শনাক্ত করতে পারেননি। তাদের লাশ ঢামেক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ফায়ার সার্বিসের পরিচালক (প্রশিক্ষণ ও উন্নয়ন) লে. ক. মোশারফ হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সড়কের ওপরে ধসে পড়া ভবনের অংশ সরিয়ে ফেলার কাজ চলছে। সেনাবাহিনীর একটি টিম কাজ করছে। ধসে পড়া ভবনের নীচ থেকে গতকাল রাতে চারটি এবং সোমবার ভোরে দু’টি এবং দুপুরে আরও একটি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।
শনিবার ভোর ৬ টার দিকে টঙ্গির বিসিক এলাকার টাম্পাকো ফয়েলস লিমেটেড-এর কারখানাটি বিস্ফোরণের পর ধসে পড়ে। এতে এখনও পর্যন্ত ৩২ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এখনও নিখোঁজ রয়েছেন অনেকে।
আজিম নামে এক শ্রমিক গত তিন দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছেন। তার ভাই রহিম সোমবার দুপুরে জানান,এখনও আজিমের কোনও সন্ধান তারা পায়নি। লাশ উদ্ধারের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তারা লাশের চেহারা চিনতে পারছেন না।
আগুনের সূত্রপাত ও ভবন ধসের কারণ উদঘাটনে ফায়ার সার্ভিস, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, শিল্পমন্ত্রণালয়, বিসিক ও জেলা প্রশাসক পৃথক কমিটি গঠন করেছে।
রবিবার রাতে টঙ্গি থানায় এই ঘটনায় কারখানাটির মালিকের নামে নিহত এক শ্রমিকের স্বজন হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় মোট সাত জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক আরও বলেন,আজ (সোমবার) আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এখন ডাম্পিংয়ের কাজ হবে। ধ্বংসাবশেষ সরানো হবে। তবে এই কাজে কতদিন লাগবে তা এখনও জানা যায়নি।
এপিএইচ/আপ-এআরএল/
আরও পড়ুন:








