মিয়ানমার থেকে রোহিঙ্গাদের আসা ঠেকাতে সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারসহ কূটনীতিক পর্যায়ে নানান উদ্যোগ নিয়েই যাচ্ছে সরকার। কিন্তু, বাস্তবতা হলো বিভিন্ন ফন্দি-ফিকির করে রোহিঙ্গারা আসছেই। তাদের থামানো যাচ্ছে না কোনোভাবেই। এর ফলে বাড়ছে এদেশে শরণার্থীর সংখ্যা, দেশের ভেতরে বাড়ছে নিরাপত্তা ঝুঁকি।
প্রশাসন ও রোহিঙ্গাদের নিয়ে কাজ করছেন এমন মহলের ধারণা, রোহিঙ্গারা সন্ত্রাসী গ্রুপগুলোর জন্য সহজ শিকার এবং তাদের সহজেই জঙ্গি হিসেবে ব্যবহার করা সম্ভব। বিশেষ করে গত জুলাই মাসে গুলশান ও কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠের অদূরে জঙ্গি হামলার পরে রোহিঙ্গাদের নিয়ে প্রশাসনের উদ্বেগ আরও বেড়েছে। এ কারণ তাদের বিষয়ে সরকার আরও বেশি সতর্কতা অবলম্বন করছে।
রোহিঙ্গা সমস্যাটি নিয়ে দ্বিপক্ষীয় আলোচনাই এখন ভরসা সরকারের। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বাংলা ট্রিবিউনকে জানিয়েছেন, রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সব ধরনের চেষ্টা চালানো হচ্ছে সরকারের পক্ষ থেকে। কিন্তু, কোনোভাবেই তা সম্ভব হয়ে উঠছে না।
রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বাধা কোথায়, এমন প্রশ্নের জবাবে উন্মুক্ত সীমান্ত, বিজিবি’র অপ্রতুল জনবল ও আনুষঙ্গিক সহায়তার অভাবকে দায়ী করেন তিনি। আর বিদ্যমান ব্যবস্থায় রোহিঙ্গারা যেভাবে আসছে সেটি বন্ধ করা প্রায় অসম্ভব বলে মনে করেন তিনি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা আরও মনে করেন, রোহিঙ্গাদের একটি অংশ বাংলাদেশে এসে বিভিন্ন ধরনের অবৈধ কার্যক্রম যেমন ইয়াবা বা মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো পরিচালিত রোহিঙ্গা জরিপের প্রাথমিক উপাত্তে দেখা গেছে তিন লাখের কম রোহিঙ্গা নিবন্ধিত হয়েছে। কিন্তু, এ দেশে উদ্বাস্তু হয়ে আসা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের প্রকৃত সংখ্যা এর দেড় গুণেরও বেশি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আরেক কর্মকর্তা বলেন, ‘আমাদের ধারণা, অনিবন্ধিত রোহিঙ্গার সংখ্যা কমপক্ষে পাঁচ লাখ। কিন্তু প্রাথমিক হিসেবে এটি অনেক কম দেখা যাচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘এর একটি অন্যতম কারণ একটি অংশ এখনও নিবন্ধনের আওতায় আসেনি এবং তারা সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ছে।’
এ বছরের মে মাসে ৬টি জেলায় রোহিঙ্গা জরিপ চালানো হয় এবং এর পুরো ফল এ বছরের শেষে প্রকাশ করা বলে আশা করা হচ্ছে। রোহিঙ্গা অধ্যুষিত ওই ৬টি জেলা হচ্ছে কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি ও পটুয়াখালী।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশে ৩২ হাজারের মতো রোহিঙ্গা শরণার্থী কক্সবাজারের দুটি ক্যাম্পে অবস্থান করছে এবং বাকিরা বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে।
তিনি বলেন, গত মাসে রোহিঙ্গা বিষয়ক জাতীয় টাস্কফোর্সের সভায় এ বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
/এসএসজেড/টিএন/আপ-এনএস/








