নদী দখল ঠেকাতে ও দূষণরোধে সরকার আন্তরিক বলে মন্তব্য করেছেন নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান। তিনি বলেন, নদী রক্ষা করতে আমরা চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেছি। যতই প্রভাবশালী হোক না কেন, কাউকেই নদীর জায়গা দখল করতে দেওয়া হবে না। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা হবে। রবিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে বিশ্ব নদী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা অনুষ্ঠানে তিনি এ সব কথা বলেন।
জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন এবং বাংলাদেশ নদী পরিব্রাজক দল যৌথভাবে এই আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
নদী দখলকারী ও দূষণকারীদের বর্তমান যুগের রাজাকার বলে অভিহিত করে শাজাহান খান বলেন, নদীর নাব্যতা রক্ষার্থে ‘টাস্কফোর্স’ এবং নদীর বহুমাত্রিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে ‘জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন’ গঠন করা হয়েছে। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় নদীর প্রাণ ফিরিয়ে দেওয়া হবে। নদীর দখল ও দূষণমুক্ত করতে নৌবাহিনী প্রধানের নেতৃত্বে একটি স্টিয়ারিং কমিটি গঠন করা হয়েছে।
শাজাহান খান বলেন, বাংলাদেশে ২৪ হাজার কিলোমিটার নৌপথ ছিল। এখন আছে ৩ হাজার ৬০০ কিলোমিটার, যা বর্ষায় এসে দাঁড়ায় ছয় হাজার কিলোমিটারে। নদীর প্রতি অযত্ন ও অবহেলার কারণে এ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। তিনি বলেন, নদী খননের জন্য দু’শতাধিক ড্রেজার প্রয়োজন। সরকারের গত মেয়াদে বিআইডব্লিউটিএ ১৪টি এবং পানি উন্নয়ন বোর্ড ১৫টি ড্রেজার সংগ্রহ করেছে। বর্তমান মেয়াদে বিআইডব্লিউটিএ-এর জন্য ২০টি এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের জন্য ১৫টি ড্রেজার সংগ্রহ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
নৌমন্ত্রী বলেন, নদীর জায়গা যেন কেউ পুনঃদখল করতে না পারে, সে জন্য সীমানা পিলার বসানো হয়েছে। ঢাকার চারপাশে ২০ কিলোমিটার ওয়াকওয়ে নির্মাণ করা হয়েছে, আরও ৫০ কিলোমিটার ওয়াকওয়ে নির্মাণ করা হবে। তিনি বলেন, শ্যামপুরে নদীর তীরে একটি ‘ইকোপার্ক’ নির্মাণ করা হয়েছে। কাঁচপুর ও আশুলিয়াতে দু’টি ইকোপার্ক নির্মাণ করা হবে।
বাংলাদেশ নদী পরিব্রাজক দলের সভাপতি মো. মনির হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. জাফর আহমেদ খান, জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান মো. আতাহারুল ইসলাম, নদী বিশেষজ্ঞ মো. মঞ্জুরুল কিবরিয়া।
দিবসটি উপলক্ষে রচনা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। নৌমন্ত্রী পরে রচনা প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন।
/এসআই/এমএনএইচ/আপ-এমও/








