জাতীয় সংসদে জেলা পরিষদ আইন (সংশোধন) বিল-২০১৬ মঙ্গলবার উত্থাপন করা হয়েছে। স্থানীয় সরকারমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন বিলটি উত্থাপন করেন। এরপর তা পরীক্ষা করে একদিনের মধ্যে সংসদে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়। বর্তমান সরকারের আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে জেলা পরিষদ নির্বাচনের পরিকল্পনা হয়েছে। এ লক্ষ্যে দুই-একদিনের মধ্যে বিলটি পাস হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রস্তাবিত আইনে বলা হয়েছে, ‘জেলা পরিষদের বর্তমান প্রশাসকরা নির্বাচন করতে চাইলে তাকে পদ থেকে পদত্যাগ করতে হবে।’ বিলে এছাড়া জেলা পরিষদের প্রতিনিধিদের শপথ নেওয়ার সময় তাদের পরিচিতির জন্য পিতা বা স্বামীর নামের সঙ্গে মায়ের নাম অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
২০০০ সালের জেলা পরিষদ আইনে পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের সাময়িক বরখাস্তের বিধান ছিল না। প্রস্তাবিত আইনে আদালত কর্তৃক চেয়ারম্যান ও সদস্যদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলায় অভিযোগপত্র গৃহীত হওয়া সাপেক্ষে সাময়িক বরখাস্তের বিধান রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।
বিদ্যমান আইনে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যানদের জেলা পিরষদ নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সুযোগ ছিল না। প্রস্তাবিত আইনে সেটি করা হয়েছে।
এছাড়া নির্বাচন পরিচালনা এবং এ সংক্রান্ত বিধি-বিধান প্রণয়নের ক্ষমতা সরকারের পরিবর্তে নির্বাচন কমিশনকে প্রদানের প্রস্তাব করা হয়েছে।
বিলে জেলা পরিষদ নির্বাচনে কোনও প্রার্থী দুর্নীতি বা নির্বাচনি অপরাধ করলে সাত বছরের সাজার বিধান রাখা হয়েছে। এর সঙ্গে আচরণবিধি ভঙ্গের দায়ে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অথবা সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড বা উভয় দণ্ডের বিধান যোগ করার কথা বলা হয়েছে।
বিদ্যমান আইনে নির্বাচন সম্পর্কিত বিরোধ নিষ্পত্তিতে সাব-জজ পদের কর্মকর্তার সমন্বয়ে ট্রাইব্যুনাল গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। প্রস্তাবিত আইনে ওই ট্রাইব্যুনালের নেতৃত্বে ‘যুগ্ম জেলা জজ’ রাখার বিধান রাখা হয়েছে।
তিন পার্বত্য জেলা বাদে দেশের ৬১টি জেলা পরিষদে ২০১১ সালের ১৫ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগ নেতাদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেয় সরকার।
তাদের মেয়াদপূর্তিতে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে জেলা পরিষদ নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে।
গত ২৯ অগাস্ট বিলটি মন্ত্রিসভার অনুমোদন পায়। ওই সময় সংসদ অধিবেশন না থাকায় ৫ সেপ্টেম্বর এ সংক্রান্ত অধ্যাদেশ জারি করে সরকার। ওই অধ্যাদেশ বাতিল করে আইন হিসেবে পাস করার জন্য বিলটি সংসদে তোলা হয়েছে। এরপর সোমবার নতুন কিছু সংশোধনী সহ বিলটি মন্ত্রিসভা আবারও অনুমোদন দেয়।
বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সম্পর্কে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, ‘জেলা পরিষদ আইনটি ২০০০ সালে প্রণীত হয়। ইতোমধ্যে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হয়েছে এবং জেলা পরিষদ ব্যতীত অন্য সব স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে নির্বাচনে অনুষ্ঠিত হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে জনগণ ও জনপ্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে জলা পরিষদ নির্বাচন সম্পন্ন করার দাবি উত্থাপিত হয়ে আসছে। নির্বাচিত প্রতিনিধি দ্বারা জেলা পরিষদগুলো পরিচালিত হলে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার সফল বাস্তবায়ন হবে। বিদ্যমান প্রেক্ষাপট বিবেচনায় এনে জেলা পরিষদ আইন সংশোধন করে যুগোপযোগী করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেওয়ায় আইনটি সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
/ইএইচএস/এমএনএইচ/








