নগরবাসীকে সেবা দিতে এবার বিভিন্ন ধরনের ফরমের দাম বাড়িয়েছে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন। এ কারণে এখন থেকে সেবা পেতে অতিরিক্ত অর্থ গুণতে হবে নাগরিকদের। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কোনও কোনও ফরমের দাম পাঁচ গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। এদিকে, সেবা ফরমের আকস্মিক ও অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিতে সেবাগ্রহীতা নাগরিকরা চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
ঢাকা মহানগরীতে ব্যবসা করার জন্য ট্রেড লাইসেন্স, রাস্তা খননের আবেদন, দোকান বরাদ্দ, হোল্ডিংয়ের নামজারিসহ বিভিন্ন কাজের জন্য নির্ধারিত ফরম রয়েছে সিটি করপোরেশনে। নির্ধারিত মূল্যে এগুলো করপোরেশনের ভাণ্ডার বিভাগ থেকে বিক্রি করা হয়। চলতি মাসের প্রথম দিন থেকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে কার্যকর হয়েছে ফরমের এই বর্ধিত মূল্য। এর আগে ফরমের মূল্য বাড়ায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন।
দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান কার্যালয় নগরভবনে আসা ব্যবসায়ী মোসলেহউদ্দিন জানান, ট্রেড লাইসেন্স করতে এসে জানতে পারলাম এ সংক্রান্ত বইয়ের দাম পাঁচগুণ বাড়ানো হয়েছে। এ খবর আগে জানানো হয়নি। এ সংক্রান্ত কোনও বিজ্ঞপ্তিও প্রকাশ করা হয়নি বলেও তিনি অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, সিটি করপোরেশন আগে ট্রেড লাইসেন্সের ফি বাড়িয়েছে। এরপর বাড়াল ফরমের দাম।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) সূত্রে জানা গেছে, করপোরেশনের মার্কেটের দোকান বরাদ্দের আবেদন ফরমের প্রতি পাতার দাম এতদিন ছিল এক হাজার টাকা। বর্তমানে এই দাম দ্বিগুণ বৃদ্ধি করে নেওয়া হচ্ছে দুই হাজার টাকা। ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নামে ইস্যুকৃত ট্রেড লাইসেন্স বইয়ের মূল্য আগে ছিল ১০০ টাকা। এখন নেওয়া হচ্ছে ১৫০ টাকা। সাধারণ প্রকৃতির ব্যবসার ট্রেড লাইসেন্স আবেদন ফরমের পূর্বমূল্য ছিল প্রতি পাতা ১০ টাকা। এখন এই দাম পাঁচগুণ বাড়িয়ে নেওয়া হচ্ছে ৫০ টাকা।
কারখানা বা শিল্প প্রতিষ্ঠানের ট্রেড লাইসেন্স, সড়ক খননের অনুমতি গ্রহণ এবং ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের হোল্ডিংয়ের নামজারির আবেদন ফরম ১০ টাকা থেকে ৫০ টাকা করা হয়েছে। নকল চাওয়ার আবেদন ফরম প্রতি পাতা ১৫ টাকা থেকে ৬০ টাকা, রিকশার মালিকানা পরিবর্তন বা হস্তান্তরে নামজারির আবেদন ফরম প্রতি পাতা এক টাকা থেকে দশগুণ বাড়িয়ে ১০ টাকা, বিজ্ঞাপন ফলক স্থাপনের তালিকাভুক্তির আবেদন ফরম প্রতি পাতা ১০ টাকা থেকে ৫০ টাকা, বিজ্ঞাপন ফলক স্থাপনের স্থান বরাদ্দের আবেদন ফরম প্রতি পাতা ২০ টাকা থেকে পাঁচ গুন বাড়িয়ে ১০০ টাকা, সিটি করপোরেশনের বিজ্ঞাপন নীতিমালা-২০০৩ এর প্রতিটি পুস্তিকার দাম একশ টাকা থেকে দুইশ টাকা করা হয়েছে।
ডিএসসিসির সচিব খান মোহাম্মদ রেজাউল করিম বলেন, অনেক আগে এসব ফরমের দাম নির্ধারণ করা ছিল। এ দাম ছিল খুবই কম। এ কারণে বর্তমান বাজার অনুসারে দাম বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
/ওএফ/টিএন/
আরও পড়ুন: সংসদে প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্ন: সবাই দাঁড়িয়ে ভিডিও করলো, মেয়েটিকে বাঁচাতে কেউ এগিয়ে গেলো না কেন?







