বঙ্গবন্ধুর ‘সোনার বাংলা’র স্বপ্নকে বাস্তবায়নে শেখ হাসিনার সরকারকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে ‘চাইনিজ ড্রিম’। সুপার পাওয়ার হিসেবে স্বীকৃত চীনকে উন্নতির শিখরে পৌঁছে দিতে বর্তমানে এই মন্ত্র নিয়েই কাজ করে যাচ্ছে দেশটিতে ক্ষমতাসীন সোশ্যালিস্ট পার্টি। এটি দেশটির প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের উন্নয়নের স্লোগান। আর তিনিই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আশ্বস্ত করেছেন, বাংলাদেশকে মধ্য আয়ের দেশে পরিণত করতে তার সরকার সব সময় পাশে থাকবে। সোনার বাংলা গড়তে সহযোগিতা দেবে চীনা স্বপ্ন ‘চাইনিজ ড্রিম’।
বাংলাদেশে দুই দিনের সফরে এসে শুক্রবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠকে মিলিত হয়েছিলেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং।দ্বিপক্ষীয় ওই বৈঠকে চীনের প্রেসিডেন্ট ঘোষণা দেন শেখ হাসিনার ’সোনার বাংলা’র কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন করতে চীন সবসময় পাশে থাকবে। এজন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবে চীন। আর নিজ দেশকে উন্নতির শিখরে নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি এশীয় অন্য দেশগুলোর প্রতি সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেওয়াও ’চাইনিজ ড্রিম’ এর অন্যতম লক্ষ্য।
তিনি এসময় দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, সোনার বাংলা এবং চাইনিজ ড্রিম এক পথে থাকবে এবং এ জন্য উভয় দেশের পঞ্চবার্ষিক উন্নয়ন পরিকল্পনার মধ্যে সমন্বয় করা প্রয়োজন। এ প্রস্তাবে একমত পোষণ করে বাংলাদেশ। পরে যৌথ বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, দুই দেশের উন্নয়ন পরিকল্পনাগুলোর মধ্যে সমন্বয় আনার পদ্ধতি আরও সম্প্রসারণ করার বিষয়ে উভয়পক্ষ একমত হয়েছে।
উল্লেখ্য, ‘সোনার বাংলা’ হচ্ছে বাংলাদেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির প্রতিচ্ছবি। এই শব্দবন্ধের মাধ্যমে দেশটিকে উন্নতির শিখরে নিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছিলেন বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও দেশের স্থায়ী টেকসই উন্নয়নের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়নে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।
অন্যদিকে, ‘চাইনিজ ড্রিম’ হচ্ছে চীনের সোশ্যালিস্টদের মধ্যে জনপ্রিয় একটি শব্দ যার মাধ্যমে তারা দলীয় এবং জাতীয় আদর্শের কথা বলে থাকে। ২০১৩ সালের পরে চীনের সোশ্যালিস্টদের মধ্যে এই শব্দবন্ধটি জনপ্রিয় হয়ে উঠে এবং একই শব্দ শি জিনপিং এখন শ্লোগান হিসাবে ব্যবহার করছেন।
দুই নেতার মধ্যে অনুষ্ঠিত ওই দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন এমন একজন কর্মকর্তা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, জিনপিং ‘সোনার বাংলা’ বিষয়ে একাধিকবার আলাপ করেন এবং ‘চাইনিজ ড্রিম’ এর সঙ্গে এর মিলের কথা বলেন।
চীনের প্রেসিডেন্ট বলেন, বাংলাদেশ ২০২১ সাল নাগাদ মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সাল নাগাদ উচ্চ আয়ের দেশ হওয়ার লক্ষ্য নিয়েছে এবং চীন এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সবধরনের সহযোগিতা দেবে।
/এসএসজেড/টিএন/








