থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) পদে শুধু পরিদর্শকদের সুযোগ রাখার দাবি পূরণের করণীয় ঠিক করতে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) পুলিশ পরিদর্শক ও উপপরিদর্শকদের একটি অংশ বৈঠক করেছেন। পুলিশের মহাপরিদর্শকের কাছে বিভিন্ন দাবি দাওয়া উপস্থাপনের প্রক্রিয়া নিয়েও এ বৈঠকে আলোচনা হয়।
শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর নয়াপল্টনে বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের কার্যালয়ে এ বৈঠক হয়। বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, ‘৫০/৬০ জন পরিদর্শক ও উপপরিদর্শক বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। তাদের বিভিন্ন দাবি দাওয়া ও কল্যাণের বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।বৈঠকে কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি।একটি কমিটি গঠন করে আমাদের দাবিগুলো আইজিপির কাছে দেওয়া হবে।’
পুলিশ পরিদর্শক সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের অ্যাসোসিয়েশনের ব্যানারেই বৈঠকটি হয়েছে।এটি নতুন কোনও সংগঠন না। আমরা একটি শৃঙ্খল বাহিনীতে চাকরি করি। সব কিছু নিয়ম অনুযায়ী করা হয়। বৈঠকে কোনও বিষয় চূড়ান্তভাবে সিদ্ধান্ত হয়নি।’
বৈঠকের বিষয়টি জানলেও তাতে অংশ নেননি বলে জানিয়েছেন কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওয়াজেদ আলী ও কাফরুল থানার ওসি শিকদার মোহাম্মদ শামীম।
ওয়াজেদ আলী বলেন, ‘আমার এলাকায় একটি মার্ডারের ঘটনা ঘটায়, বৈঠকে যেতে পারিনি।’
ওসি শিকদার মোহাম্মদ শামীম বলেন, ‘আমি বৈঠকে যাইনি। সময় পাইনি।’ তবে বৈঠকে থাকা একজন পরিদর্শক জানিয়েছেন, তিনি বৈঠকে ছিলেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন পরিদর্শক বলেন, থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) পদে সহকারী পুলিশ সুপারিনটেনডেন্ট (এএসপি)দের পদায়ন করার চিঠি চালাচালি চলছে দীর্ঘদিন ধরে । এতে আমরা মর্মাহত। উপপরিদর্শক পদে চাকরিতে যোগ দেওয়ার পর থেকে সবারই স্বপ্ন, একদিন থানার ওসি হবেন। তাছাড়া, আমাদের তো আর কিছু হওয়ার সুযোগও নেই। আমরা চাই ওসি পদটি যেন শুধু পরিদর্শকরাই পায়।
২০১০ সালের ৫ আগস্টে আইজিপি নূর মোহাম্মদের সময় পুলিশ বাহিনীর নীতিনির্ধারণী গ্রুপের (পলিসি গ্রুপ) এক বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় এএসপিরা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। প্রথম পর্যায়ে ঢাকা মহানগরের সব থানায় ও পরবর্তী সময়ে অন্য মহানগরে এ ব্যবস্থা কার্যকর করা হবে। এরপর জেলাগুলোতেও ওসি পদে এএসপিদের নিয়োগ করা হবে। গত ছয় বছরেও এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হয়নি। এবছরের শুরুর দিকে বিষয়টি আবার আলোচনায় উঠে আসে। এ নিয়ে নন-ক্যাডার পুলিশ সদস্যদের মধ্যে শঙ্কা রয়েছে। তাদের দাবি ওসি পদে কেবল পরিদর্শকরাই দায়িত্ব পালন করবেন।
বৈঠকে আলোচনার বিষয়ে অপর এক পরিদর্শক বলেন, গত ১৫ ডিসেম্বর নতুন জাতীয় বেতন কাঠামোর গেজেট প্রকাশ হয়। নার্সসহ অনেকেই আন্দোলন করে অষ্টম গ্রেডে বেতন পাচ্ছে। আমরা পাচ্ছি না। আমাদের নবম গ্রেডে রাখা হয়েছে। এসব বিষয়ে আমাদের দাবিদাওয়া রয়েছে।
বৈঠকে উপস্থিত পরিদর্শকরা এ ধরনের বৈঠককে নেতিবাচক মনে করেন না। তাদের ভাষ্য, বৈঠকে নিজেদের সমস্যাগুলো নিয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে।
ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের একটি থানার ওসি জানান, কনস্টেবল, এএসআই, এসআই ও পরিদর্শকরা সকল ঝুঁকি নিয়ে কাজ করেন। আমরা কখনও ব্যর্থ হয়েছি বলে মনে করি না। তাহলে আমাদের কেন ওসি পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হবে? নিজের প্রশ্নের জবাবও নিজেই দিলেন এই ওসি, আমার মনে হয় এমন কেউ করবে না।
এএসপিদের ওসি পদে পদায়ন করা হচ্ছে কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (মানবসম্পদ বিভাগ) মইনুর রহমান চৌধুরী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই।’ ওসিদের বৈঠকের প্রশ্নেও তার একই জবাব, ‘জানা নেই।’
/এআরআর/ এপিএইচ/
আরও পড়ুন:
পপুলারের টয়লেটে তরুণীর ভিডিও ধারণের কথা স্বীকার করেছে সুমন








